ঢাকা বৃহস্পতিবার, ০৪ জুন, ২০২৬

প্রশ্নোত্তর পর্বে সীমাবদ্ধতা: সংসদে এমপি হাসনাত আব্দুল্লাহর ক্ষোভ

রূপালী প্রতিবেদক
প্রকাশিত: এপ্রিল ১৯, ২০২৬, ০৯:৪৬ পিএম
কুমিল্লা-৪ আসনের সংসদ সদস্য হাসনাত আব্দুল্লাহ। ছবি- সংগৃহীত

জাতীয় সংসদে প্রশ্নোত্তর পর্ব মৌখিকভাবে না নিয়ে কেবল টেবিলে উপস্থাপনের সিদ্ধান্ত নিয়ে অসন্তোষ প্রকাশ করেছেন কুমিল্লা-৪ আসনের সংসদ সদস্য হাসনাত আব্দুল্লাহ। তার অভিযোগ, এ ধরনের প্রক্রিয়ায় সংসদ সদস্যদের কার্যকর ভূমিকা খর্ব হচ্ছে এবং মন্ত্রীদের জবাবদিহিতাও দুর্বল হয়ে পড়ছে।

রোববার (১৯ এপ্রিল) বিকেলে অধিবেশনে পয়েন্ট অব অর্ডারে দাঁড়িয়ে তিনি বলেন, একটি কার্যকর সংসদের জন্য মন্ত্রীদের সরাসরি প্রশ্ন করা ও উত্তর দেওয়ার সুযোগ থাকা অপরিহার্য। কিন্তু সাম্প্রতিক দুই সপ্তাহ ধরে তারকা চিহ্নিত প্রশ্নগুলো শুধু টেবিলে উপস্থাপন করা হচ্ছে, ফলে সম্পূরক প্রশ্ন করার সুযোগ মিলছে না। এতে সংসদের কার্যক্রম একধরনের পূর্বনির্ধারিত একমুখী আলোচনায় পরিণত হওয়ার ঝুঁকি তৈরি হচ্ছে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

তিনি আরও জানান, সংসদ সদস্যদের কথা বলার সময় সীমিত মাত্র এক থেকে দেড় মিনিট। সেই স্বল্প সময়েই তারা গুরুত্বপূর্ণ জনস্বার্থ সংশ্লিষ্ট প্রশ্ন তোলেন। কিন্তু বর্তমান পদ্ধতিতে সেই সুযোগও কার্যত বন্ধ হয়ে যাচ্ছে।

বক্তব্যের একপর্যায়ে তিনি সাম্প্রতিক একটি গ্রেপ্তার প্রসঙ্গও তুলে ধরেন। হাসান ইনাম নামের এক ব্যক্তিকে কার্টুন শেয়ারের অভিযোগে আটক করা হয়েছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, অতীতেও এ ধরনের ঘটনায় গ্রেপ্তার হয়েছে, কিন্তু বর্তমান পরিস্থিতিতে এমন ঘটনার পুনরাবৃত্তি হতাশাজনক। একটি স্যাটায়ার বা মিম শেয়ারের জন্য সাইবার নিরাপত্তা আইনের ২৫ ধারায় মামলা করা হয়েছে যা মূলত ভিন্ন ধরনের অপরাধের জন্য প্রযোজ্য বলে তিনি প্রশ্ন তোলেন।

এর জবাবে স্পিকার বলেন, কার্যপ্রণালি অনুযায়ী অধিকারের প্রশ্ন উত্থাপনের জন্য আগাম নোটিশ প্রয়োজন হলেও বিষয়টির গুরুত্ব বিবেচনায় তিনি তা দেখবেন।

পরবর্তীতে চিফ হুইপ নিজের অবস্থান ব্যাখ্যা করে বলেন, সরকার বা তার ব্যক্তিগত সমালোচনায় কার্টুন আঁকার কারণে কাউকে গ্রেপ্তার করা হলে তা গ্রহণযোগ্য নয় এবং সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির মুক্তির পক্ষে তিনি মত দেন। প্রশ্নোত্তর পর্ব নিয়ে তিনি স্বীকার করেন, বিরোধী সদস্যদের অভিযোগ আংশিক সঠিক। তবে রাষ্ট্রপতির ভাষণের ওপর দীর্ঘ আলোচনার কারণে সময় সংকট তৈরি হয়েছে বলেই প্রশ্নগুলো টেবিলে উপস্থাপন করা হচ্ছে। প্রয়োজনে সংসদের সময় বাড়ানো হলে সরাসরি প্রশ্নোত্তর চালু রাখার পক্ষেও তিনি মত দেন।

গ্রেপ্তার হওয়া ব্যক্তির বিষয়ে তিনি জানান, কেবল কার্টুন নয়, অন্য কোনো সাইবার অপরাধ বা আর্থিক অনিয়মের সঙ্গে সংশ্লিষ্টতা আছে কি না, তা যাচাই করা উচিত। যদি শুধুই রাজনৈতিক ব্যঙ্গচিত্র হয়ে থাকে, তবে তার কোনো আপত্তি নেই; তবে অন্য কোনো অপরাধ প্রমাণিত হলে আইনগত ব্যবস্থা চলবে বলেও জানান তিনি।