ঢাকা শনিবার, ০৬ জুন, ২০২৬

বিমান হামলার সময় খামেনির কার্যালয়েই ছিলেন আরাগচি

রূপালী প্রতিবেদক
প্রকাশিত: জুন ৬, ২০২৬, ০৫:২৬ এএম
ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি, ছবি: সংগৃহীত

ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি জানিয়েছেন, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের যৌথ বিমান হামলার সময় তিনি দেশটির সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনির কার্যালয়ের একই ভবনে অবস্থান করছিলেন। হামলার পর ধ্বংসস্তূপের মধ্যে আটকে পড়লেও নিজের প্রাণের চেয়ে নেতার নিরাপত্তা নিয়েই বেশি চিন্তিত ছিলেন বলে তিনি উল্লেখ করেন।

লেবাননের সংবাদমাধ্যম আল মায়াদিনকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে আরাগচি সেই দিনের ঘটনাপ্রবাহ তুলে ধরেন। তার ভাষ্য অনুযায়ী, জেনেভায় অনুষ্ঠিত বৈঠক শেষে তিনি শুক্রবার দেশে ফেরেন এবং পরদিন সকালে খামেনির কার্যালয়ে গিয়ে সাম্প্রতিক পরিস্থিতি ও আলোচনার অগ্রগতি সম্পর্কে বিস্তারিত অবহিত করেন।

তিনি জানান, বৈঠক চলাকালীন সময়েই হামলা শুরু হয়। ভবনের একটি অংশ মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয় এবং তিনি ধ্বংসস্তূপের নিচে আটকে পড়েন। আরাগচির দাবি, হামলার মুহূর্তে তিনি খামেনির অফিসের ভেতরেই ছিলেন।

সেই সংকটময় পরিস্থিতিতে নিজের জীবন নিয়ে তার কোনো ভাবনা ছিল না বলেও জানান ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী। তিনি বলেন, পুরো সময়জুড়ে তার প্রধান উদ্বেগ ছিল সর্বোচ্চ নেতার নিরাপত্তা নিশ্চিত করা।

আরাগচির মতে, ঘটনার পরবর্তী দুই দিন ছিল অত্যন্ত কঠিন ও মানসিকভাবে চাপপূর্ণ। পরে তিনি নিশ্চিত হন যে খামেনি নিহত হয়েছেন।

তিনি আরও জানান, হামলার আগে খামেনিকে নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়েছিল। তবে খামেনি তা গ্রহণ করেননি। আরাগচির ভাষ্য অনুযায়ী, খামেনি মনে করতেন, দেশের সাধারণ মানুষ যদি নিরাপত্তাহীনতার মধ্যে থাকে, তাহলে তিনি নিজেও আলাদা কোনো নিরাপদ আশ্রয়ে যাবেন না। জনগণের ভাগ্যে যা ঘটবে, সেটিই তিনি নিজের জন্যও গ্রহণ করতে প্রস্তুত ছিলেন।

সাক্ষাৎকারে আরাগচি বলেন, খামেনি জনগণের মধ্যে ব্যাপক প্রভাব ও গ্রহণযোগ্যতা অর্জন করেছিলেন। যুদ্ধকালীন পরিস্থিতিতেও তিনি মৃত্যুর আগ পর্যন্ত সরাসরি বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ নির্দেশনা দিয়ে গেছেন।