ঢাকা বৃহস্পতিবার, ০৪ জুন, ২০২৬

ঈদ যাত্রায় ৩৭৭ দুর্ঘটনায় প্রাণ গেল ৩৯৪ জনের

রূপালী প্রতিবেদক
প্রকাশিত: মার্চ ৩০, ২০২৬, ০১:৩৪ পিএম
ছবি : সংগৃহীত

পবিত্র ঈদুল ফিতর উপলক্ষে দেশজুড়ে সড়ক, রেল ও নৌপথে দুর্ঘটনার সংখ্যা উদ্বেগজনকভাবে বেড়েছে। ঈদযাত্রা ও ফিরতি যাত্রার ১৫ দিনে মোট ৩৭৭টি দুর্ঘটনায় প্রাণ হারিয়েছেন ৩৯৪ জন এবং আহত হয়েছেন ১,২৮৮ জন।

সোমবার (৩০ মার্চ) সকালে ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটির সাগর-রুনি হলে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে ‘ঈদযাত্রায় সড়ক দুর্ঘটনা প্রতিবেদন-২০২৬’ প্রকাশ করে বাংলাদেশ যাত্রী কল্যাণ সমিতি। সংগঠনের মহাসচিব মো. মোজাম্মেল হক চৌধুরী এ তথ্য তুলে ধরেন।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, শুধু সড়কপথেই ৩৪৬টি দুর্ঘটনায় ৩৫১ জন নিহত এবং অন্তত ১,০৪৬ জন আহত হয়েছেন। গত বছরের তুলনায় দুর্ঘটনা বেড়েছে ৮.৯৫ শতাংশ এবং প্রাণহানি বেড়েছে ৮.২৬ শতাংশ।

রেলপথে ২৩টি দুর্ঘটনায় ৩৫ জন নিহত ও ২২৩ জন আহত হয়েছেন। নৌপথে ৮টি দুর্ঘটনায় ৮ জন নিহত, ১৯ জন আহত এবং ৩ জন নিখোঁজ রয়েছেন। ১৪ মার্চ থেকে ২৮ মার্চ পর্যন্ত এই তথ্য সংগ্রহ করা হয়েছে।

এবারও সবচেয়ে বেশি দুর্ঘটনা ঘটেছে মোটরসাইকেলকে ঘিরে। ১২৫টি মোটরসাইকেল দুর্ঘটনায় ১৩৫ জন নিহত হয়েছেন, যা মোট সড়ক দুর্ঘটনার ৩৬.১২ শতাংশ এবং মোট মৃত্যুর ৩৮.৪৬ শতাংশ। এ ছাড়া দুর্ঘটনায় জড়িত যানবাহনের মধ্যে মোটরসাইকেল ২৭.১৬ শতাংশ, ট্রাক ও কাভার্ডভ্যান ১৭.৭৩ শতাংশ এবং যাত্রীবাহী বাস ১৬.২২ শতাংশ।

সংবাদ সম্মেলনে অভিযোগ করা হয়, সরকার পরিবর্তন হলেও পরিবহন খাতে পুরোনো প্রভাবশালী গোষ্ঠীর নিয়ন্ত্রণ রয়ে গেছে। যাত্রী প্রতিনিধি ছাড়া নেওয়া সিদ্ধান্ত এবং অতিরিক্ত ভাড়া আদায়ের মতো অনিয়ম দুর্ঘটনা বৃদ্ধির অন্যতম কারণ হিসেবে উল্লেখ করা হয়।

দুর্ঘটনার প্রধান কারণ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে—অনিয়ন্ত্রিত মোটরসাইকেল ও ব্যাটারিচালিত রিকশা চলাচল, ফিটনেসবিহীন যানবাহন, অদক্ষ চালক, উল্টোপথে গাড়ি চালানো, সড়কে চাঁদাবাজি এবং অতিরিক্ত ভাড়ার কারণে ঝুঁকিপূর্ণ ভ্রমণ।

দুর্ঘটনা কমাতে সংগঠনটি কয়েকটি সুপারিশ দিয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে সড়কে প্রযুক্তির ব্যবহার বৃদ্ধি, স্মার্ট ভাড়া ব্যবস্থা চালু, মোটরসাইকেল ও ব্যাটারিচালিত রিকশার নিবন্ধন নিয়ন্ত্রণ, মহাসড়কে পর্যাপ্ত আলোর ব্যবস্থা এবং চালকদের প্রশিক্ষণ ও কর্মঘণ্টা নিশ্চিত করা।

এ ছাড়া জানানো হয়, একই সময়ে ঢাকার পঙ্গু হাসপাতালে সড়ক দুর্ঘটনায় আহত হয়ে ২,১৭৮ জন চিকিৎসা নিয়েছেন, যা পরিস্থিতির গুরুতর চিত্র তুলে ধরে।