ঢাকা বৃহস্পতিবার, ০৪ জুন, ২০২৬

কেমন হবে বিনামূল্যের স্কুল ড্রেস-জুতা-ব্যাগ, পাবে যারা

রূপালী ডেস্ক
প্রকাশিত: এপ্রিল ২৯, ২০২৬, ০৪:৪০ পিএম
ছবি : রূপালী বাংলাদেশ

অবশেষে আরও একটি পরিকল্পনা বাস্তবায়নের পথে সরকার। চলতি বছরের জুলাই মাস থেকে দেশের সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের জন্য বিনামূল্যে স্কুল ড্রেস, জুতা ও পাটের ব্যাগ বিতরণের উদ্যোগটি শুরু হতে যাচ্ছে। দেশের ৮টি বিভাগের ২৫টি উপজেলা ও থানার সাড়ে তিন হাজারেরও বেশি বিদ্যালয়ের প্রথম শ্রেণির শিক্ষার্থীদের মধ্যে এসব উপকরণ বিতরণের মাধ্যমে কার্যক্রমটি শুরু হবে। প্রথম পর্যায়ে প্রায় এক লাখ শিক্ষার্থী এ সুবিধা পাবে।

বুধবার (২৯ এপ্রিল) সকালে সচিবালয়ে আন্তঃমন্ত্রণালয় সভা শেষে শিক্ষামন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন এ তথ্য জানান।

সভায় পোশাকের রং ও ডিজাইন, পাটের ব্যাগের নমুনা প্রদর্শন করা হয়। পাশাপাশি কোন বিভাগের কোন জেলার কোন উপজেলা বা থানার কতটি বিদ্যালয়ে এ পোশাক দেওয়া হবে, সে বিষয়েও বিস্তারিত তুলে ধরা হয়।

যেমন হবে স্কুল ড্রেস

ঘোষণা অনুযায়ী, দেশের সব বিদ্যালয়ের জন্য পোশাকের ডিজাইন ও রং এক হলেও ছেলে ও মেয়েদের পোশাকে কিছু পার্থক্য থাকবে।

মেয়েদের জন্য নির্ধারিত পোশাক হলো আকাশি বা হালকা নীল রঙের ফ্রক। এতে কলার, হাতার ব্যান্ড ও কোমরের বেল্টে গাঢ় নেভি ব্লু রং ব্যবহার করা হয়েছে। সামনে দুটি পকেটও রাখা হয়েছে। এ ছাড়া মেয়েদের জন্য নীল ও গাঢ় নেভি-ব্লু রঙের হাফপ্যান্ট থাকবে।

ছেলেদের জন্য নির্ধারিত পোশাক হলো আকাশি বা হালকা নীল রঙের হাফহাতা শার্ট, যাতে একটি পকেট থাকবে। কাঁধ, হাতার ব্যান্ড ও পকেটের ওপর গাঢ় নীল রঙের অংশ থাকবে। এর সঙ্গে হাফপ্যান্ট থাকবে।

ছেলে-মেয়ে উভয়ের জন্য সাদা জুতা ও সাদা মোজা নির্ধারণ করা হয়েছে। এছাড়া পাটের তৈরি দুটি ধরনের ব্যাগের নমুনা প্রদর্শন করা হয়েছে। একটি ব্যাগের উপরের অংশ নেভি-ব্লু এবং নিচে সাদা, সবুজ, লাল ও হলুদ রঙের নকশা রয়েছে। অন্যটিতে উপরের অংশ হালকা রঙের এবং নিচে লাল, খয়েরি ও সাদা রঙের ডিজাইন করা হয়েছে।

প্রথম ধাপে যারা পাবে

প্রথম ধাপে দেশের ৮টি বিভাগের ২৫টি উপজেলা বা থানার ৩ হাজার ৫২২টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রথম শ্রেণির শিক্ষার্থীদের এ পোশাক, জুতা ও ব্যাগ দেওয়া হবে। মোট ৯৯ হাজার ৮৮৩ জন শিক্ষার্থী এতে উপকৃত হবে। এর মধ্যে ৪৭ হাজার ২০২ জন ছাত্র এবং ৫২ হাজার ৬৮১ জন ছাত্রী।

ঢাকা বিভাগ

ঢাকা, মুন্সিগঞ্জ ও মানিকগঞ্জ জেলার ছয়টি থানা/উপজেলায় এই কর্মসূচি চালু হবে। এর মধ্যে ঢাকা মহানগরের মোহাম্মদপুর, গুলশান, মিরপুর ও ক্যান্টনমেন্ট এলাকার সব সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় অন্তর্ভুক্ত। এছাড়া মানিকগঞ্জ সদর ও মুন্সিগঞ্জ সদর উপজেলাও অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।

চট্টগ্রাম বিভাগ

কক্সবাজারের চকরিয়া, চাঁদপুরের কচুয়া, লক্ষ্মীপুর সদর এবং চট্টগ্রাম বন্দর থানার সব সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা এ সুবিধা পাবে।

রংপুর বিভাগ

ঠাকুরগাঁও সদর উপজেলার ৪০৭টি এবং পঞ্চগড়ের তেঁতুলিয়া উপজেলার ৭৪টি বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা এ উপকরণ পাবে।

রাজশাহী বিভাগ

বগুড়ার গাবতলী, কাহালু, শিবগঞ্জ এবং সিরাজগঞ্জ সদর উপজেলায় এ কর্মসূচি বাস্তবায়ন করা হবে।

খুলনা বিভাগ

খুলনার রূপসা, ঝিনাইদহের শৈলকূপা এবং চুয়াডাঙ্গার জীবননগর উপজেলায় এ কর্মসূচি চালু হবে।

বরিশাল বিভাগ

বরিশাল সদর ও পিরোজপুরের নাজিরপুর উপজেলায় এই কর্মসূচি অন্তর্ভুক্ত।

সিলেট বিভাগ

সিলেট সদর ও হবিগঞ্জের মাধবপুর উপজেলায় যথাক্রমে ১২৪ ও ১৪৯টি বিদ্যালয়ে এই উপকরণ বিতরণ করা হবে।

ময়মনসিংহ বিভাগ

নেত্রকোনা সদর উপজেলার ২০২টি এবং ময়মনসিংহ সদর উপজেলার ১৮৬টি বিদ্যালয়ে এই কর্মসূচি বাস্তবায়িত হবে।

এক শিক্ষার্থী এক সেট পোশাক

শিক্ষামন্ত্রী জানান, পাইলট প্রকল্প হিসেবে প্রত্যেক শিক্ষার্থীকে এক শ্রেণিতে এক সেট করে পোশাক দেওয়া হবে। ভবিষ্যতে সক্ষমতা বাড়লে আরও বেশি সরবরাহের বিষয়টি বিবেচনা করা হবে।

তিনি আরও বলেন, জুলাই মাস থেকে এই কার্যক্রম শুরু হবে। প্রথমে সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে বাস্তবায়ন করা হবে, পরে ইবতেদায়ি মাদরাসাগুলো অন্তর্ভুক্ত করা হবে। এরপর ধাপে ধাপে বেসরকারি বিদ্যালয় এবং পরবর্তীতে মাধ্যমিক স্তরেও এই কর্মসূচি সম্প্রসারণ করা হবে।