ঢাকা রবিবার, ১২ জুলাই, ২০২৬

বন্যা ও পাহাড়ধসে দেশের সাত জেলায় নিহত ৫১

রূপালী প্রতিবেদক
প্রকাশিত: জুলাই ১২, ২০২৬, ০৬:১৭ পিএম
ছবি : সংগৃহীত

টানা বর্ষণ ও পাহাড়ি ঢলে চট্টগ্রাম বিভাগের পাঁচ জেলাসহ দেশের সাত জেলায় বন্যা পরিস্থিতি ভয়াবহ আকার ধারণ করেছে। বন্যা ও পাহাড়ধসে এখন পর্যন্ত ৫১ জনের মৃত্যু হয়েছে। আহত হয়েছেন আরও অন্তত ৩৯ জন। দুর্যোগে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন সাড়ে ৮ লাখের বেশি মানুষ।

দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের প্রতিবেদন অনুযায়ী, ক্ষতিগ্রস্ত জেলাগুলো হলো—খাগড়াছড়ি, রাঙামাটি, বান্দরবান, কক্সবাজার, চট্টগ্রাম, মৌলভীবাজার ও হবিগঞ্জ। এসব জেলার ৫৯টি উপজেলা, ৩৬৮টি ইউনিয়ন এবং ১২টি পৌরসভা বন্যা ও পাহাড়ধসে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।

মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, সবচেয়ে বেশি প্রাণহানি ঘটেছে কক্সবাজার জেলায়। সেখানে ২৮ জনের মৃত্যু হয়েছে। এ ছাড়া চট্টগ্রামে ১৩ জন, বান্দরবানে ৬ জন, রাঙামাটিতে ৩ জন এবং মৌলভীবাজারে ১ জনের মৃত্যু হয়েছে।

আহত ৩৯ জনের মধ্যে কক্সবাজারে ২৪ জন, চট্টগ্রামে ১২ জন, বান্দরবানে ২ জন এবং খাগড়াছড়িতে ১ জন রয়েছেন।

চট্টগ্রাম বিভাগের পাঁচ জেলায় বন্যায় মোট ৮ লাখ ৬৭ হাজার মানুষ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন। এর মধ্যে চট্টগ্রাম জেলায় সবচেয়ে বেশি ক্ষতি হয়েছে। এখানে ৬ লাখ ৬২ হাজারের বেশি মানুষ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন।

এ ছাড়া কক্সবাজারে ১ লাখ ৫৮ হাজার ২৭ জন, খাগড়াছড়িতে ৩৪ হাজার ৪১৭ জন, রাঙামাটিতে ৩ হাজার ৮২০ জন এবং বান্দরবানে ৮ হাজার ৩৫০ জন ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন।

বন্যা পরিস্থিতি মোকাবিলায় ক্ষতিগ্রস্ত জেলাগুলোতে ১ হাজার ৪৯টি আশ্রয়কেন্দ্র খোলা হয়েছে। এসব আশ্রয়কেন্দ্রে এখন পর্যন্ত ৩৮ হাজার ৪২২ জন মানুষ আশ্রয় নিয়েছেন।

চট্টগ্রাম বিভাগে মোট ১ হাজার ৭২৭টি আশ্রয়কেন্দ্র চালু রয়েছে। এর মধ্যে চট্টগ্রামে ৬৭০টি, কক্সবাজারে ৬৪০টি, রাঙামাটিতে ৪৭টি, খাগড়াছড়িতে ১৫০টি এবং বান্দরবানে ২২০টি আশ্রয়কেন্দ্র রয়েছে।

আশ্রয় নেওয়া মানুষের মধ্যে চট্টগ্রামে ২২ হাজার ৬০০ জন, কক্সবাজারে ২ হাজার ৯৭৪ জন, রাঙামাটিতে ৩ হাজার ৮২০ জন, খাগড়াছড়িতে ২ হাজার ৯১৬ জন এবং বান্দরবানে ৪ হাজার ৭৪৫ জন রয়েছেন।

এদিকে দুর্যোগকবলিত এলাকায় এখন পর্যন্ত ১ হাজার ৯১ দশমিক ৬ মেট্রিক টন চাল, ৯১ দশমিক ১ লাখ টাকা এবং ৩৪ হাজার ৪৭০ প্যাকেট শুকনো খাবার বিতরণ করা হয়েছে।

এ ছাড়া বিভিন্ন জেলায় রান্না করা খাবার, শিশু খাদ্য, ডায়াপার ও স্যানিটারি ন্যাপকিন বিতরণ করা হচ্ছে।

পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে এবং মানবিক সহায়তা কার্যক্রম জোরদার করতে সরকারের পক্ষ থেকে ধাপে ধাপে মাঠপর্যায়ে সহায়তা পৌঁছে দেওয়া হচ্ছে।

বন্যায় কৃষি খাতেও ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। চট্টগ্রামে ৯ হাজার ৪৩ দশমিক ৫ হেক্টর আউশ ধান, ৯৬০ দশমিক ৬৬ হেক্টর আমন এবং ৫ হাজার ৯০৭ হেক্টরের বেশি গ্রীষ্মকালীন সবজি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।

কক্সবাজারে ২ হাজার ৬২০ হেক্টর আউশ ধান, ৪৭০ হেক্টর আমনের বীজতলা, ৯৫৫ হেক্টর সবজি এবং ১৫৬ হেক্টর পানবরজ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।

রাঙামাটিতে ৭১৭ হেক্টর আউশ ধান, ১৫৮ হেক্টর আমনের বীজতলা, ৯৮৭ হেক্টর গ্রীষ্মকালীন সবজি, ৭৪৩ হেক্টর আদা এবং ৬৪৮ হেক্টর হলুদের জমির ক্ষয়ক্ষতির তথ্য পাওয়া গেছে।

এ ছাড়া খাগড়াছড়ি ও বান্দরবানেও আউশ ধান, আমনের বীজতলা এবং সবজি চাষে বড় ধরনের ক্ষতির খবর পাওয়া গেছে।

গত ৭ জুলাই থেকে বন্যা ও অন্যান্য দুর্যোগ মোকাবিলায় দেশের বিভিন্ন জেলার জন্য ধাপে ধাপে ৪ কোটি ৬০ লাখ টাকা নগদ অর্থ এবং ৮ হাজার ৯৫০ মেট্রিক টন চাল বরাদ্দ দিয়েছে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়।