প্রধানমন্ত্রীর প্রতিরক্ষা উপদেষ্টা এ কে এম শামছুল ইসলামের স্ত্রীকে নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে মিথ্যা, অশ্লীল ও মানহানিকর তথ্য ছড়ানো এবং ব্ল্যাকমেইলের অভিযোগে করা মামলায় চারজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।
শনিবার (৪ জুলাই) তাদের গ্রেপ্তার করা হয়।
গ্রেপ্তারকৃতরা হলেন— মামুন লস্কর (৪৫), ওমর ফারুক রবিন (৩৮), জয়নাল আবেদীন মানিক (৩৬) ও হেলাল উদ্দিন (৩৯)। পরে তাদের আদালতে সোপর্দ করা হয়। আদালত জিজ্ঞাসাবাদের জন্য পুলিশি রিমান্ড আবেদন মঞ্জুর করেছেন।
পুলিশ জানায়, গ্রেপ্তারকৃতদের মধ্যে র্যাবের সহায়তায় ঢাকা থেকে দুজনকে, চট্টগ্রাম থেকে একজনকে এবং অন্য আরেকজনকে কুমিল্লা থেকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। গ্রেপ্তারকৃতদের কাছ থেকে মোবাইল ফোনসেটসহ বিভিন্ন ইলেকট্রনিক ডিভাইস জব্দ করা হয়েছে। সেগুলোর ফরেনসিক পরীক্ষা-নীরিক্ষা করা হচ্ছে।
এর আগে বৃহস্পতিবার (২ জুলাই) প্রধানমন্ত্রীর প্রতিরক্ষা উপদেষ্টার ব্যক্তিগত সহকারী নূর মোহাম্মদ বাদী হয়ে গুলশান থানায় সাইবার সুরক্ষা আইন, ২০২৬-এর ২৫ ও ২৭ ধারায় মামলা করেন। মামলায় চার জনের নাম উল্লেখসহ অজ্ঞাতনামা আরও ১০-১২ জনকে আসামি করা হয়েছে।
এজাহারে উল্লেখ করা হয়, গত ১ জুলাই বিকেল আনুমানিক ৪টার দিকে আসামিরা পরস্পর যোগসাজশে ফেসবুক ও একটি টেলিগ্রাম চ্যানেলে প্রধানমন্ত্রীর প্রতিরক্ষা উপদেষ্টার স্ত্রী ইসরাত শামস মলির নামে আপত্তিকর ও ভিত্তিহীন তথ্য ছড়িয়ে দেয়। অভিযুক্তরা তাদের ব্যক্তিগত ফেসবুক আইডি ব্যবহার করে বিভিন্ন মানহানিকর পোস্ট ও লিংক শেয়ার করেন। এসব পোস্ট ভুক্তভোগীর পরিবার, আত্মীয়স্বজন, বন্ধুবান্ধব ও পরিচিতজনদের কাছেও পাঠানো হয়। পরিকল্পিতভাবে ভুক্তভোগীকে মানসিকভাবে বিপর্যস্ত করে ব্ল্যাকমেইল করার চেষ্টায় এই কাজ করা হয়েছে। বিষয়টির স্পর্শকাতর বিবেচনায় ভুক্তভোগী ও তার পরিবারের সঙ্গে আলোচনা করে মামলা দায়ের করতে কিছুটা বিলম্ব হয়েছে বলে এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে।
এরপর মামলাটির তদন্ত কার্যক্রম শুরু করেন গুলশান থানার এসআই সালমান ফারেসী। এরই ধারাবাহিকতায় বৃহস্পতিবার ও শুক্রবার পৃথক অভিযান চালিয়ে এজাহারভুক্ত দুই আসামি মাহমুদ ওমর ফারুক রবিন তাজ ও মামুন লস্কর সরকারকে ঢাকা থেকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। পরে তাকে শুক্রবার সিএমএম আদালতে হাজির করে ১০ দিনের রিমান্ড আবেদন করা হয়। আদালত শুনানি শেষে তাদের দুই দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করে।
এছাড়া জয়নাল আবেদীন মানিকের ৪ দিন এবং তদন্তে প্রাপ্ত মামলার আসামি হেলাল উদ্দিনের ২ দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেছেন।
তদন্ত কর্মকর্তা সালমান ফারেসী জানান, গ্রেপ্তারকৃত চার জনের মধ্যে তিন জন এজাহারনামীয় ও একজন তদন্তে প্রাপ্ত আসামি। তাদের জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে।
গুলশান থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. দাউদ হোসেন বলেন, এই ঘটনায় জড়িত বাকি আসামিদের গ্রেপ্তারের জন্য আমাদের অভিযান চলছে।

