ঢাকা বৃহস্পতিবার, ০৪ জুন, ২০২৬

লিবিয়া থেকে দেশে ফিরল আরও ১৭৪ বাংলাদেশি

রূপালী প্রতিবেদক
প্রকাশিত: এপ্রিল ২৩, ২০২৬, ০২:২১ এএম
ছবি- সংগৃহীত

বাংলাদেশ দূতাবাস, লিবিয়ার ধারাবাহিক প্রচেষ্টা এবং আন্তর্জাতিক অভিবাসন সংস্থা (আইওএম)-এর সহযোগিতায় বুধবার (২২ এপ্রিল) ত্রিপোলি থেকে ১৭৪ জন বাংলাদেশি নাগরিককে দেশে প্রত্যাবাসন করা হয়েছে।  তারা ত্রিপোলি ও আশপাশের বিভিন্ন শহর থেকে নানাবিধ ঝুঁকিপূর্ণ ও বিপদগ্রস্ত পরিস্থিতি থেকে স্বেচ্ছায় দেশে ফিরেছেন।  তাদের মধ্যে একজন গুরুতর অসুস্থসহ মোট ২৭ জন শারীরিকভাবে অসুস্থ ছিলেন।

আজ বৃহস্পতিবার (২৩ এপ্রিল) সকালে প্রত্যাবাসিত অভিবাসীরা লিবিয়ার বুরাক এয়ারের ইউজেড-২২২ ফ্লাইটে ঢাকায় পৌঁছানোর কথা রয়েছে।

রাষ্ট্রদূত মেজর জেনারেল মো. হাবীব উল্লাহ দূতাবাস প্রাঙ্গণে প্রত্যাবাসিতদের সঙ্গে সাক্ষাৎ করে তাদের বিদায় জানান।  এ সময় দূতাবাসের কাউন্সেলর (শ্রম) প্রকৌশলী মো. আমিনুর রহমান এবং প্রথম সচিব (শ্রম) মো. রাসেল মিয়া উপস্থিত ছিলেন।

প্রত্যাবাসনের আগে রাষ্ট্রদূত অভিবাসীদের প্রি-ডিপার্চার ব্রিফিং দেন।

তিনি বলেন, লিবিয়া থেকে স্বেচ্ছায় দেশে ফিরতে আগ্রহীদের নিরাপদ প্রত্যাবাসন নিশ্চিত করতে দূতাবাস সংশ্লিষ্ট সব কর্তৃপক্ষের সঙ্গে সমন্বয় করে কাজ করছে। তিনি আরও জানান, বিপদগ্রস্ত ও পাচারের শিকার বাংলাদেশিদের দেশে ফিরিয়ে আনতে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এবং প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয় অগ্রাধিকার ভিত্তিতে কাজ করছে।

রাষ্ট্রদূত বলেন, বহির্গমন ভিসা (খুরুজ নিহায়ী) সহজীকরণ এবং প্রয়োজনীয় প্রত্যাবাসন ফ্লাইটের ব্যবস্থা নিশ্চিত করতে দূতাবাস লিবিয়ার সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় ও আইওএমের সঙ্গে সার্বক্ষণিক যোগাযোগ রাখছে।

তিনি প্রত্যাবাসিতদের পুনর্বাসন ও পরিবারের সঙ্গে পুনর্মিলনের বিভিন্ন দিক সম্পর্কে অবহিত করেন এবং দেশে ফিরে নতুন উদ্যমে জীবন শুরু করতে উৎসাহিত করেন। পাশাপাশি অর্জিত অভিজ্ঞতা কাজে লাগানো এবং সরকারি-বেসরকারি পুনর্বাসন ও কর্মসংস্থানের সুযোগ গ্রহণের আহ্বান জানান।

রাষ্ট্রদূত দালালচক্রের মাধ্যমে প্রতারিত অভিবাসীদের দেশে ফিরে সংশ্লিষ্ট চক্রের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার আহ্বান জানান, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের প্রতারণা রোধ করা যায়।

একই সঙ্গে তিনি অনিয়মিত অভিবাসনের ঝুঁকি, দুর্ভোগ ও প্রতিকূল অভিজ্ঞতা নিজ নিজ এলাকায় তুলে ধরে জনসচেতনতা বাড়ানোর আহ্বান জানান।

২০২৬ সালে আইওএমের সহায়তায় চারটি প্রত্যাবাসন ফ্লাইটে এখন পর্যন্ত মোট ৬৮৯ জন অভিবাসীকে নিরাপদে দেশে ফিরিয়ে আনা হয়েছে।