ঢাকা মঙ্গলবার, ০৭ জুলাই, ২০২৬

মেট্রোরেল যাত্রীদের জন্য আসছে বড় সুখবর

রূপালী প্রতিবেদক
প্রকাশিত: জুলাই ৭, ২০২৬, ০৮:৫৯ পিএম
মেট্রোরেল। ছবি : সংগৃহীত

রাজধানীবাসীর যাতায়াতে স্বস্তি বাড়াতে আরও একটি বড় সুখবর দিয়েছে মেট্রোরেল কর্তৃপক্ষ। সব ঠিক থাকলে আগামী বছরের (২০২৭) এপ্রিলে মতিঝিল থেকে কমলাপুর পর্যন্ত মেট্রোরেলের নতুন বর্ধিত অংশ বাণিজ্যিকভাবে চালু হতে যাচ্ছে।

ঢাকা ম্যাস র‌্যাপিড ট্রানজিট ডেভেলপমেন্ট প্রজেক্টের (লাইন-৬) পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) মো. আবদুল ওহাব এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

প্রকল্প পরিচালক জানান, নতুন এই রুটে মূল বাণিজ্যিক চলাচল শুরুর আগে আগামী বছরের জানুয়ারি মাস থেকে খালি ট্রেন নিয়ে পরীক্ষামূলক কার্যক্রম বা ট্রায়াল রান শুরু করা হবে। নিয়মিত যাত্রীসেবার নির্ধারিত সময় পার হওয়ার পর রাতের বেলা উত্তরা উত্তর স্টেশন থেকে কমলাপুর পর্যন্ত পুরো রুটজুড়ে এই পরীক্ষামূলক চলাচল পরিচালনা করা হবে।

ঢাকা ম্যাস ট্রানজিট কোম্পানি লিমিটেডের (ডিএমটিসিএল) তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছরের (২০২৬) জুন মাসের মধ্যে ১ দশমিক ১৬ কিলোমিটার ভায়াডাক্ট, একটি স্টেশন ও রেল ট্র্যাক নির্মাণসহ পুরো সম্প্রসারণ কাজের প্রায় ৭৭ শতাংশ শেষ হয়েছে।

বর্তমানে কমলাপুর স্টেশনের স্থাপত্য এবং প্রবেশ-বাহির পথের নির্মাণকাজ চলছে। চলতি বছরের জুন পর্যন্ত এই স্টেশনের সমস্ত পাইল, পাইল ক্যাপ, পিয়ার, স্টেশন কলাম, প্রিকাস্ট, কনকোর্স ছাদ, প্ল্যাটফর্ম স্ল্যাব, ট্র্যাক স্ল্যাব, প্যারাপেট ওয়াল এবং স্টিলের ছাদ তৈরির কাজ সম্পন্ন হয়েছে।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, কমলাপুর স্টেশনের জন্য স্বয়ংক্রিয় দরজা, সিগন্যালিং সিস্টেম এবং অন্যান্য বৈদ্যুতিক যন্ত্রপাতি শিগগিরই স্থাপনের জন্য আনা হবে। আগামী দুই মাসের মধ্যে ট্র্যাক স্থাপনের কাজ পুরোপুরি শেষ হবে বলে আশা করছেন কর্মকর্তারা। বর্তমানে স্টেশনের অভ্যন্তরীণ দেয়ালের টাইলস, স্থায়ী জানালার গ্লাস স্থাপন এবং রঙের কাজ চলছে। এ ছাড়া উত্তরা কনস্ট্রাকশন ইয়ার্ডে ২৯৮টি প্রিকাস্ট সেগমেন্টের মধ্যে ১০০টি প্রিকাস্ট সেগমেন্ট কাস্টিংয়ের কাজ ইতিমধ্যে শেষ হয়েছে।

উত্তরা উত্তর থেকে কমলাপুর স্টেশন পর্যন্ত লাইন-৬ এর মোট দৈর্ঘ্য ২১ দশমিক ২৬ কিলোমিটার। এর আগে ২০২৩ সালের নভেম্বরে উত্তরা থেকে মতিঝিল পর্যন্ত অংশে মেট্রোরেলের বাণিজ্যিক চলাচল শুরু হয়েছিল। নতুন এই রুটটি চালু হলে কমলাপুর রেলওয়ে স্টেশনের সঙ্গে মেট্রোরেলের সরাসরি যোগাযোগ স্থাপিত হবে, যা ঢাকার গণপরিবহন ব্যবস্থায় এক নতুন মাত্রা যোগ করবে।