জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পর এবার স্থানীয় সরকার নির্বাচনেও দায়িত্ব পালনকারী কর্মকর্তাদের সম্মানি ভাতা বৃদ্ধি করেছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। নির্বাচনে দায়িত্বপ্রাপ্তদের দীর্ঘদিনের দাবির পরিপ্রেক্ষিতে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
নির্বাচন কমিশনের সূত্রে জানা যায়, দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতি, দীর্ঘ সময় ভোটকেন্দ্রে দায়িত্ব পালন এবং নির্বাচনি ডিউটিতে ঝুঁকি বিবেচনা করে প্রিসাইডিং অফিসার, সহকারী প্রিসাইডিং অফিসার এবং পোলিং অফিসারদের এককালীন সম্মানি উল্লেখযোগ্য হারে বৃদ্ধি করা হয়েছে।
নতুন কাঠামোর আওতায় নির্বাচনের মাঠে প্রিসাইডিং অফিসার থেকে শুরু করে চতুর্থ শ্রেণির সহায়ক কর্মচারী পর্যন্ত সকলর ভাতার পরিমাণ আগের তুলনায় অনেক বেড়েছে। এর পাশাপাশি নির্বাচনে দায়িত্বপ্রাপ্তদের খাদ্য ভাতা এবং প্রশিক্ষণ ভাতাও বৃদ্ধি করা হয়েছে।
ভাতা কত ছিল আর এখন কত পাবেন?
নির্বাচন কমিশনের সর্বশেষ সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তাদের সম্মানি ও অন্যান্য ভাতার পরিমাণে বড় পরিবর্তন আনা হয়েছে। নিচে আগের ভাতার তুলনায় বর্তমান ভাতার বিস্তারিত চিত্র তুলে ধরা হলো:
প্রিসাইডিং অফিসার: আগে এই পদের জন্য সম্মানি বরাদ্দ ছিল ৭,০০০ টাকা, যা বর্তমানে বাড়িয়ে করা হয়েছে ৯,০০০ টাকা।
সহকারী প্রিসাইডিং অফিসার: এই পদে আগে ভাতা ছিল ৫,০০০ টাকা, যা বর্তমানে বৃদ্ধি পেয়ে দাঁড়িয়েছে ৭,০০০ টাকায়।
পোলিং অফিসার: দায়িত্ব পালনের জন্য তারা আগে পেতেন ৩,৫০০ টাকা, যা এখন বাড়িয়ে করা হয়েছে ৫,০০০ টাকা।
খাবার ও আপ্যায়ন: ডিউটির দিনগুলোতে আগে খাবারের জন্য দৈনিক বরাদ্দ ছিল মাত্র ১৫০ টাকা। বর্তমান বাজারদর বিবেচনায় তা এক লাফে বাড়িয়ে করা হয়েছে ৫০০ টাকা।
প্রশিক্ষণ ভাতা: নির্বাচনের আগে দুই দিনের প্রশিক্ষণের জন্য আগে দৈনিক ৩০০ টাকা দেওয়া হলেও বর্তমানে পদমর্যাদাভেদে তা বাড়িয়ে দৈনিক ৪০০ থেকে ৫০০ টাকা করা হয়েছে।
চতুর্থ শ্রেণির কর্মচারী: ভোটকেন্দ্রে দায়িত্বরত সাপোর্ট স্টাফ বা চতুর্থ শ্রেণির কর্মচারীরা আগে দৈনিক ২৫০ টাকা পেতেন, বর্তমানে তাদের জন্য বরাদ্দ বাড়িয়ে করা হয়েছে ৩৫০ টাকা।
দেশে স্থানীয় সরকার ব্যবস্থার অধীনে প্রধানত পাঁচটি স্তরে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়।
১. ইউনিয়ন পরিষদ (UP) নির্বাচন: গ্রামীণ স্থানীয় সরকারের ক্ষুদ্রতম ও সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ স্তর।
২. উপজেলা পরিষদ নির্বাচন: উপজেলা পর্যায়ের জনপ্রতিনিধি নির্বাচনের জন্য এই ভোট হয়।
৩. পৌরসভা নির্বাচন: ছোট ও মাঝারি শহরগুলোর (Urban areas) জন্য এই নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়।
৪. সিটি কর্পোরেশন নির্বাচন: দেশের বড় বিভাগীয় ও বাণিজ্যিক শহরগুলোর (যেমন ঢাকা, চট্টগ্রাম, রাজশাহী ইত্যাদি) মেয়র ও কাউন্সিলর নির্বাচনের ভোট।
৫. জেলা পরিষদ নির্বাচন: এটি মূলত পরোক্ষ নির্বাচন, যেখানে স্থানীয় সরকারের অন্যান্য নির্বাচিত প্রতিনিধিরা ভোট দেন।
সাধারণত এই প্রতিটি নির্বাচনেই দায়িত্ব পালনকারী কর্মকর্তাদের (প্রিসাইডিং, সহকারী প্রিসাইডিং ও পোলিং অফিসার) জন্য বর্তমানে বর্ধিত হারে ভাতার নিয়মটি কার্যকর হবে।




সর্বশেষ খবর পেতে রুপালী বাংলাদেশের গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন