ঢাকা বৃহস্পতিবার, ০৪ জুন, ২০২৬

কোস্ট গার্ডের আধুনিকায়ন ও জনবল বৃদ্ধির ঘোষণা স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর

রূপালী প্রতিবেদক
প্রকাশিত: এপ্রিল ২৮, ২০২৬, ১২:৩৪ পিএম
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাউদ্দিন আহমেদ। ছবি : সংগৃহীত

বাংলাদেশ কোস্ট গার্ডকে একটি আধুনিক ও শক্তিশালী বাহিনী হিসেবে গড়ে তুলতে সরকার নানামুখী পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে। মঙ্গলবার রাজধানীর আগারগাঁওয়ে বাহিনীর ৩১তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানে সরকারের এই দৃঢ় অবস্থানের কথা জানানো হয়।

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী জানান, বর্তমান সরকার কোস্ট গার্ডের সার্বিক উন্নয়নে বদ্ধপরিকর। বাহিনীর সক্ষমতা বাড়াতে এবং আধুনিকায়নের লক্ষ্যে সরকার সুদূরপ্রসারী পরিকল্পনা হাতে নিয়েছে। তিনি উল্লেখ করেন: কোস্ট গার্ডের জন্য ১০ হাজার নতুন জনবল নিয়োগের পরিকল্পনা করা হয়েছে। প্রযুক্তিগত উন্নয়ন ও আধুনিক সরঞ্জাম সংযোজনের মাধ্যমে বাহিনীকে আরও শক্তিশালী করা হচ্ছে। জনবল বৃদ্ধি পেলে উপকূলীয় নিরাপত্তা ব্যবস্থা আরও নিটোল হবে।

অনুষ্ঠানে সালাহউদ্দিন আহমদ কোস্ট গার্ডের সূচনালগ্নের স্মৃতি চারণ করে বলেন, বিএনপি সরকারের আমলে বেগম খালেদা জিয়ার নেতৃত্বে এই বাহিনী গঠিত হয়েছিল। বর্তমানে এই বাহিনী জনগণের আস্থার প্রতীকে পরিণত হয়েছে। বিশেষ করে: অবৈধ অনুপ্রবেশ ও মাদক পাচার রোধে বাহিনীর জিরো টলারেন্স নীতি, দেশের মৎস্য সম্পদ রক্ষা এবং পরিবেশ সংরক্ষণে কার্যকর ভূমিকা ও জলদস্যু নির্মূল ও সুন্দরবনসহ উপকূলীয় এলাকায় স্থিতিশীলতা বজায় রাখা।

প্রাকৃতিক দুর্যোগকালীন সময়ে কোস্ট গার্ডের ভূমিকার প্রশংসা করে মন্ত্রী বলেন, উপকূলীয় মানুষের জানমাল রক্ষায় বাহিনীর ‘রেসকিউ অপারেশন’ বা উদ্ধার তৎপরতা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। দুর্যোগের ঝুঁকি মোকাবিলায় তারা সবসময় সম্মুখসারিতে অবস্থান করছে।

কোস্ট গার্ডের মহাপরিচালক রিয়ার এডমিরাল জিয়াউল হক বাহিনীর সাম্প্রতিক সাফল্যের খতিয়ান তুলে ধরেন। তিনি জানান: গত এক বছরে নদীপথে অভিযান চালিয়ে কয়েকশ কোটি টাকার মাদক ও চোরাচালান পণ্য জব্দ করা হয়েছে। তবে সাফল্যের পাশাপাশি তিনি জনবল সংকটের বিষয়টিও গুরুত্বের সাথে উল্লেখ করেন।

মহাপরিচালক আশাবাদ ব্যক্ত করেন যে, দ্রুত জনবল সংকট নিরসন করা সম্ভব হলে নদীপথের নিরাপত্তা এবং দেশের যেকোনো সংকট মোকাবিলায় কোস্ট গার্ড আরও বেশি কার্যকর ভূমিকা রাখতে সক্ষম হবে।

কোস্ট গার্ডের ৩১তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী মূলত বাহিনীর অর্জন উদযাপন এবং ভবিষ্যৎ আধুনিকায়নের রূপরেখা প্রণয়নের একটি মঞ্চ হিসেবে কাজ করেছে। ১০ হাজার নতুন নিয়োগের পরিকল্পনা এই বাহিনীর সক্ষমতা বৃদ্ধিতে এক নতুন দিগন্ত উন্মোচন করবে।