ঢাকার আদ-দ্বীন মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ছয় শিশুর মৃত্যুর ঘটনায় প্রত্যেক শিশুর পরিবারকে ৮০ লাখ টাকা করে ক্ষতিপূরণ দেওয়ার সিদ্ধান্ত হয়েছে।
রোববার (৭ জুন) প্রতিষ্ঠানটির সঙ্গে নিহত শিশুদের পরিবারের আলোচনায় যৌথভাবে এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন সুপ্রিম কোর্টের জ্যেষ্ঠ আইনজীবী শিশির মনির।
তিনি বলেন, আগে ঘোষণা করা সুযোগ-সুবিধাগুলো বহাল থাকবে। এর পাশাপাশি প্রত্যেক শিশুর পরিবারকে ৮০ লাখ টাকা করে দেওয়ার বিষয়ে যৌথ সিদ্ধান্ত হয়েছে।
শিশির মনির আরও বলেন, ভুক্তভোগী পরিবার ও আদ-দ্বীন হাসপাতাল—উভয় পক্ষই মনে করে, এ ঘটনার কারণে হাসপাতালটি ক্ষতিগ্রস্ত বা বন্ধ হয়ে যাওয়া উচিত নয়। তবে যাদের অবহেলার কারণে এ ঘটনা ঘটেছে, তাদের বিরুদ্ধে যথাযথ আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি রয়েছে। ভবিষ্যতে এ ধরনের ঘটনা যেন আর না ঘটে, সে জন্য কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার প্রয়োজন বলেও তারা মনে করেন।
নিজের ভূমিকা সম্পর্কে এক প্রশ্নের জবাবে শিশির মনির বলেন, ‘এখানে আমার ভূমিকা হলো সালিসি প্রক্রিয়ায় মধ্যস্থতাকারীর। সংশ্লিষ্ট সব পক্ষের সন্তুষ্টি নিশ্চিত করে বিষয়টির সমাধানের চেষ্টা করছি। আইনজীবীরা সাধারণত এক পক্ষের হয়ে অন্য পক্ষের বিরুদ্ধে অবস্থান নেন—এমন ধারণা প্রচলিত। তবে কিছু ক্ষেত্রে সৌহার্দ্যপূর্ণ সমাধানের উদ্যোগও নেওয়া হয়। আমার ভূমিকা সে ধরনেরই।’
গত ২৭ মে সকাল ছয়টা থেকে নয়টার মধ্যে রাজধানীর মগবাজারের আদ্-দ্বীন হাসপাতালে ছয় নবজাতকের মৃত্যু হয়। এ ঘটনায় স্বাস্থ্য ও পরিবারকল্যাণ মন্ত্রণালয় একটি তদন্ত কমিটি গঠন করে। কমিটি গত বৃহস্পতিবার প্রতিবেদন জমা দেয়। প্রতিবেদনে বলা হয়, হাসপাতালের ভবনটি চিকিৎসাসেবা পরিচালনার জন্য উপযুক্ত নয় এবং চিকিৎসক, নার্স ও কর্তৃপক্ষের অবহেলার কারণে ছয় নবজাতকের মৃত্যু হয়েছে।
এরপর হাসপাতালটির লাইসেন্স কেন বাতিল করা হবে না, তা জানতে চেয়ে ৪ জুন কারণ দর্শানোর নোটিশ দেয় স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। আগামীকাল বিকেল পাঁচটার মধ্যে এ নোটিশের জবাব দিতে বলা হয়েছে। তবে শিশির মনির দাবি করেন, নোটিশটি আইনসম্মত নয়। তিনি বলেন, যে আইনের আওতায় নোটিশ দেওয়া হয়েছে, হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ সেই আইনের অধীনেই বিষয়টি মোকাবিলা করবে।
শিশির মনির বলেন, ‘যে কারণে একটি হাসপাতালের লাইসেন্স বাতিল করা যায়, এ ক্ষেত্রে সে ধরনের কোনো কারণ বিদ্যমান নেই। তাই আমরা মনে করি, স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নোটিশটি আইনসম্মত নয়।’
পরিবারগুলো যে সুবিধা পাবে
আজীবন বিনা মূল্যে চিকিৎসা : ভুক্তভোগী পরিবারের বাবা-মা, ভাই-বোন ও সন্তানরা আদ্-দ্বীন হাসপাতাল এবং এর আওতাধীন প্রতিষ্ঠানগুলোতে ওষুধ ছাড়া সব ধরনের চিকিৎসাসেবা আজীবন বিনা মূল্যে পাবেন।
শিক্ষাসুবিধা : আদ-দ্বীন পরিচালিত শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোতে যোগ্যতা সাপেক্ষে বিনা বেতনে পড়ার সুযোগ থাকবে। মেডিকেল কলেজ বা অধিক ব্যয়বহুল শিক্ষার ক্ষেত্রে বিশেষ বৃত্তি বা টিউশন ফি মওকুফের ব্যবস্থাও থাকবে।
চাকরির সুযোগ : পরিবারের সদস্যদের যোগ্যতা অনুযায়ী আদ-দ্বীনের বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে চাকরির সুযোগ দেওয়া হবে।

