মানিকগঞ্জের শিবালয় উপজেলার উথলি ইউনিয়নে ফজর পাগলার মাজার গেট থেকে ইছামতি নদীর রাস্তা পর্যন্ত ডাবল ইট সলিং রাস্তা নির্মাণকাজে ব্যাপক অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ উঠেছে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে। শিডিউল লঙ্ঘন করে অত্যন্ত নিম্নমানের ইট দিয়ে কাজ করার অভিযোগ করেছেন স্থানীয় এলাকাবাসী।
স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর (এলজিইডি) অফিস সূত্রে জানা যায়, ২০২৫-২০২৬ অর্থবছরের শিবালয় উন্নয়ন তহবিলের এডিপি প্রকল্পের আওতায় ১২০ মিটার ডাবল ইট সলিং রাস্তা নির্মাণের জন্য ৫ লাখ ২২ হাজার ৫০০ টাকা বরাদ্দ পায় ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান মেসার্স আলেয়া এন্টারপ্রাইজ।
এলাকাবাসীর অভিযোগ, কাজ শুরুর পর থেকেই ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের লোকজন অত্যন্ত নিম্নমানের ইট ব্যবহার করছেন। এ বিষয়ে বাধা দেওয়া হলেও তারা কারও কথার তোয়াক্কা না করে ইচ্ছামতো কাজ চালিয়ে যাচ্ছেন। দীর্ঘ প্রতীক্ষার পর এই রাস্তার নির্মাণকাজ শুরু হলেও নিম্নমানের ইট ব্যবহারের কারণে চরম হতাশা প্রকাশ করেছেন স্থানীয়রা।
ক্ষোভ প্রকাশ করে এক স্থানীয় বাসিন্দা বলেন, এই ইট দিয়ে রাস্তা নির্মাণ করলে তা কয়দিনও টিকবে না। সরকারের টাকা লুটপাট করার জন্যই এই ৩ নম্বর ইট ব্যবহার করা হচ্ছে। আমরা টেকসই রাস্তা চাই। তড়িঘড়ি করে কোনো ধরনের নিম্নমানের কাজ আমরা মেনে নেব না।
ঘটনাস্থলে গিয়ে দেখা যায়, শ্রমিকরা প্রকাশ্যেই নিম্নমানের ইট দিয়ে রাস্তার কাজ চালিয়ে যাচ্ছেন। এ বিষয়ে শ্রমিকদের কাছে জানতে চাইলে তারা জানান, আমরা রোজ হাজিরায় কাজ করি। আমাদের এখানে যে ধরনের ইট এনে দেওয়া হবে, আমরা সেই ইট দিয়েই কাজ করব। এর বেশি কিছু আমাদের বলার নেই।
অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে মেসার্স আলেয়া এন্টারপ্রাইজের স্বত্বাধিকারী আজিম দাবি করেন, এখানে ১ নম্বর ইট দিয়েই কাজ করা হচ্ছে। নিম্নমানের কোনো ইট ব্যবহার করা হচ্ছে না। আপনারা ইঞ্জিনিয়ারের সঙ্গে কথা বলেন।
এ বিষয়ে উপজেলা প্রকৌশলী (এলজিইডি) মো. আব্দুর রাজ্জাকের কাছে জানতে চাইলে তিনি বলেন, আমি সাইটে যাব। গিয়ে যদি অনিয়ম পাই, তাহলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
এদিকে দ্রুত এই নিম্নমানের ইট অপসারণ করে কাজের শিডিউল অনুযায়ী ভালো মানের ইট দিয়ে পুনরায় রাস্তাটির নির্মাণকাজ সম্পন্ন করার জোর দাবি জানিয়েছেন স্থানীয় সচেতন মহল।


