ঢাকা শনিবার, ০৬ জুন, ২০২৬

মন্ত্রীর পদত্যাগসহ বিক্ষোভে যে ৫ দাবি উত্থাপন ককরোচ জনতা পার্টির

বিশ্ব ডেস্ক
প্রকাশিত: জুন ৬, ২০২৬, ০৭:০৬ পিএম
ছবি : সংগৃহীত

ভারতের রাজধানী দিল্লিতে ব্যাপক বিক্ষোভ করেছে জেন-জি নেতৃত্বাধীন অনলাইন আন্দোলন ‘ককরোচ জনতা পার্টি’ (সিজেপি)। তাদের এই সমাবেশ শান্তিপূর্ণভাবে শেষ হয়েছে বলে জানিয়েছে দিল্লি প্রশাসন। বিক্ষোভে পরীক্ষা ও নিয়োগ সংক্রান্ত কথিত ত্রুটির জেরে কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগসহ ৫টি দাবি জানান সিজেপির সমর্থকরা।

শনিবার (৬ জুন) এই আন্দোলনের ডাক দেন অভিজিৎ দীপক, যিনি ককরোচ জনতা পার্টির প্রতিষ্ঠাতা। শনিবার সকালে তিনি দিল্লির জন্তর-মন্তরে এক বিশাল বিক্ষোভের আহ্বান জানান।

ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগ ছাড়াও বিক্ষোভকারীরা আরও কয়েকটি দাবি করেছেন। নিচে সেই দাবিগুলো তুলে ধরা হলো—

১. যথাযথ প্রশিক্ষণের পরেই শিক্ষাক্ষেত্রে ডিজিটালাইজেশন : আমরা ব্যাংকিং থেকে শুরু করে শিক্ষা পর্যন্ত সবকিছু ডিজিটালাইজ করছি, কিন্তু আমরা কি ভুল পদ্ধতিগুলো বন্ধ করতে পারছি? উত্তর হলো না। ব্যাংক জালিয়াতি ব্যাপক আকার ধারণ করেছে, এখন আমরা শিক্ষাক্ষেত্রেও ডিজিটালাইজেশনের প্রভাব দেখতে পাচ্ছি। আমি এর বিরুদ্ধে নই, তবে শিক্ষকদের যথাযথ মূল্যায়ন ও প্রশিক্ষণের পরেই এটি চালু করা উচিত।

এ কথা বলেন দিল্লিতে উচ্চশিক্ষায় অধ্যয়নরত তিন শিক্ষার্থীর বাবা, ৫০ বছর বয়সী রাধেশ্যাম কাইথাল।

২. মণিপুরে শিক্ষার স্বাভাবিক কার্যক্রম : গত তিন বছর ধরে মণিপুরে অস্থিরতা চলছে। স্কুল-কলেজসহ আমার রাজ্যের কোনো কিছুই স্বাভাবিকভাবে চলছে না। সেখানকার ছাত্রছাত্রীরা চরম দুর্দশার মধ্যে রয়েছে।

এ কথা বলেন ৩২ বছর বয়সী সমাজ উদ্যোক্তা উইনসন, যিনি অস্থিরতার কারণে দুই বছর আগে মণিপুর ছেড়ে বর্তমানে নয়ডায় কর্মরত।

৩. প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষায় ন্যায্যতা ও বিশ্বাসযোগ্যতা : আমার চাচাতো ভাই পরিবার থেকে দূরে কোটার একটি ছোট ঘরে নিট (এইইটি)-এর জন্য প্রস্তুতি নিচ্ছিল। তার আশা ছিল, কোনো নিম্ন-র‌্যাঙ্কিং কলেজে সুযোগ পেলেও সে তা গ্রহণ করবে। কিন্তু তারপর প্রশ্নপত্র ফাঁসের ঘটনা ঘটে। সে তিন বছরেরও বেশি সময় ধরে প্রস্তুতি নিচ্ছে। আমরা জানি না কীভাবে তাকে আবার পরীক্ষায় বসার জন্য উৎসাহিত করব।

এ কথা বলেন ৩৪ বছর বয়সী গায়ত্রী সিং, যিনি মূলত রাজস্থানের জয়পুরের বাসিন্দা এবং বর্তমানে দিল্লিতে থাকেন।

৪. শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের প্রভাবিত করে এমন বিষয়গুলিতে মনোযোগ : আমি অনলাইনে দলটিকে অনুসরণ করছিলাম, কিন্তু বিক্ষোভে আসব কি না তা নিয়ে নিশ্চিত ছিলাম না। সকাল ১০টায় আমি রোহিনীতে অফিসে যাচ্ছিলাম, কিন্তু হঠাৎই ভাবলাম এসে একবার দেখে যাই।

এ কথা বলেন দিল্লির ১৮ বছর বয়সী রোনাক কুমার। তিনি আরও বলেন, ‘দলটির ভবিষ্যৎ সম্পর্কে আমি জানি না, তবে আপাতত তারা এমন বিষয় নিয়ে কথা বলছে যা সবার জন্যই গুরুত্বপূর্ণ—আপনি শিক্ষার্থী হোন বা সন্তানের শিক্ষা নিয়ে চিন্তিত কোনো অভিভাবক।’

৫. জবাবদিহিতা এবং শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্যের প্রতি মনোযোগ : সিজেপি আন্দোলন সোশ্যাল মিডিয়ার মানুষদের তৃণমূল পর্যায়ে আনতে সক্ষম হয়েছে। এর মাধ্যমে তারা এমন সব বিষয় নিয়ে কথা বলছে, যেগুলোর সঙ্গে মানুষ নিজেদেরকে সহজেই যুক্ত করতে পারে। কিছু শিক্ষার্থী আত্মহত্যা করেছে এবং লক্ষ লক্ষ শিক্ষার্থী ক্রমাগত মানসিক চাপের মধ্যে রয়েছে, অথচ কোনো জবাবদিহিতা নেই—এ কথা বলেন পেশায় মনোবিজ্ঞানী ৩৮ বছর বয়সী সুগন্ধা।

এই বিক্ষোভে শত শত মানুষ, যাদের অধিকাংশই তরুণ, সমবেত হয়েছিলেন। তাদের মধ্যে অনেকেই তেলাপোকার মুখোশ পরেছিলেন এবং ফুল হাতে নিয়েছিলেন। বেশ কয়েকজন স্কুলছাত্রও তাদের অভিভাবকদের সঙ্গে এই প্রতিবাদে যোগ দেয়।