ঢাকা বৃহস্পতিবার, ২৩ জুলাই, ২০২৬

এআরএফ বৈঠকে রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসনে সম্মিলিত উদ্যোগের আহ্বান পররাষ্ট্রমন্ত্রীর

রূপালী প্রতিবেদক
প্রকাশিত: জুলাই ২৩, ২০২৬, ০৬:৪৩ পিএম
ছবি : সংগৃহীত

পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমান রোহিঙ্গা সংকটের টেকসই ও রাজনৈতিক সমাধানে আঞ্চলিক সহযোগিতা জোরদারের আহ্বান জানিয়েছেন। তিনি বলেছেন, রোহিঙ্গারা পরিস্থিতির কারণে রাষ্ট্রহীন নয়, পরিকল্পিতভাবেই তাদের রাষ্ট্রহীন করা হয়েছে। এ সংকট একটি রাজনৈতিক ব্যর্থতা এবং এর সমাধানও রাজনৈতিকভাবেই করতে হবে।

বৃহস্পতিবার (২৩ জুলাই) ফিলিপাইনের রাজধানী ম্যানিলায় অনুষ্ঠিত আসিয়ান রিজিওনাল ফোরামের (এআরএফ) ৩৩তম মন্ত্রী পর্যায়ের বৈঠকে বক্তব্য রাখতে গিয়ে তিনি এসব কথা বলেন।

বৈঠকে পররাষ্ট্রমন্ত্রী সংলাপ, বহুপক্ষীয় সহযোগিতা এবং নিয়মভিত্তিক আন্তর্জাতিক ব্যবস্থা প্রতিষ্ঠায় বাংলাদেশের অটল অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেন। একই সঙ্গে জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনের সভাপতিত্বের জন্য বাংলাদেশের প্রার্থিতায় অংশগ্রহণকারী দেশগুলোর সমর্থনের জন্য কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন।

ড. খলিলুর রহমান বলেন, বর্তমান বিশ্ব অভূতপূর্ব ভূরাজনৈতিক চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি। উদীয়মান বৈশ্বিক ও আঞ্চলিক নিরাপত্তা সংকট মোকাবিলায় সংলাপ ও কূটনীতিই সবচেয়ে কার্যকর পথ। তিনি সামুদ্রিক বিরোধ নিষ্পত্তিতে সব রাষ্ট্রকে সর্বোচ্চ সংযম প্রদর্শনের আহ্বান জানান এবং জাতিসংঘের সমুদ্র আইনবিষয়ক সনদ (ইউএনক্লস) অনুসরণ করে শান্তিপূর্ণ সংলাপের মাধ্যমে বিরোধ নিষ্পত্তির ওপর গুরুত্বারোপ করেন।

রোহিঙ্গা সংকট প্রসঙ্গে তিনি বলেন, বাংলাদেশ প্রায় এক দশক ধরে মিয়ানমার থেকে জোরপূর্বক বাস্তুচ্যুত ১৩ লাখেরও বেশি রোহিঙ্গাকে মানবিক কারণে আশ্রয় দিয়ে আসছে। দীর্ঘদিন ধরে এ সংকট চলমান থাকায় বাংলাদেশ মাদক পাচার, মানবপাচার এবং অবৈধ অস্ত্রের আন্তঃসীমান্ত চোরাচালানসহ বিভিন্ন ধরনের সীমান্ত-সংশ্লিষ্ট অপরাধের শিকার হচ্ছে।

তিনি এআরএফভুক্ত দেশগুলোর প্রতি আহ্বান জানিয়ে বলেন, মিয়ানমারে এমন পরিবেশ সৃষ্টিতে সম্মিলিতভাবে কাজ করতে হবে, যাতে রাখাইন রাজ্যে রোহিঙ্গাদের নিরাপদ, স্বেচ্ছামূলক, মর্যাদাপূর্ণ ও টেকসই প্রত্যাবাসন নিশ্চিত করা যায়।

বৈঠকে জলবায়ুজনিত নিরাপত্তা চ্যালেঞ্জ নিয়েও কথা বলেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী। তিনি বলেন, জলবায়ু পরিবর্তন ও প্রাকৃতিক দুর্যোগের ঝুঁকিতে থাকা অন্যতম দেশ হিসেবে বাংলাদেশ দুর্যোগ প্রস্তুতি এবং আগাম সতর্কীকরণ ব্যবস্থায় আঞ্চলিক সহযোগিতা আরও জোরদারে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। এআরএফের দুর্যোগ ত্রাণবিষয়ক আন্তঃসেশনাল বৈঠকের সহ-সভাপতি হিসেবে বাংলাদেশ এ বিষয়ে আঞ্চলিক সক্ষমতা বৃদ্ধিতে কাজ অব্যাহত রাখবে।

কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) ও উদীয়মান প্রযুক্তির সম্ভাবনা এবং ঝুঁকির বিষয়টিও তুলে ধরে তিনি সাইবার নিরাপত্তা, ভুয়া তথ্যের বিস্তার এবং উন্নত প্রযুক্তির অপব্যবহার মোকাবিলায় ঘনিষ্ঠ আঞ্চলিক সহযোগিতার আহ্বান জানান। পাশাপাশি অঞ্চলের বাস্তবতার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ একটি আঞ্চলিক প্রযুক্তি শাসন কাঠামো গড়ে তোলার প্রস্তাব দেন।

বক্তব্যের শেষে পররাষ্ট্রমন্ত্রী পারস্পরিক শ্রদ্ধা ও অভিন্ন সমৃদ্ধির ভিত্তিতে আঞ্চলিক সহযোগিতা জোরদারে বাংলাদেশের দৃঢ় অবস্থান পুনর্ব্যক্ত করে বলেন, বাংলাদেশ সবসময় বিভাজনের পরিবর্তে সংলাপ এবং মেরুকরণের পরিবর্তে অংশীদারিত্বকেই বেছে নেবে।