আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের চিফ প্রসিকিউটর মোহাম্মদ আমিনুল ইসলাম জানিয়েছেন, ক্ষমতাচ্যুত সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত আসামি শেখ হাসিনার বাংলাদেশে ফিরে সরাসরি আত্মসমর্পণের কোনো আইনি সুযোগ নেই।
রোববার (১২ জুলাই) আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি বলেন, শেখ হাসিনা চাইলেই সাধারণ নাগরিকদের মতো স্বাধীনভাবে দেশে ফিরতে পারবেন না।
চিফ প্রসিকিউটর জানান, শেখ হাসিনা বর্তমানে ভারত সরকারের নিয়ন্ত্রণে নির্বাসনে রয়েছেন। তিনি দেশে ফিরতে চাইলে বাংলাদেশ ও ভারত সরকারের মধ্যে পারস্পরিক সমঝোতা এবং কূটনৈতিক ও আইনি প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়েই আসতে হবে।
তিনি বলেন, “শেখ হাসিনা যখনই দেশের মাটিতে পা রাখবেন, তখনই তাকে গ্রেপ্তার করা হবে এবং সরাসরি কারাগারে পাঠানো হবে।”
ট্রাইব্যুনালের রায় অনুযায়ী, দেশে থাকা শেখ হাসিনার সব স্থাবর-অস্থাবর সম্পত্তি ইতোমধ্যেই রাষ্ট্রের অনুকূলে বাজেয়াপ্ত করা হয়েছে বলেও জানান আমিনুল ইসলাম।
রায়ের বিরুদ্ধে আপিলের সুযোগ প্রসঙ্গে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল আইন, ১৯৭৩-এর ২১(৩) ধারার কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, “সেকশন ২১-এর ৩ নম্বর উপধারায় স্পষ্ট বলা আছে, ৩০ দিনের পর আর কোনো আপিল করা যাবে না।”
তবে নির্ধারিত সময়সীমা পার হওয়ার পর শেখ হাসিনা দেশে ফিরলে আপিলের সুযোগ থাকবে কি না—এমন প্রশ্নের জবাবে চিফ প্রসিকিউটর বলেন, “যদি শেখ হাসিনাকে কোনোভাবে বাংলাদেশে আনা হয় বা তাকে বাংলাদেশে পাওয়া যায়, তাহলে যেহেতু তার বিরুদ্ধে মৃত্যুদণ্ডাদেশ রয়েছে, তিনি প্রথমে কারাগারে যাবেন। এরপর তিনি আপিল করতে পারবেন কি না, সেই বিষয়টি নিষ্পত্তি হবে।”
তিনি আরও বলেন, ভবিষ্যতে আইনি সুযোগ তৈরি হবে কি না, তা আদালতের সিদ্ধান্তের ওপর নির্ভর করবে। যদি আপিলের সুযোগ না থাকে, তাহলে সাজা বহাল থাকবে। আর যদি আপিল করা যায়, তাহলে আপিল নিষ্পত্তির পর পরবর্তী সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।
বিষয়টি সম্পূর্ণ আপিল বিভাগের সিদ্ধান্তের ওপর নির্ভর করছে বলেও জানান তিনি।
এদিকে, ট্রাইব্যুনালের চলমান মামলার অগ্রগতি সম্পর্কে চিফ প্রসিকিউটর জানান, ২০১৩ সালের ৫ মে মতিঝিলের শাপলা চত্বরে হেফাজতে ইসলামের মহাসমাবেশে হত্যাকাণ্ডের মামলার তদন্ত শেষ হয়েছে। আগামী ২১ জুলাই এ-সংক্রান্ত আনুষ্ঠানিক প্রতিবেদন ট্রাইব্যুনালে দাখিল করা হবে।
এ ছাড়া ২০২৪ সালের জুলাই-আগস্টের গণঅভ্যুত্থানে সংঘটিত নৃশংসতা ও মানবতাবিরোধী অপরাধের প্রধান ১০টি মামলার তদন্তকাজও চূড়ান্ত পর্যায়ে রয়েছে। খুব দ্রুত এসব তদন্ত প্রতিবেদন আদালতে উপস্থাপন করা হবে বলে জানান তিনি।
অর্থাৎ, শেখ হাসিনার দেশে ফেরা ও আত্মসমর্পণের ক্ষেত্রে আইনি ও কূটনৈতিক জটিলতা রয়েছে। ফলে দেশে ফিরলেই তাকে গ্রেপ্তার করা হবে বলেও জানান আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের এই শীর্ষ আইনজীবী।

সর্বশেষ খবর পেতে রুপালী বাংলাদেশের গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন