বস্ত্র ও পাটমন্ত্রী খন্দকার আবদুল মুক্তাদির বলেছেন, পাটবীজে স্বয়ংসম্পূর্ণতা অর্জন বর্তমান সরকারের অন্যতম প্রধান লক্ষ্য। তিনি বলেন, পাট বাংলাদেশের ঐতিহ্যের ধারক এবং আন্তর্জাতিক অঙ্গনে দেশের গুরুত্বপূর্ণ প্রতীক। সম্ভাবনাময় এই খাতকে কাজে লাগাতে পারলে বাংলাদেশ থেকেই নতুন পাট বিপ্লবের সূচনা হতে পারে।
শুক্রবার (৬ মার্চ) সকালে রাজধানীর ওসমানী স্মৃতি মিলনায়তনে জাতীয় পাট দিবস ২০২৬ উপলক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানে বক্তব্য দিতে গিয়ে তিনি এসব কথা বলেন।
পাটমন্ত্রী বলেন, মধ্যস্বত্বভোগীদের দৌরাত্ম্য ঠেকাতে কার্যকর সাপ্লাই চেইন করা হবে। বৈশ্বিক জলবায়ু পরিবর্তন, পরিবেশদূষণ এবং পলিথিনের ব্যবহারে পাটজাত পণ্যের গুরুত্ব বেড়েছে। এই সুবর্ণ সুযোগ কাজে লাগাতে হবে। আধুনিক বিজ্ঞান এবং বৈচিত্র্য আনতে হবে। ব্যবহার উপযোগিতাকে গুরুত্ব দিতে হবে।
তিনি বলেন, খাতভিত্তিক কর্মসংস্থান তৈরি বর্তমান গণতান্ত্রিক সরকারের প্রধান অগ্রাধিকার। এক কোটি কর্মসংস্থানের লক্ষ্যমাত্রা পূরণ করা হবে। ১০ দিনের মাথায় কৃষিঋণ মওকুফের যুগান্তকারী সিদ্ধান্ত নিয়েছে।
পাটমন্ত্রী বলেন, পাট কৃষি অর্থনীতিতে গুরুত্ব রাখবে। কৃষি এবং কৃষকবান্ধব সরকার পহেলা বৈশাখ থেকে কৃষক কার্ড বিতরণ শুরু করবে। যাতে সব ধরনের সহযোগিতা পাবেন কৃষকরা। এসব উদ্যোগে পাট খাতে সুদিন ফিরে আসবে।
পাটকলের উৎপাদন সক্ষমতা বাড়ানোর ওপর গুরুত্ব দিয়ে তিনি বলেন, প্রতিযোগিতামূলক বিশ্ববাজারে টিকে থাকতে উন্নত প্রযুক্তির ব্যবহার বাড়াতে হবে এবং কাঁচা পাট ও পাটজাত পণ্যের চাহিদা পূরণে সমন্বিত উদ্যোগ নিতে হবে।
মন্ত্রী বলেন, ‘মেড ইন বাংলাদেশ’ ব্র্যান্ডের পাটপণ্য বিশ্ববাজারে ছড়িয়ে দিতে উদ্যোক্তাদের এগিয়ে আসতে হবে। পরিবেশ রক্ষায় পলিথিনের পরিবর্তে পাটের ব্যাগ ব্যবহারেরও আহ্বান জানান তিনি।
তিনি আরও বলেন, পরিবেশবান্ধব ও স্বনির্ভর বাংলাদেশ গঠনে পাটশিল্প গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। জনগণের ভোটে নির্বাচিত সরকার দেশের উন্নয়ন ও মানুষের কল্যাণে কাজ করে যাচ্ছে বলেও উল্লেখ করেন তিনি।


