× UCB Sticker Card
বৃহস্পতিবার, ০৪ জুন, ২০২৬

ফেসবুক


ইউটিউব


টিকটক

Rupali Bangladesh

ইনস্টাগ্রাম

Rupali Bangladesh

এক্স

Rupali Bangladesh


লিংকডইন

Rupali Bangladesh

পিন্টারেস্ট

Rupali Bangladesh

গুগল নিউজ

Rupali Bangladesh


হোয়াটস অ্যাপ

Rupali Bangladesh

টেলিগ্রাম

Rupali Bangladesh

মেসেঞ্জার গ্রুপ

Rupali Bangladesh


En Bn

রূপালী প্রতিবেদক

প্রকাশিত: মার্চ ৮, ২০২৬, ০৯:১৬ এএম

আজ আন্তর্জাতিক নারী দিবস

রূপালী প্রতিবেদক

প্রকাশিত: মার্চ ৮, ২০২৬, ০৯:১৬ এএম

প্রতীকী ছবি।

প্রতীকী ছবি।

আজ ৮ মার্চ, আন্তর্জাতিক নারী দিবস। ‘আজকের পদক্ষেপ, আগামীর ন্যায়বিচার সুরক্ষিত হোক নারী ও কন্যার অধিকার’ প্রতিপাদ্য সামনে রেখে বিশ্বের অন্যান্য দেশের মতো বাংলাদেশেও দিবসটি নানা কর্মসূচির মধ্য দিয়ে উদযাপিত হচ্ছে।

দিবসটি উপলক্ষে সরকারি ও বেসরকারি বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান, সংগঠন ও সংস্থা আলোচনা সভা, শোভাযাত্রা, সম্মাননা প্রদানসহ নানা কর্মসূচি গ্রহণ করেছে। কর্মসূচির অংশ হিসেবে মহিলা ও শিশুবিষয়ক মন্ত্রণালয়, বিভিন্ন বেসরকারি সংস্থা ও ব্যাংক ‘অদম্য নারী পুরস্কার’ প্রদান, আলোচনা সভা ও শোভাযাত্রার আয়োজন করছে। এর মধ্যে সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়াকে ‘গণতন্ত্রের অগ্রযাত্রায় শ্রেষ্ঠ অদম্য নারী’ সম্মাননা দেওয়ার উদ্যোগও রয়েছে।

মহিলা ও শিশুবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের উদ্যোগে অদম্য নারী পুরস্কারের আওতায় বিভিন্ন ক্ষেত্রে বিশেষ অবদান রাখা নারীদের স্বীকৃতি দেওয়া হবে। পাশাপাশি দেশজুড়ে নারী অধিকার, সমতা ও ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে শোভাযাত্রা ও আলোচনা সভার আয়োজন করা হয়েছে। অ্যাকশনএইড বাংলাদেশ ও প্রথম আলোর যৌথ উদ্যোগেও বিশেষ অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হচ্ছে। বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্দেশনায় দেশের সব তপশিলি ব্যাংকেও যথাযথ মর্যাদায় আন্তর্জাতিক নারী দিবস পালন করা হচ্ছে।

এ বছর বিশ্বব্যাপী ‘গিভ টু গেইন’ শীর্ষক প্রচারাভিযান চালানো হচ্ছে, যার লক্ষ্য নারী-পুরুষের সমতা প্রতিষ্ঠায় পারস্পরিক সহযোগিতার গুরুত্ব তুলে ধরা। বিভিন্ন কর্মসূচির মাধ্যমে নারী অধিকার প্রতিষ্ঠা এবং সমাজে তাদের অবদানের স্বীকৃতি দেওয়ার ওপর জোর দেওয়া হচ্ছে।

উল্লিখিত প্রতিপাদ্য সামনে রেখে জেলা-উপজেলায় স্থানীয় প্রশাসনের সঙ্গে সমন্বয় করে বিভিন্ন কর্মসূচি বাস্তবায়নের জন্য মহিলা অধিদপ্তর নির্দেশনা দিয়েছে। এ ছাড়া বিভিন্ন সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠান ও সংগঠন দিবসটি উপলক্ষে নিজ নিজ কর্মসূচি হাতে নিয়েছে।

আন্তর্জাতিক নারী দিবস উপলক্ষে রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান পৃথক বাণী দিয়েছেন। বাণীতে তারা বিশ্বের সব নারীকে শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন জানিয়েছেন।

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান তার বাণীতে বলেন, একটি রাষ্ট্রের উন্নয়ন তখনই টেকসই হয়, যখন নারীর অধিকার, শিক্ষা, স্বাস্থ্য, নিরাপত্তা ও অংশগ্রহণ নিশ্চিত হয়। এ প্রেক্ষাপটে আন্তর্জাতিক নারী দিবসের এবারের প্রতিপাদ্য অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ।

তিনি আরও বলেন, বিশ্বের জনসংখ্যার প্রায় অর্ধেকই নারী। তাদের রাষ্ট্র ও রাজনীতির মূলধারার বাইরে রেখে উন্নয়ন সম্ভব নয়। বিশেষ করে নারীর অর্থনৈতিক ক্ষমতায়ন নিশ্চিত না হলে টেকসই উন্নয়ন অর্জন করা কঠিন।

বাণীতে প্রধানমন্ত্রী উল্লেখ করেন, নারীর রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক ক্ষমতায়নে স্বাধীনতার ঘোষক শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান এবং সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়া গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন। ১৯৭৬ সালে রাষ্ট্রপতির সচিবালয়ে নারীবিষয়ক দপ্তর প্রতিষ্ঠা করা হয় এবং ১৯৭৮ সালে গঠিত হয় মহিলাবিষয়ক মন্ত্রণালয়। পরে ১৯৯৪ সালে তা মহিলা ও শিশুবিষয়ক মন্ত্রণালয়ে রূপান্তরিত হয়।

তিনি বলেন, নারীর আর্থসামাজিক ক্ষমতায়নে দ্বাদশ শ্রেণি পর্যন্ত মেয়েদের অবৈতনিক শিক্ষা চালু করা ছিল একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ। বর্তমান সরকারও নারীর অর্থনৈতিক ক্ষমতায়ন জোরদারে বিভিন্ন উদ্যোগ গ্রহণ করেছে।

আন্তর্জাতিক নারী দিবস উপলক্ষে জাতীয় প্রেস ক্লাব প্রতিবছরের মতো এবারও আলোচনা সভা, সম্মাননা প্রদান ও প্রদীপ প্রজ্বালন কর্মসূচির আয়োজন করেছে। আজ বেলা ১১টায় প্রেস ক্লাব মিলনায়তনে আয়োজিত অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকার কথা রয়েছে পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদের। অনুষ্ঠানে একজন কৃতী নারীকে সম্মাননা দেওয়া হবে। এ বছর এই সম্মাননা পাচ্ছেন সাংবাদিক মমতাজ বানু।

ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটিও দিবসটি উপলক্ষে কর্মসূচি নিয়েছে। রোববার সকাল ১০টায় র‌্যালির মধ্য দিয়ে দিবসটির সূচনা হবে। ডিআরইউর এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে, পবিত্র মাহে রমজানের কারণে বাকি অনুষ্ঠানগুলো ঈদুল ফিতরের পর আয়োজন করা হবে।

সারা বিশ্বে আন্তর্জাতিক নারী দিবস একটি গুরুত্বপূর্ণ দিবস হিসেবে পালিত হয়। ১৯৭৫ সাল থেকে জাতিসংঘ আনুষ্ঠানিকভাবে দিনটি পালন করে আসছে।

এই দিবসের পেছনে রয়েছে নারী শ্রমিকদের অধিকার আদায়ের দীর্ঘ সংগ্রামের ইতিহাস। ১৮৫৭ সালে মজুরি বৈষম্য, নির্দিষ্ট কর্মঘণ্টা এবং মানবিক কর্মপরিবেশের দাবিতে যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্কে সুতা কারখানার নারী শ্রমিকরা আন্দোলনে নামেন।

১৯০৯ সালের ২৮ ফেব্রুয়ারি নিউইয়র্কে সোশ্যাল ডেমোক্র্যাট নারী সংগঠনের উদ্যোগে নারী সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়। জার্মান সমাজতান্ত্রিক নেত্রী ক্লারা জেটকিন আন্তর্জাতিক নারী দিবস পালনের প্রস্তাব দেন। ১৯১০ সালে ডেনমার্কের কোপেনহেগেনে অনুষ্ঠিত আন্তর্জাতিক নারী সম্মেলনে ৮ মার্চকে আন্তর্জাতিক নারী দিবস হিসেবে পালনের সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়।

১৯১১ সাল থেকে বিভিন্ন দেশে দিবসটি পালিত হতে শুরু করে। পরে ১৯৭৫ সালে জাতিসংঘ দিনটিকে আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি দেয়। এর পর থেকে প্রতিবছরই বিশ্বের বিভিন্ন দেশে যথাযোগ্য মর্যাদায় আন্তর্জাতিক নারী দিবস পালিত হচ্ছে।

Link copied!