ফিফা বিশ্বকাপ ২০২৬-এর পর্দা উঠছে আগামী ১১ জুন। বিশ্ব ফুটবলের সবচেয়ে বড় এই আসর ঘিরে শিরোপা লড়াইয়ের পাশাপাশি শুরু হয়েছে ব্যক্তিগত পুরস্কার নিয়ে জোর আলোচনা। বিশেষ করে টুর্নামেন্টের সর্বোচ্চ গোলদাতাকে দেওয়া মর্যাদাপূর্ণ ‘গোল্ডেন বুট’ পুরস্কার ঘিরে ফুটবলপ্রেমীদের আগ্রহ তুঙ্গে।
এবারের আসরে গোল্ডেন বুট জয়ের সম্ভাব্য দাবিদারদের তালিকায় রয়েছেন ফ্রান্সের কিলিয়ান এমবাপ্পে, ইংল্যান্ডের হ্যারি কেইন, আর্জেন্টিনার লিওনেল মেসি, পর্তুগালের ক্রিস্টিয়ানো রোনালদোসহ বিশ্বের সেরা কয়েকজন ফরোয়ার্ড।
বিশ্বকাপের ইতিহাসে এখন পর্যন্ত কোনো ফুটবলার একাধিকবার গোল্ডেন বুট জিততে পারেননি। তবে এবার সেই রেকর্ড ভাঙার সুযোগ রয়েছে কিলিয়ান এমবাপ্পে, হ্যারি কেইন ও জেমস রদ্রিগেজের সামনে। যদিও বর্তমান ফর্ম ও দলের শক্তিমত্তা বিবেচনায় এমবাপ্পে ও কেইনকেই সবচেয়ে এগিয়ে রাখা হচ্ছে।
২০১৮ বিশ্বকাপে ৬ গোল করে গোল্ডেন বুট জিতেছিলেন ইংল্যান্ড অধিনায়ক হ্যারি কেইন। ক্লাব ও জাতীয় দলÑ দুই জায়গাতেই ধারাবাহিক গোল করে যাওয়া এই স্ট্রাইকার আবারও পুরস্কারটির অন্যতম দাবিদার। ইংল্যান্ড যদি টুর্নামেন্টে গভীর পর্যন্ত যেতে পারে, তাহলে তার সম্ভাবনা আরও উজ্জ্বল হবে।
অন্যদিকে, ২০২২ কাতার বিশ্বকাপে ৮ গোল করে গোল্ডেন বুট বিজয়ী কিলিয়ান এমবাপ্পে এবারও শীর্ষ ফেভারিটদের একজন। ফ্রান্সের এই তারকা ফরোয়ার্ডের গতি, দক্ষতা ও গোল করার সামর্থ্য তাকে প্রতিপক্ষের জন্য বড় হুমকিতে পরিণত করেছে। বিশ্বকাপে আরও পাঁচ গোল করতে পারলে তিনি জার্মান কিংবদন্তি মিরোস্লাভ ক্লোসের সর্বোচ্চ গোলদাতার রেকর্ডও ছাড়িয়ে যেতে পারেন।
প্রথমবারের মতো বিশ্বকাপ খেলতে যাওয়া নরওয়ের আর্লিং হালান্ডকেও আলোচনার বাইরে রাখা যাচ্ছে না। জাতীয় দলের হয়ে দুর্দান্ত গোল করার রেকর্ড থাকলেও তার সাফল্য অনেকটাই নির্ভর করবে নরওয়ে কত দূর এগোতে পারে তার ওপর।
আর্জেন্টিনার অধিনায়ক লিওনেল মেসির জন্য এটি হতে পারে ক্যারিয়ারের শেষ বিশ্বকাপ। ২০২২ সালে ৭ গোল করেও গোল্ডেন বুট জিততে পারেননি তিনি। তবে অভিজ্ঞতা, নেতৃত্ব ও বড় ম্যাচে পার্থক্য গড়ে দেওয়ার ক্ষমতার কারণে মেসি এখনো অন্যতম বড় নাম।
এ ছাড়া ব্রাজিলের ভিনিসিয়ুস জুনিয়র, আর্জেন্টিনার হুলিয়ান আলভারেজ, ফ্রান্সের উসমান দেম্বেলে, পর্তুগালের ক্রিস্টিয়ানো রোনালদো এবং স্পেনের মিকেল ওইয়ারসাবালও সম্ভাব্য দাবিদারদের তালিকায় রয়েছেন।
৪১ বছর বয়সি রোনালদোকে অনেকেই ‘ডার্ক হর্স’ হিসেবে দেখছেন। বয়স বাড়লেও গোল করার ক্ষুধা ও বড় মঞ্চে নিজেকে প্রমাণ করার মানসিকতা তাকে এখনো বিশেষভাবে আলোচনায় রেখেছে। এ ছাড়া সুইডেনের ভিক্টর জিওকারেস, জার্মানির কাই হাভার্টজ, সেনেগালের ইসমাইলা সার, কলম্বিয়ার লুইস দিয়াজ এবং নেদারল্যান্ডসের কোডি গাকপোকেও সম্ভাব্য চমক হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে।
বিশ্বকাপ মাঠে গড়ানোর শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত কোনো তারকা ফুটবলারের পায়ে সবচেয়ে বেশি গোল আসে এবং কে জিতে নেন গোল্ডেন বুট, সেটিই এখন ফুটবলপ্রেমীদের সবচেয়ে বড় কৌতূহলের একটি। শিরোপাযুদ্ধের পাশাপাশি গোল্ডেন বুটের প্রতিযোগিতাও যে সমানভাবে জমজমাট হবে, সে আভাস বেশ আগে থেকেই পাওয়া যাচ্ছে।

