× UCB Sticker Card
সোমবার, ২২ জুন, ২০২৬

ফেসবুক


ইউটিউব


টিকটক

Rupali Bangladesh

ইনস্টাগ্রাম

Rupali Bangladesh

এক্স

Rupali Bangladesh


লিংকডইন

Rupali Bangladesh

পিন্টারেস্ট

Rupali Bangladesh

গুগল নিউজ

Rupali Bangladesh


হোয়াটস অ্যাপ

Rupali Bangladesh

টেলিগ্রাম

Rupali Bangladesh

মেসেঞ্জার গ্রুপ

Rupali Bangladesh


En Bn

মো. সায়েম ফারুকী

প্রকাশিত: জুন ২২, ২০২৬, ০৫:২০ পিএম

বিশ্ব শরণার্থী দিবসের সংহতি ফুটবল টুর্নামেন্টে চ্যাম্পিয়ন রোহিঙ্গা দল

মো. সায়েম ফারুকী

প্রকাশিত: জুন ২২, ২০২৬, ০৫:২০ পিএম

ছবি : রূপালী বাংলাদেশ

ছবি : রূপালী বাংলাদেশ

কক্সবাজারে বিশ্ব শরণার্থী দিবস উপলক্ষে আয়োজিত সংহতি ফুটবল টুর্নামেন্টে চ্যাম্পিয়ন হয়েছে রোহিঙ্গা শরণার্থীদের একটি ফুটবল দল। গতকাল রোববার জাতিসংঘের শরণার্থী বিষয়ক সংস্থা (ইউএনএইচসিআর), ব্র্যাক এবং অ্যাকশনএইডের যৌথ উদ্যোগে আয়োজিত এই টুর্নামেন্টে রোহিঙ্গা শরণার্থী, স্থানীয় জনগোষ্ঠী, মানবিক সহায়তা কর্মী এবং সরকারি প্রতিনিধিরা অংশ নেন। দিনব্যাপী এই আয়োজন ফুটবল, বন্ধুত্ব ও সম্প্রীতির এক অনন্য মিলনমেলায় পরিণত হয়।

রোমাঞ্চকর ফাইনাল ম্যাচে রোহিঙ্গা দল মানবিক সংস্থা ও সরকারি প্রতিনিধিদের নিয়ে গঠিত দলকে ২-০ গোলে পরাজিত করে শিরোপা জিতে নেয়। রোহিঙ্গা দলটি ক্যাম্পভিত্তিক আরাকান রোহিঙ্গা ফুটবল ফেডারেশনের সদস্যদের নিয়ে গঠিত, যেখানে ৩৩টি শরণার্থী ক্যাম্পের খেলোয়াড়রা প্রতিনিধিত্ব করেন।

শেষ পর্যন্ত রোহিঙ্গা দল ট্রফি উঁচিয়ে ধরলে ক্যাম্প ও আশপাশের স্থানীয় জনগোষ্ঠী থেকে আসা সমর্থকদের উচ্ছ্বাসে পুরো মাঠ মুখর হয়ে ওঠে।

প্রতি বছর ২০ জুন পালিত বিশ্ব শরণার্থী দিবস উপলক্ষে এই টুর্নামেন্ট আয়োজন করা হয়। খেলাধুলা কীভাবে মানুষকে একত্র করতে পারে, সেই বার্তা তুলে ধরাই ছিল এর অন্যতম উদ্দেশ্য। এই আয়োজন শরণার্থী ও অন্যান্য অংশগ্রহণকারীদের মধ্যে সম্পর্ক গড়ে তোলা, বন্ধুত্ব বৃদ্ধি এবং একসঙ্গে ইতিবাচক সময় কাটানোর সুযোগ তৈরি করে।

রোহিঙ্গা দলের কোচ এমদাদ উল্লাহ বলেন, খেলাধুলা শরণার্থীদের আশা জোগায় এবং প্রতিদিনের কষ্ট ও সংগ্রাম থেকে কিছুটা মুক্তির সুযোগ করে দেয়।

তিনি আরও বলেন, ‘খেলাধুলা মানুষকে একত্র করে এবং আমাদের ভবিষ্যতের দিকে আশাবাদী হয়ে তাকাতে সাহায্য করে।’

দলের অধিনায়ক আপতার হোসেন বলেন, রোহিঙ্গা সম্প্রদায়ের প্রতিনিধিত্ব করতে পেরে তিনি গর্বিত।

তিনি আরও বলেন, ‘আমরা আশা করি, একদিন নিরাপদে নিজ দেশে ফিরতে পারব এবং আবার নিজেদের দেশের হয়ে ফুটবল খেলতে পারব।’

ম্যাচ শেষে ইউএনএইচসিআর বাংলাদেশের প্রতিনিধি ইভো ফ্রেইসেন বিশ্বজুড়ে শরণার্থীদের দৃঢ়তা ও প্রতিকূলতার মধ্যেও নতুন করে জীবন গড়ে তোলার প্রচেষ্টার কথা তুলে ধরেন। তিনি বলেন, ‘ইউএনএইচসিআর হিসেবে আমরা এখানে বসবাসরত রোহিঙ্গা শরণার্থীদের মধ্যে প্রতিদিনই এই শক্তি ও সহনশীলতার পরিচয় দেখতে পাই।’

ফ্রেইসেন আরও বলেন, এই আয়োজন একদিকে যেমন রোহিঙ্গা শরণার্থীদের অধ্যবসায় ও সংগ্রামকে সম্মান জানিয়েছে, অন্যদিকে বাংলাদেশ সরকার ও স্থানীয় জনগোষ্ঠীর অসাধারণ উদারতা ও সংহতিকেও স্বীকৃতি দিয়েছে।

তিনি বলেন, ‘শরণার্থীদের নিরাপত্তা ও টিকে থাকার জন্য তাদের অব্যাহত সহায়তা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।’

খেলার ফলাফলের বাইরে এই আয়োজন দেখিয়েছে, খেলাধুলা কীভাবে মানুষকে একত্র করতে, দলগতভাবে কাজ করতে এবং মানসিকভাবে ভালো থাকতে সাহায্য করতে পারে। বিশ্ব শরণার্থী দিবসের আবহে এই টুর্নামেন্ট রোহিঙ্গা তরুণদের তাদের প্রতিভা, স্বপ্ন এবং দৃঢ়তা তুলে ধরার একটি সুযোগ করে দেয়, বিশ্বের অন্য প্রান্তে—কক্সবাজারে।

ট্রফি যদিও এক দল জিতেছে, তবে দিনের সবচেয়ে বড় অর্জন ছিল ফুটবলের মাধ্যমে মানুষকে একত্র করা। এই টুর্নামেন্ট শরণার্থী তরুণদের প্রতিভা ও সক্ষমতাকে তুলে ধরার পাশাপাশি শরণার্থী, স্থানীয় জনগোষ্ঠী, মানবিক সহায়তা কর্মী এবং সরকারি প্রতিনিধিদের মধ্যে সম্পর্ক আরও শক্তিশালী করেছে।

বিশ্ব শরণার্থী দিবসের প্রতিপাদ্য ‘যতক্ষণ না সবাই নিরাপদ’ (Until Everyone is Safe)-এর আলোকে আয়োজিত এই অনুষ্ঠান শরণার্থীদের জন্য সংহতি, সুরক্ষা এবং মর্যাদার গুরুত্বকে আরও জোরালোভাবে তুলে ধরে।

খেলা শেষে দুই দলের খেলোয়াড়রা একসঙ্গে আনন্দ উদযাপন করেন। এটি বিশ্ব শরণার্থী দিবসের মূল বার্তা—সংহতি, শ্রদ্ধা এবং আশার প্রতিফলন।

Link copied!