আসন্ন বিশ্বকাপের ঠিক আগমুহূর্তে ফুটবল বিশ্বে বড় চমক দেখিয়েছে মধ্যপ্রাচ্যের দেশ ইরাক। আন্তর্জাতিক প্রীতি ম্যাচে ইউরোপের অন্যতম পরাশক্তি স্পেনের মুখোমুখি হয় তারা। এটা বড় কোনো ঘটনা নয়। মূল চমক হলো, স্পেনের মাঠেই স্বাগতিকদের ১-১ গোলে সমতায় থাকতে বাধ্য করেছে ইরাক। এই জয়ের মধ্য দিয়ে ইরাকি চমকে স্পেন যে কার্যত ‘শকড’, তা আর বলার অপেক্ষা রাখে না।
গত বৃহস্পতিবার অনুষ্ঠিত ম্যাচে স্প্যানিশদের একচ্ছত্র আধিপত্য থাকলেও ইরাকের ইস্পাতকঠিন রক্ষণভাগ আর কার্যকর প্রতি আক্রমণের কৌশলের কাছে শেষ পর্যন্ত জয়বঞ্চিত হতে হয় ‘লা রোহা’ খ্যাত স্পেনকে। এদিন নিজেদের চেনা মাঠে ম্যাচের শুরু থেকেই স্বভাবসুলভ আক্রমণাত্মক ফুটবল খেলতে থাকে স্পেন। পুরো ম্যাচের ৬৩ শতাংশ সময় বল নিজেদের নিয়ন্ত্রণে রেখে ইরাকের রক্ষণে রীতিমতো কাঁপন ধরায় স্বাগতিকেরা। ম্যাচের ১৬তম মিনিটেই কাক্সিক্ষত গোলের দেখা পায় তারা; দানি ওলমোর নিখুঁত পাস থেকে বল পেয়ে সহজ ফিনিশিংয়ে স্পেনকে ১-০ ব্যবধানে এগিয়ে দেন ফরোয়ার্ড ফেররান তোরেস। গোল খাওয়ার পরও আক্রমণের ধার বজায় রাখে স্প্যানিশরা, তবে ইরাকও ছেড়ে দেওয়ার পাত্র ছিল না।
পিছিয়ে পড়ার মাত্র ১১ মিনিট পরেই পাল্টা আঘাত হানে ইরাক। ম্যাচের ২৭তম মিনিটে আকাম হাসিমের পাস থেকে চমৎকার এক গোলে দলকে সমতায় ফেরান মেরকাস দোস্কি। ম্যাচের গতি-প্রকৃতি অনুযায়ী এটিই ছিল ইরাকের একমাত্র উল্লেখযোগ্য আক্রমণ, আর সে সুযোগকে দারুণ দক্ষতায় গোলে রূপান্তর করে তারা। প্রথমার্ধের খেলা ১-১ সমতায় শেষ হওয়ার পর ব্যবধান বাড়াতে মরিয়া হয়ে ওঠে স্বাগতিক স্পেন।
দ্বিতীয়ার্ধে একের পর এক আক্রমণ চালিয়ে ইরাকের গোলমুখে মোট ১৮টি শট নেয় স্প্যানিশ ফরোয়ার্ডরা, যার মধ্যে ৪টি ছিল লক্ষ্যে। কিন্তু ইরাকের গোলরক্ষক ও ডিফেন্ডারদের অতিমানবীয় দেয়াল ভাঙা সম্ভব হয়নি তাদের পক্ষে। ম্যাচের পরিসংখ্যান বলছে, ইরাক মাত্র ৩৭ শতাংশ সময় বল দখলে রাখতে পেরেছিল এবং পুরো ম্যাচে স্পেনের গোলবার লক্ষ্য করে কেবল ২টি শট নিতে পেরেছিল। তবে সুযোগ কাজে লাগানোর শতভাগ কার্যকারিতা দেখিয়ে স্পেনের মতো শক্তিশালী দলকে আটকে দিতে সক্ষম হয় তারা। বিশ্বকাপের মহোৎসব শুরুর আগে এই ড্র স্পেনের জন্য এক বড় সতর্কবার্তা হলেও ইরাকের আত্মবিশ্বাসকে তা আকাশচুম্বী করে তুলবে, তাতে কোনো সন্দেহ নেই।

