ঢাকা রবিবার, ০৭ জুন, ২০২৬

তাইওয়ানের জলসীমায় চীনের অভিযান, জবাব দিতে প্রস্তুত তাইপে

বিশ্ব ডেস্ক
প্রকাশিত: জুন ৭, ২০২৬, ০৪:৩৫ পিএম
ছবি : সংগৃহীত

তাইওয়ানের পূর্বাঞ্চলীয় জলসীমায় চীন একটি সামুদ্রিক অভিযান পরিচালনা করেছে বলে অভিযোগ করেছে তাইপে। এর জবাবে ‘যথাযথ পদক্ষেপ’ হিসেবে জাহাজ মোতায়েনের কথাও জানিয়েছে দেশটির উপকূলরক্ষী বাহিনী। তাদের দাবি, চীনের এ অভিযান আন্তর্জাতিক আইন লঙ্ঘন করেছে।

রোববার (৭ জুন) এক বিবৃতিতে সংস্থাটি এ তথ্য জানায়।

এর আগে গতকাল (৬ জুন) চীনের রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম জানায়, সংশ্লিষ্ট জলসীমায় সামুদ্রিক সীমানা নির্ধারণ নিয়ে জাপান ও ফিলিপাইনের মধ্যে শুরু হওয়া আলোচনার প্রতিক্রিয়ায় এই ‘আইন প্রয়োগকারী অভিযান’ পরিচালনা করা হয়েছে।

তাইওয়ানকে নিজেদের ভূখণ্ডের অংশ হিসেবে দাবি করা চীন ওই আলোচনাকে ‘অবৈধ’ আখ্যা দিয়ে সংশ্লিষ্ট জলসীমার ওপর একচেটিয়া নিয়ন্ত্রণের দাবি করেছে।

এক বিবৃতিতে তাইওয়ানের উপকূলরক্ষী বাহিনী জানায়, চীনা জাহাজগুলোকে পুরো সময়জুড়ে নজরদারিতে রাখা হয়েছে এবং পরিস্থিতির জবাবে প্রয়োজনীয় জাহাজ মোতায়েন করা হয়েছে।

তাইওয়ানের দাবি, তারা জিয়ামেন বন্দর থেকে চারটি চীনা সরকারি জাহাজের যাত্রা পর্যবেক্ষণ করেছে, যেগুলো দ্বীপটির দক্ষিণ-পশ্চিমে তাইওয়ানের সংরক্ষিত জলসীমার বাইরে অবস্থান করছিল।

চীনা জাহাজগুলোর গতিবিধি পর্যবেক্ষণে সহায়তার জন্য পাঁচটিরও বেশি জাহাজ মোতায়েন করেছে তাইওয়ানের উপকূলরক্ষী বাহিনী।

বিবৃতিতে বলা হয়, চীনা জাহাজগুলো ৭ জুন সংশ্লিষ্ট জলসীমায় পৌঁছানোর কথা ছিল। একই সঙ্গে তাইওয়ান জোর দিয়ে বলেছে, ‘তাইওয়ানের পূর্বাঞ্চলীয় জলসীমায় চীনের কোনো সার্বভৌম অধিকার নেই।’

গত মাসে টোকিও ও ম্যানিলা ঘোষণা দেয় যে তারা নিজেদের অর্থনৈতিক অঞ্চল (ইইজেড) এবং মহীসোপানের সামুদ্রিক সীমানা নির্ধারণে আনুষ্ঠানিক আলোচনা শুরু করবে। এ ঘোষণায় ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া জানায় বেইজিং।

চীনের রাষ্ট্রীয় বার্তা সংস্থা সিনহুয়া জানায়, গতকাল ৬ জুন দেশটির পরিবহন মন্ত্রণালয় ফুজিয়ান ও গুয়াংডং প্রদেশের সামুদ্রিক পুলিশকে ‘তাইওয়ান দ্বীপের পূর্বাঞ্চলীয় জলসীমায় একটি বিশেষ সামুদ্রিক ট্রাফিক আইন প্রয়োগ অভিযান’ পরিচালনার নির্দেশ দেয়।

তবে অভিযানের মেয়াদ, বর্তমান অবস্থা কিংবা সংশ্লিষ্ট এলাকায় সামুদ্রিক পুলিশ জাহাজ মোতায়েন করা হয়েছে কি না- এসব বিষয়ে বিস্তারিত কোনো তথ্য দেয়নি সিনহুয়া।

সংস্থাটি আরও জানায়, তাইওয়ানের নিকটবর্তী সামুদ্রিক এলাকায় সীমানা নির্ধারণ সংক্রান্ত আলোচনা শুরুর বিষয়ে জাপান ও ফিলিপাইনের একতরফা ঘোষণার বিরুদ্ধে এই অভিযান ছিল ‘একটি প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ’।

এদিকে, ৩ জুন তাইওয়ান জানায় যে জাপান-ফিলিপাইন আলোচনার ক্ষেত্রে তাদের সঙ্গেও পরামর্শ করা উচিত ছিল।

চীনের সামুদ্রিক দাবি নিয়ে অভিন্ন উদ্বেগের কারণে সাম্প্রতিক বছরগুলোতে জাপান ও ফিলিপাইনের মধ্যে সম্পর্ক আরও ঘনিষ্ঠ হয়েছে।

পূর্ব চীন সাগরে জাপান ও চীনের মধ্যে দীর্ঘদিনের ভূখণ্ডগত ও অর্থনৈতিক বিরোধ রয়েছে। এ অঞ্চলে দুই দেশের উপকূলরক্ষী জাহাজ প্রায়ই উত্তেজনাপূর্ণ মুখোমুখি অবস্থানে জড়িয়ে পড়ে।

অন্যদিকে, দক্ষিণ চীন সাগরে কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ প্রবালপ্রাচীর ও দ্বীপপুঞ্জ থেকে ফিলিপাইনকে দূরে রাখতে বেইজিং নিয়মিত নৌবাহিনী ও উপকূলরক্ষী জাহাজ মোতায়েন করছে বলে অভিযোগ রয়েছে। এর ফলে একাধিকবার সংঘাতের ঘটনাও ঘটেছে।

গতকাল  তাইওয়ানের উপকূলরক্ষী বাহিনী জানায়, দক্ষিণ চীন সাগরের উত্তরাংশে প্রাতাস দ্বীপের আশপাশের জলসীমায় একটি চীনা জরিপ জাহাজ তাদের একটি উপকূলরক্ষী জাহাজের সঙ্গে অবস্থান করছিল।

তাইওয়ানের উপকূলরক্ষী বাহিনীর ভাষ্য, ‘তাইওয়ানকে উসকানি দেওয়ার উদ্দেশ্যে চীনা উপকূলরক্ষী ও জরিপ জাহাজের সমন্বিত কার্যক্রমের এটিই প্রথম শনাক্ত হওয়া ঘটনা।’

প্রাতাস দ্বীপ বর্তমানে তাইওয়ানের নিয়ন্ত্রণে থাকলেও দ্বীপটি এবং এর আশপাশের কৌশলগত জলপথের মালিকানা দাবি করে চীন।