লক্ষ্মীপুরের রামগঞ্জ উপজেলায় ফরিদ আহমেদ ভূইয়া একাডেমির ছাত্রাবাস থেকে মেহেদী হাসান (১৪) নামে এক শিক্ষার্থীর লাশ উদ্ধারের ঘটনায় করা হত্যা মামলায় শিক্ষক শরীফুল ইসলাম ও শিক্ষার্থী সাজিদুল ইসলাম মজুমদারকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।
সোমবার (২২ জুন) দুপুরে তাদের লক্ষ্মীপুর আদালতে সোপর্দ করা হয়েছে। এরআগে রোববার (২১ জুন) রাতে উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় অভিযান চালিয়ে পুলিশ তাদের গ্রেপ্তার করে।
গ্রেপ্তার শরীফুল প্রতিষ্ঠানের ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ ও পঞ্চগড় জেলার বোদা উপজেলার ইসলামবাগ গ্রামের মৃত গোলাম কিবরিয়ার ছেলে। তিনি হল সুপারের দায়িত্বে রয়েছেন।
ঘটনার পর অধ্যক্ষ খন্দকার আব্দুল মান্নানকে অপসারণ করে শরীফুলকে ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ হিসেবে দায়িত্ব দেওয়া হয়।
অপর গ্রেপ্তার সাজিদুল রামগঞ্জ উপজেলার ভাটরা ইউনিয়নের দক্ষিণ ভাটরা গ্রামের মাসুদুল ইসলাম মজুমদারের ছেলে।
পুলিশ জানায়, ১৬ জুন বিকেলে ফরিদ আহমেদ ভূঁইয়া একাডেমির আবাসিক হল থেকে অষ্টম শ্রেণির ছাত্র মেহেদীর ঝুলন্ত লাশ উদ্ধার করা হয়। তার পিঠ ও গলায় আঘাতের চিহ্ন ছিল। ওইদিন বিক্ষুব্ধ এলাকাবাসী প্রতিষ্ঠানের প্রধান ফটকসহ কয়েকটি কক্ষ ভাঙচুর চালায়। নিহত মেহেদী রামগঞ্জ উপজেলার সোনাপুর বাজার এলাকার ব্যবসায়ী জিয়া উদ্দিনের ছেলে। ১৮ জুন নিহতের বাবা জিয়া উদ্দিন বাদী হয়ে রামগঞ্জ থানায় প্রতিষ্ঠানের অধ্যক্ষ খন্দকার আব্দুল মান্নান ও ৭ জন শিক্ষার্থীর নাম উল্লেখ করে মামলা দায়ের করেন। এতে অজ্ঞাতপরিচয় আরও ১০ জনের বিরুদ্ধে অভিযোগ আনা হয়।
একটি আইফোন চুরিকে কেন্দ্র করে শিক্ষার্থীদের মারধরে মেহেদির মৃত্যু হয় বলে মামলার অভিযোগ বলা হয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।
অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (প্রশাসন ও অর্থ) হোসাইন মোহাম্মদ রায়হান কাজেমী বলেন, একজন শিক্ষক ও এক ছাত্রকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের গ্রেপ্তারে আমাদের অভিযান অব্যাহত রয়েছে। গ্রেপ্তারকৃতদের লক্ষ্মীপুর আদালতে সোপর্দ করা হয়েছে।

সর্বশেষ খবর পেতে রুপালী বাংলাদেশের গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন