আমরা ফ্যামিলি কার্ডের মধ্য দিয়ে নারীদেরকে অর্থনৈতিকভাবে যদি স্বাবলম্বী করতে পারি, তাহলে তারা কুসংস্কারের অন্ধত্ব থেকে বের হতে পারবে বলে জানিয়েছেন আইনমন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান।
মঙ্গলবার (১০ মার্চ) দুপুরে রাজধানীর বিজয় সরণিতে অবস্থিত মিলিটারি মিউজিয়ামের সম্মেলন কক্ষে আন্তর্জাতিক নারী দিবস উপলক্ষে আয়োজিত 'ফাইটস, জাস্টিস, এ্যাকশন- ফর অল উইমেন এন্ড গার্লস' শীর্ষক সেমিনারে একথা বলেন তিনি।
আইনমন্ত্রী বলেন, সরকার জনগণকে নিয়ে ভাবে। সরকার মানুষকে নিয়ে, মানবাধিকার নিয়ে এবং নারীদের নিয়ে ভাবে। যে কারণে এই সরকারের ২১ দিন বয়সে প্রথম জাতীয় সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে আজকে জাতীয়ভাবে ফ্যামিলি কার্ড ইস্যু করার জন্য কর্মসূচি চালু করা হলো। নারীরা এই কার্ডের বহুমুখী সুবিধা পরিবারের জন্য নিয়ে আসতে পারবেন।
তিনি বলেন, প্রাথমিকভাবে পাইলট প্রজেক্ট হিসেবে ৩৭ হাজারের মত ফ্যামিলি কার্ড ইস্যু করা হয়েছে। যার মালিকানা পরিবারের গৃহকর্ত্রী বা নারীর হাতে থাকবে। আমরা ফ্যামিলি কার্ডের মধ্য দিয়ে শুরু করে নারীদেরকে অর্থনৈতিকভাবে যদি স্বাবলম্বী করতে পারি, তাহলে তারা কুসংস্কারের অন্ধত্ব থেকে বের হতে পারবে। এতে তারা অধিকার সচেতন হবে এবং সেটার মধ্য দিয়ে আমরা নারীদেরকে কুসংস্কার ও মৌলবাদের লক্ষ্যবস্তু হওয়া থেকে বের করে আনতে সক্ষম হবো এবং তাদের অধিকার প্রতিষ্ঠায় সর্বতভাবে ভূমিকা রাখতে পারব।
আইনমন্ত্রী বলেন, ফ্যামিলি কার্ডকে যদি আপনারা উৎসাহিত করতে পারেন, দেশের ৪ কোটি ১ হাজার দরিদ্র ও হতদরিদ্র পরিবার সহায়তা পাবে এবং এটিই ফ্যমিলি কার্ড পাবার জন্য তাদের গ্রহণযোগ্যতা, সেখানে কোন রাজনৈতিক বিবেচনা রাখার কোন সুযোগ নাই।
তিনি বলেন, আমরা বলেছি, রাজনৈতিক নেতারা এখানে কোন খবরদারী করবে না। সম্পূর্ণ নিরপেক্ষভাবে প্রশাসনিকভাবে আমরা পর্যায়ক্রমিকভাবে ৪ কোটি ১ হাজার পরিবারকে ফ্যামিলি কার্ডের আওতায় আনতে চাই। আর সেটা যদি করতে পারি সেটাই হবে আমাদের অর্জন। আমাদের সেই অর্জনের পথে আপনারা সহযোগিতা করবেন।
ফ্যমিলি কার্ড ইস্যুতে কোথাও কোনো দুর্নীতির অভিযোগ পেলে কঠোর হস্তে দমন করা হবে বলে হুঁশিয়ারি দেন তিনি।
মো. আসাদুজ্জামান বলেন, নারীরা সংসার ভালো রাখছে বলেই বাংলদেশে ভালো থাকছে। আমি মনে করি, আমাদের নারীদের জন্য একটি নারী কমিশন হওয়া প্রয়োজন, তাদের কুসংস্কার থেকে মুক্তি দেয়ার জন্য ও তাদের সব অধিকারের সঠিক বাস্তবায়ন নিশ্চিত করার জন্য, বাংলাদেশের নারীদের সামনে এগিয়ে যাওয়ার প্রথম সোপান হবে নারীদের কুসংস্কারের থেকে বের করে আনা, আর এরপর হলো জীবনের সব ক্ষেত্রে নারীর অধিকার নিশ্চিত করা।
যৌন নির্যাতন বিরোধী, নারীদের প্রতি বৈষম্য বিরোধী আচরণের বিপরীতে অধ্যাদেশ ও ভিক্টিম প্রটেকশন নিয়ে আইন মন্ত্রণালয় ভাবছে জানিয়ে তিনি বলেন, আপনারা আমাদের সামনে বিষয়গুলো তুলে ধরুন, আমাদের সীমাবদ্ধতা থাকলেও সর্বতভাবে যতটা করা সম্ভব আমরা সেইটা করার ব্যাপারে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ থাকব, কারণ এটা এ সরকারের ম্যান্ডেট। আমরা জনগণের কাছে কথা দিয়েছি, জনকল্যাণমুখী একটি রাষ্ট্র এবং সরকার হিসেবে আমরা এগিয়ে যাব।
সেমিনারে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন- মানুষের জন্য ফাউন্ডেশনের প্রোগ্রাম কো-অর্ডিনেটর রুমা সুলতানা।
সেমিনারে মানুষের জন্য ফাউন্ডেশনের নির্বাহী পরিচালক শাহীন আনাম, ব্লাস্ট’র নির্বাহী পরিচালক ব্যারিস্টার সারা হোসেন, ইউএন উইমেন কান্ট্রি ডিরেক্টর গীতাঞ্জলি সিংসহ আরও অনেকে উপস্থিত ছিলেন।
মানুষের জন্য ফাউন্ডেশনের আয়োজনে ও ইউরোপীয় ইউনিয়নের আর্থিক সহায়তায় এ সেমিনার আয়োজনে সার্বিক সহযোগিতা করেছে সুইজারল্যান্ড, কানাডা ও সুইডেন দূতাবাস ও ইউএন উইমেন।


