ঢাকা সোমবার, ১৫ জুন, ২০২৬

সমস্যা জর্জরিত শিবচর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স

আইসিইউ ও গাইনি ওয়ার্ডে তালা, বিকল লিফট; দুর্ভোগে রোগী-স্বজনরা

মাদারীপুর প্রতিনিধি
প্রকাশিত: জুন ১৫, ২০২৬, ০৯:৫৩ এএম
ছবি- রূপালী বাংলাদেশ

মাদারীপুরের শিবচর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে দীর্ঘদিন ধরে জনবল সংকট, অব্যবস্থাপনা ও বিভিন্ন অবকাঠামোগত সমস্যার কারণে ব্যাহত হচ্ছে চিকিৎসাসেবা। ১০০ শয্যার আধুনিক ভবন থাকলেও পর্যাপ্ত জনবল না থাকায় হাসপাতালটিতে কার্যত ৫০ শয্যারও কম সক্ষমতায় চিকিৎসাসেবা পরিচালিত হচ্ছে। ফলে প্রতিদিন চিকিৎসা নিতে আসা হাজারো রোগী ও তাদের স্বজনদের চরম দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে।

সরেজমিনে হাসপাতাল ঘুরে দেখা যায়, রোগীর চাপ থাকলেও চিকিৎসকের সংখ্যা তুলনামূলকভাবে অনেক কম। বহির্বিভাগে চিকিৎসকের সাক্ষাৎ পেতে রোগীদের ঘণ্টার পর ঘণ্টা অপেক্ষা করতে হচ্ছে। হাসপাতালের আইসিইউ কক্ষ থাকলেও তা দীর্ঘদিন ধরে তালাবদ্ধ অবস্থায় রয়েছে। একইভাবে গাইনি ওয়ার্ডেও নেই কার্যকর সেবা। বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের সংকটের কারণে অনেক রোগীকেই উন্নত চিকিৎসার জন্য জেলা সদর কিংবা ঢাকায় রেফার করা হচ্ছে।

হাসপাতালের বিভিন্ন ওয়ার্ড, টয়লেট ও গোসলখানা ঘুরে দেখা যায়, পরিচ্ছন্নতাকর্মীর অভাবে অনেক স্থানে ময়লা-আবর্জনা ও পানি জমে রয়েছে। দুর্গন্ধে রোগী ও স্বজনদের সেখানে যাতায়াত করতে চরম ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে। নিয়মিত পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতার অভাবে হাসপাতালের স্বাস্থ্যকর পরিবেশও মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে।

এদিকে, হাসপাতালের পাঁচতলা ভবনে ওঠানামার জন্য থাকা দুটি লিফটই দীর্ঘদিন ধরে বিকল হয়ে পড়ে আছে। ফলে ভর্তি রোগীদের ৪র্থ ও ৫ম তলায় নিতে স্বজনদের ভ্যান কিংবা কাঁধে করে বহন করতে হচ্ছে। ট্রলিম্যান না থাকায় মুমূর্ষু রোগীদের স্থানান্তরেও দেখা দিয়েছে চরম সংকট।

চিকিৎসা নিতে আসা শাহাবুদ্দিন মাদবর বলেন, এত বড় একটি হাসপাতাল হলেও এখানে পর্যাপ্ত ডাক্তার নেই। টয়লেটের অবস্থা খুবই নাজুক। রোগীদের জন্য বরাদ্দকৃত খাবারের মানও সন্তোষজনক নয়। আধুনিক হাসপাতাল হলেও সেবার ক্ষেত্রে নানা সীমাবদ্ধতা রয়েছে।

রোগী ও স্বজনদের অভিযোগ, হাসপাতালের সার্বিক পরিবেশ উন্নয়ন ও সেবার মান নিশ্চিত করতে কার্যকর তদারকির অভাব রয়েছে। বিশেষ করে পরিচ্ছন্নতা, নিরাপত্তা ও জরুরি চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত করার ক্ষেত্রে আরও উদ্যোগ গ্রহণ করা জরুরি বলে তারা মনে করেন।

হাসপাতাল সূত্রে জানা যায়, অনুমোদিত জনবলের বড় একটি অংশ বর্তমানে শূন্য রয়েছে। হাসপাতালটিতে ১০ জন জুনিয়র কনসালট্যান্ট থাকার কথা থাকলেও কর্মরত আছেন ৭ জন। ৪১ জন সহকারী সার্জন ও মেডিকেল অফিসারের বিপরীতে কর্মরত মাত্র ২৬ জন। নার্স ও মিডওয়াইফের ৩৭টি পদের মধ্যে কর্মরত ৩০ জন। মেডিকেল টেকনোলজিস্টের ৮টি পদের মধ্যে কর্মরত মাত্র ৩ জন। স্যাকমো পদে ২০ জনের স্থলে রয়েছেন মাত্র ২ জন। এ ছাড়া ফার্মাসিস্ট, ওয়ার্ড বয়, আয়া, পরিচ্ছন্নতাকর্মী, নিরাপত্তাকর্মী, মালি ও অন্যান্য চতুর্থ শ্রেণির কর্মচারীদের অধিকাংশ পদই দীর্ঘদিন ধরে শূন্য রয়েছে।

হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ জানায়, জনবল সংকটের মধ্যেও সর্বোচ্চ আন্তরিকতার সঙ্গে রোগীদের সেবা দেওয়ার চেষ্টা করা হচ্ছে। তবে প্রয়োজনীয় জনবল না থাকায় চিকিৎসাসেবা পরিচালনায় নানা সীমাবদ্ধতা দেখা দিচ্ছে।

শিবচর উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. ফাতেমা মেহজাবিন বলেন, চিকিৎসাসেবা নিতে আসা রোগীদের সেবা প্রদানে আমাদের আন্তরিকতার কোনো ঘাটতি নেই। তবে জনবল সংকটের কারণে কাঙ্ক্ষিত সেবা দিতে হিমশিম খেতে হচ্ছে। ১০০ শয্যার নতুন ভবন চালু হলেও সেই অনুপাতে জনবল বৃদ্ধি পায়নি। শূন্য পদগুলো পূরণের জন্য ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে ইতোমধ্যে চাহিদাপত্র পাঠানো হয়েছে।

স্থানীয় সচেতন মহলের দাবি, শিবচর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে দ্রুত জনবল নিয়োগ, বিকল লিফট মেরামত, আইসিইউ চালু এবং পরিচ্ছন্নতা ও নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা না হলে উপজেলার কয়েক লাখ মানুষের স্বাস্থ্যসেবা মারাত্মকভাবে ব্যাহত হবে। তারা দ্রুত সমস্যাগুলোর স্থায়ী সমাধানে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কার্যকর উদ্যোগ কামনা করেছেন।