বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি) এর উদ্যোগে সিলেটের জকিগঞ্জ উপজেলার সীমান্তবর্তী জনগণের মাঝে সচেতনতা বৃদ্ধি ও বিকল্প কর্মসংস্থান সৃষ্টির লক্ষ্যে 'আলোর পথে' শীর্ষক মতবিনিময় সভা এবং এলইডি বাল্ব উৎপাদনের ওপর কারিগরি প্রশিক্ষণ কর্মশালা অনুষ্ঠিত হয়েছে।
আজ রোববার (২৬ এপ্রিল) সকালে এ প্রশিক্ষণ কর্মশালা অনুষ্ঠিত হয়। এতে প্রধান অতিথি ছিলেন সিলেট সেক্টর কমান্ডার কর্নেল মোহাম্মদ সালাহ্উদ্দীন। এ সময় সিলেটের অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক, জৈন্তাপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা, সার্কেল এসপি, আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যবৃন্দ, জনপ্রতিনিধি, গণমাধ্যমকর্মীসহ প্রায় ৩০০-৩৫০ জন স্থানীয় জনগণ উপস্থিত ছিলেন।
অনুষ্ঠানের মূল প্রতিপাদ্য ছিল 'আলোর পথে' যার মাধ্যমে সীমান্তবর্তী জনগণকে অবৈধ কার্যক্রম থেকে বিরত থেকে সৎ ও উৎপাদনশীল জীবনে ফিরে আসার আহ্বান জানানো হয়। এর অংশ হিসেবে বিকল্প কর্মসংস্থান সৃষ্টির লক্ষ্যে এলইডি বাল্ব উৎপাদনের ওপর একটি কারিগরি প্রশিক্ষণ কর্মশালা আয়োজন করা হয়, যা স্থানীয় যুবকদের মধ্যে ব্যাপক আগ্রহ ও সাড়া সৃষ্টি করে। প্রায় ১৫-২০ জন যুবক সরাসরি প্রশিক্ষণে অংশগ্রহণ করে এবং আরও অনেকে আগ্রহভরে তা পর্যবেক্ষণ করে। প্রশিক্ষণ শেষে অংশগ্রহণকারীরা তাৎক্ষণিকভাবে এলইডি বাল্ব তৈরি করে প্রদর্শন করে, যা উপস্থিত সকলের মধ্যে ইতিবাচক প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি করে।
উক্ত প্রশিক্ষণের মাধ্যমে স্বল্প খরচে প্রযুক্তিনির্ভর আয়বর্ধক কর্মসংস্থানের একটি কার্যকর পথ উন্মোচিত হয়েছে। প্রশিক্ষণার্থীরা এ উদ্যোগকে আরও বৃহৎ পরিসরে সম্প্রসারণের আহ্বান জানায়। এ সময় অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক ও সীমান্ত ব্যাংকের ব্যবস্থাপক প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত যুবকদের প্রয়োজন অনুযায়ী আর্থিক ও কারিগরি সহায়তা প্রদানের আশ্বাস প্রদান করেন। পাশাপাশি অংশগ্রহণকারীদের মাঝে উৎপাদন সরঞ্জাম ও প্রয়োজনীয় খুচরা যন্ত্রাংশ বিনামূল্যে বিতরণ করা হয়।
মতবিনিময় সভায় সীমান্তবর্তী জনগণকে অবৈধ পারাপার, চোরাচালান, মাদক ও নারী-শিশু পাচার থেকে বিরত থাকার জন্য আহ্বান জানানো হয় এবং এসব বিষয়ে তথ্য আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীকে প্রদানের গুরুত্ব তুলে ধরা হয়। বিশেষভাবে সীমান্ত অতিক্রমের ঝুঁকি, মানবপাচার প্রতিরোধ এবং মাদক ও চোরাচালান দমনে জনসচেতনতা বৃদ্ধির উপর গুরুত্বারোপ করা হয়।
এছাড়াও অনুষ্ঠানে বিজিবির উদ্যোগে আয়োজিত মেডিকেল ক্যাম্পেইনের মাধ্যমে সীমান্তবর্তী এলাকার পাঁচ শতাধিক অসহায় ও সুবিধাবঞ্চিত মানুষকে বিনামূল্যে চিকিৎসাসেবা ও প্রয়োজনীয় ওষুধ প্রদান করা হয়।
বিজিবির এ ধরনের জনসচেতনতামূলক ও কর্মসংস্থানভিত্তিক কার্যক্রম সীমান্তবর্তী এলাকার সামাজিক স্থিতিশীলতা বৃদ্ধি এবং অপরাধ প্রতিরোধে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে সংশ্লিষ্টরা আশা প্রকাশ করেন।


সর্বশেষ খবর পেতে রুপালী বাংলাদেশের গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন