সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের জন্য প্রস্তাবিত নতুন বেতনকাঠামো বাস্তবায়ন আরও বিলম্বিত হচ্ছে। সরকারের অভ্যন্তরে এ নিয়ে বিস্তারিত পর্যালোচনা চলতে থাকায় এখনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়নি; বরং বিষয়টি আরও গভীর যাচাই-বাছাইয়ের মধ্য দিয়ে এগোচ্ছে। এ লক্ষ্যে গঠিত সচিব কমিটি তাদের পর্যালোচনা কার্যক্রম অব্যাহত রেখেছে এবং পরবর্তী সিদ্ধান্ত সেই প্রক্রিয়ার ওপরই নির্ভর করছে।
অর্থ ও পরিকল্পনা উপদেষ্টা রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীর সাংবাদিকদের জানিয়েছেন, বেতন বাড়ানোর প্রস্তাব সরাসরি বাস্তবায়ন করা হবে না। সচিব কমিটি সব দিক বিবেচনা করে একটি প্রতিবেদন দেবে, এরপর সরকার চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেবে।
তিনি বলেন, বেতন নির্ধারণের একটি নির্দিষ্ট প্রক্রিয়া রয়েছে। পে-স্কেল কমিশন প্রস্তাব দেয়, এরপর সচিব কমিটি তা পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে। সবকিছু সন্তোষজনক হলে পরে সরকার চূড়ান্ত অনুমোদন দেয়।
সাবেক অর্থসচিব জাকির আহমেদ খানের নেতৃত্বে গঠিত জাতীয় বেতন কমিশন গত ২২ জানুয়ারি তাদের সুপারিশ জমা দেয়। এতে বলা হয়েছে, সরকারি কর্মচারীদের বেতন-ভাতা ১০০ থেকে ১৪০ শতাংশ পর্যন্ত বাড়ানো যেতে পারে।
প্রস্তাব অনুযায়ী, সর্বনিম্ন বেতন ৮ হাজার ২৫০ টাকা থেকে বাড়িয়ে ২০ হাজার টাকা করার সুপারিশ করা হয়েছে। অন্যদিকে সর্বোচ্চ বেতন ৭৮ হাজার টাকা থেকে বাড়িয়ে ১ লাখ ৬০ হাজার টাকা করার প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে।
এই নতুন বেতনকাঠামো বাস্তবায়নে সরকারের অতিরিক্ত প্রায় ১ লাখ ৬ হাজার কোটি টাকা ব্যয় হতে পারে।
কমিশনের প্রতিবেদন জমা দেওয়ার পর গত ৮ ফেব্রুয়ারি মন্ত্রিপরিষদ সচিবের নেতৃত্বে ৯ সদস্যের একটি কমিটি গঠন করা হয়। এই কমিটি শুধু সাধারণ সরকারি চাকরিজীবীদের নয়, বিচার বিভাগ ও সশস্ত্র বাহিনীর বেতন-সংক্রান্ত প্রস্তাবও যাচাই করছে।



সর্বশেষ খবর পেতে রুপালী বাংলাদেশের গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন