× UCB Sticker Card
বৃহস্পতিবার, ০৪ জুন, ২০২৬

ফেসবুক


ইউটিউব


টিকটক

Rupali Bangladesh

ইনস্টাগ্রাম

Rupali Bangladesh

এক্স

Rupali Bangladesh


লিংকডইন

Rupali Bangladesh

পিন্টারেস্ট

Rupali Bangladesh

গুগল নিউজ

Rupali Bangladesh


হোয়াটস অ্যাপ

Rupali Bangladesh

টেলিগ্রাম

Rupali Bangladesh

মেসেঞ্জার গ্রুপ

Rupali Bangladesh


En Bn

রূপালী প্রতিবেদক

প্রকাশিত: এপ্রিল ২৪, ২০২৬, ০৯:০১ পিএম

গণতন্ত্রের লড়াইয়ে জীবন দেয় খেটে খাওয়া মানুষ, শিক্ষিতরা থাকে ঘরে: স্পিকার

রূপালী প্রতিবেদক

প্রকাশিত: এপ্রিল ২৪, ২০২৬, ০৯:০১ পিএম

ছবি- সংগৃহীত

ছবি- সংগৃহীত

জাতীয় সংসদের স্পিকার মেজর (অব.) হাফিজ উদ্দিন আহমেদ বলেছেন, গণতন্ত্রের জন্য যখন লড়াই শুরু হয়, তখন শিক্ষিত লোকেরা ঘরে বসে টেলিভিশন দেখে, আর সাধারণ রিকশাচালকসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার শ্রমিকরা রাস্তায় নেমে জীবন দেয়। ফ্যাসিবাদী আওয়ামী লীগ সরকারের বিরুদ্ধে গণঅভ্যুত্থানে রাস্তায় জীবন দিয়েছেন খেটে খাওয়া সাধারণ মানুষ। আর তখন অনেক শিক্ষিত ব্যক্তি ঘরে বসে টেলিভিশনে খবর দেখায় ব্যস্ত ছিল। গতকাল বনানীর বাসায় সহধর্মিণী দিলারা হাফিজের স্মরণসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ মন্তব্য করেন। ঢাকাস্থ লালমোহন ফাউন্ডেশনের পক্ষ থেকে এ স্মরণসভা আয়োজন করা হয়।

মেজর হাফিজ বলেন, বাংলাদেশকে অনেক এগিয়ে যেতে হবে। কারণ বিগত আওয়ামী লীগের ১৫ বছরে বাংলাদেশ অনেক পিছিয়ে গেছে। সাধারণ মানুষকে অনেক কিছু সহ্য করতে হয়েছে। বিশেষ করে জুলাই-আগস্ট গণঅভ্যুত্থানে ফ্যাসিস্ট হাসিনা সরকার যেভাবে হেলিকপ্টার থেকে গুলি করে মানুষ হত্যা করেছে এবং যেভাবে শিক্ষার্থীদের গুলি করে হত্যা করেছে, তা ইতিহাসে নজির।

তিনি বলেন, জুলাই আন্দোলনে আমার নির্বাচনি এলাকার ১২ জন ওই আন্দোলনে প্রাণ দিয়েছেন, শহীদ হয়েছেন। এদের কেউ ছাত্র নয়। তাদের কেউ রিকশাচালক, কেউ শ্রমিক, কেউ তরকারি বিক্রেতা একেবারে সাধারণ খেটে খাওয়া মানুষ। এরা কেন এসে গণতন্ত্রের আন্দোলনে জীবন দেয়, এটি আশ্চর্যের বিষয়। অথচ শিক্ষিত ব্যক্তিরা, ডিগ্রিধারীরা ঘরে বসে টেলিভিশন দেখছিল।

স্পিকার মেজর হাফিজ বলেন, রিকশাচালক, তরকারি বিক্রেতা, ভ্যানচালকদের মতো খেটে খাওয়া মানুষ গণতন্ত্রের জন্য জীবন দেয়, ন্যায় প্রতিষ্ঠার জন্য পুলিশের অস্ত্রের সামনে বুক পেতে দেয়। এ এক অদ্ভুত বাংলাদেশ। বাংলাদেশের ভবিষ্যৎ এ মানসিকতার মধ্যেই নিহিত। তারা (খেটে খাওয়া মানুষ) কোনো স্বৈরশাসক চায় না, তারা শুধু গণতন্ত্র চায়, মানুষের অধিকার চায়। মানবাধিকার প্রতিষ্ঠার জন্য তারা জীবন দিতেও প্রস্তুত। এটিই আমাদের মতো দরিদ্র দেশের মানুষের মধ্যে এক শক্তিশালী মানসিকতা। এটাই বাংলাদেশ।

মেজর হাফিজ বলেন, আমি যখন আমার নির্বাচনি এলাকা থেকে এমপি নির্বাচিত হয়েছি, তখন থেকেই এলাকার সাধারণ মানুষের জন্য কাজ করেছি। নির্বাচিত হয়ে অনেক এমপি ব্যবসা করে, মিল-কারখানার মালিক হয়, বাড়ি নেয়, প্লট (জমি) নেয়। আমার নজর কখনো সেদিকে ছিল না। আমি নির্বাচিত হয়ে সবকিছু বাদ দিয়ে এলাকার মানুষের সেবা করার কাজই করে গেছি।

মেজর হাফিজ বলেন, আওয়ামী লীগ সরকারের সময় তারা আমাকে অনেক লোভ-লালসা দেখিয়েছিল। আমি তাদের কোনো কিছু গ্রহণ করিনি। কারণ আমি শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের অধীনে মুক্তিযুদ্ধ করেছি। তিনি তখন সেনাবাহিনীর মেজর ছিলেন। দেশ স্বাধীন হওয়ার পর সাবেক রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান যখন সেনাবাহিনীর জেনারেল হন, তখন আমি তার ডেপুটি প্রেস সেক্রেটারি এবং পিএস ছিলাম। সেই সুবাদে আমাকে মরহুম জিয়াউর রহমানের জীবিত অবস্থায় কাছাকাছি থাকতে হতো। আমি তখন বর্তমান প্রধানমন্ত্রীকে দেখতাম এবং তাকে চিনি।

মেজর হাফিজ বলেন, ৮১ বছরের জীবনে অনেক উত্থান-পতন দেখেছি। শেষ বয়সে আল্লাহই সম্মান দিয়েছেন। স্পিকার হয়ে আমি নিজেই আশ্চর্য হয়েছি। যখন সবাই সংসদ স্পিকার বলে ডাকে, আমি ভাবি কাকে বলছে। মাঝে মাঝে মনে হয়, অন্য কাউকে বলছে। কারণ আমি নিজেও এমপি হয়ে সংসদে ‘স্পিকার, স্পিকার’ বলতাম। এখন নিজেই স্পিকার হয়ে গেছি। এটি সম্মানের। এ সম্মান আমাকে দিয়েছেন দলের চেয়ারম্যান, বর্তমান প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।

এর আগে লালমোহন ফাউন্ডেশনের সভাপতি অ্যাডভোকেট আমিনুল ইসলামের সভাপতিত্বে এবং সাধারণ সম্পাদক রাইসুল ইসলাম রিয়াদের পরিচালনায় দিলারা হাফিজের কর্মময় জীবন নিয়ে আলোচনা করেন আমন্ত্রিত অতিথিরা। স্মরণসভায় মেজর হাফিজের সহধর্মিণী, মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষাবোর্ডের সাবেক মহাপরিচালক দিলারা হাফিজের জন্য বিশেষ দোয়া করা হয়।

রূপালী বাংলাদেশ

Link copied!