ঢাকা বৃহস্পতিবার, ০৪ জুন, ২০২৬

পে-স্কেল বাস্তবায়ন না হওয়ার কারণ জানালেন সাবেক প্রেস সচিব

রূপালী প্রতিবেদক
প্রকাশিত: এপ্রিল ২১, ২০২৬, ০৫:৩৮ পিএম
সাবেক প্রেস সচিব শফিকুল আলম। ছবি : সংগৃহীত

বিদায়ী অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূসের সাবেক প্রেস সচিব শফিকুল আলম বলেছেন, সরকারি চাকরিজীবীদের নতুন বেতন স্কেল চালু করতে না পারাটা তার জন্য বড় দুঃখের বিষয়।

গতকাল সোমবার (২০ এপ্রিল) তিনি নিজের ফেসবুক পেজে এক পোস্টে এ কথা লিখেছেন।

পোস্টে শফিকুল আলম লেখেন, ‘অন্তর্বর্তী সরকারের আমলে আমার একটি বড় অনুতাপ ছিল—আমাদের সরকারি কর্মচারী, সামরিক সদস্য, পুলিশ এবং শিক্ষকদের জন্য নতুন বেতন স্কেলের বাস্তবায়ন দেখে যেতে পারিনি।

তিনি আরও লেখেন, শ্রদ্ধেয় সাবেক অর্থ সচিব জাকির আহমেদ খানের নেতৃত্বে পে-কমিশনের প্রতিবেদন জমা দেওয়ার সময় শেষ হয়ে যাওয়ায় অন্তর্বর্তী সরকারের পক্ষে তা বাস্তবায়ন করা সম্ভব হয়নি। এটি পরিকল্পনার অভাবের কারণে নয়; অর্থ মন্ত্রণালয় এমনকি ৩০ হাজার কোটি টাকাও সংরক্ষণ করেছিল, আশা করা হয়েছিল এতে সরকারি বেতনভুক্তদের আর্থিক চাপ আংশিকভাবে কমবে।

তিনি বলেন, ‘সরকারি কর্মচারীদের বেতন বৃদ্ধি নিয়ে জনমনে যে আবেগ রয়েছে, তা আমি ভালোভাবেই জানি। সাধারণ যুক্তি হলো, ‘তারা এমনিতেই দুর্নীতিগ্রস্ত, তাহলে কেন তাদের বাড়তি সুবিধা দেওয়া হবে?’

তবে তিনি উল্লেখ করেন, আমলাতন্ত্রে তার ১৮ মাসের অভিজ্ঞতা ভিন্ন চিত্র তুলে ধরে। তার ভাষায়, ‘সরকারি চাকরিজীবীদের অধিকাংশকেই আমি সৎ, নিষ্ঠাবান ও পরিশ্রমী হিসেবে দেখেছি। অধিকাংশের জন্য দৈনন্দিন জীবন কোনো বিলাসিতা নয়, বরং টিকে থাকার নিরন্তর সংগ্রাম।’

তিনি একজন সিনিয়র সচিবের উদাহরণ দিয়ে বলেন, মোট বেতন আনুমানিক ১,৮০,০০০ টাকা। বাড়ি ভাড়া ও অন্যান্য কর্তনের পর হাতে থাকে প্রায় ১,২৬,০০০ টাকা (প্রায় ১,০০০ মার্কিন ডলার)। তুলনামূলকভাবে এটি ভারতের একজন সচিবের বেতন ও সুযোগ-সুবিধার চেয়ে কম। যদিও সচিবরা একটি গাড়ি ও চালক পান, এসব সুবিধার আর্থিক মূল্য মাসে প্রায় ৫০ হাজার টাকার মতো।

তিনি আরও বলেন, ‘একজন সিনিয়র সচিব হিসেবে আমি নিজেই দেখেছি, একটি মৌলিক জীবনযাত্রার মান বজায় রাখতে গিয়ে আমাকে ব্যক্তিগত সঞ্চয় থেকে খরচ করতে হয়েছে। অনেকেই মনে করেন কর্মকর্তারা বিদেশ ভ্রমণ করে বিলাসী জীবন কাটান, কিন্তু বাস্তবতা হলো—প্রতিটি খরচ হিসাব করে চলতে হয়, এবং খুব অল্প সংখ্যক কর্মকর্তাই এমন সুযোগ পান।’

সম্প্রতি জ্বালানির দাম বৃদ্ধির ফলে সরকারি কর্মকর্তাদের ব্যবহারযোগ্য আয় আরও কমে যাবে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।

সর্বশেষে তিনি বলেন, ‘আমরা যদি একটি দক্ষ, অনুপ্রাণিত এবং সৎ প্রশাসন চাই, তাহলে তাদের জীবিকা নির্বাহের উপযুক্ত বেতন নিশ্চিত করতে হবে। আমি আন্তরিকভাবে আশা করি নতুন সরকার বিষয়টি গুরুত্বসহকারে বিবেচনা করবে এবং আসন্ন বাজেটে যথেষ্ট বেতন বৃদ্ধি অন্তর্ভুক্ত করবে। যারা জাতির সেবা করে, তাদের উপযুক্ত পারিশ্রমিক দেওয়া কোনো বিলাসিতা নয়, এটি সময়ের দাবি।’