ঢাকা শুক্রবার, ২৪ জুলাই, ২০২৬

দল থেকে বহিষ্কার করলেই এমপি পদ যাবে না : ইসি মাছউদ

রূপালী প্রতিবেদক
প্রকাশিত: জুলাই ২৪, ২০২৬, ০৩:০৫ এএম
নির্বাচন কমিশনার (ইসি) আব্দুর রহমানেল মাছউদ। ছবি : সংগৃহীত

রাজনৈতিক দল থেকে বহিষ্কার করা হলেও শুধু সেই কারণেই কোনো সংসদ সদস্যের (এমপি) পদ বাতিল হওয়ার সুযোগ নেই বলে জানিয়েছেন জ্যেষ্ঠ নির্বাচন কমিশনার (ইসি) আব্দুর রহমানেল মাছউদ। তিনি বলেছেন, সংবিধান অনুযায়ী দল থেকে পদত্যাগ করলে এমপি পদ শূন্য হতে পারে, তবে দলীয় বহিষ্কারের ক্ষেত্রে এমন কোনো বিধান নেই।

বৃহস্পতিবার (২৩ জুলাই) নির্বাচন ভবনে নিজ দপ্তরে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এ কথা জানান।

সাতক্ষীরা-৪ আসনের সংসদ সদস্য গাজী নজরুল ইসলামের দলীয় বহিষ্কারের বিষয়ে জানতে চাইলে ইসি মাছউদ বলেন, শুধু রাজনৈতিক দলের সিদ্ধান্তের ভিত্তিতে এমপি পদ নিয়ে কোনো সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে না। সংসদের পক্ষ থেকে কোনো রেফারেন্স বা চিঠি পাওয়ার পর বিষয়টি সংবিধান ও আইন অনুযায়ী পর্যালোচনা করে সিদ্ধান্ত নেবে নির্বাচন কমিশন।

তিনি বলেন, আইন অনুযায়ী দল থেকে পদত্যাগ করলে এমপি পদ না থাকার কথা রয়েছে। কিন্তু দল বহিষ্কার করলে সংবিধান অনুযায়ী এমপি পদ যাওয়ার সুযোগ নেই। সংসদ থেকে রেফারেন্স করলে কমিশন সিদ্ধান্ত নিতে পারে।

ইসি মাছউদ আরও বলেন, সংবিধান অনুযায়ী স্পিকারের মাধ্যমে সংসদের চিঠি পেলে নির্বাচন কমিশন প্রয়োজনীয় আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করতে পারে।
ভিডিও ছড়িয়ে পড়ার পর বহিষ্কার

এর আগে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে জামায়াতে ইসলামীর দাঁড়িপাল্লা প্রতীকে সাতক্ষীরা-৪ আসন থেকে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন গাজী নজরুল ইসলাম।

সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তার একটি অন্তরঙ্গ মুহূর্তের ভিডিও ছড়িয়ে পড়ে। এ ঘটনায় প্রথমে জামায়াতে ইসলামীর নেতাকর্মীদের পক্ষ থেকে দাবি করা হয়, ভিডিওটি কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) ব্যবহার করে তৈরি করা হয়েছে।

পরে সংসদ সদস্য গাজী নজরুল ইসলাম নিজের ফেসবুক পোস্টে ওই নারীকে তার দ্বিতীয় স্ত্রী বলে দাবি করেন।

ঘটনার পর বুধবার (২২ জুলাই) রাজধানীর মিন্টো রোডে বিরোধীদলীয় নেতা শফিকুর রহমানের সরকারি বাসভবনে জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদের জরুরি সভা অনুষ্ঠিত হয়। সভায় মজলিসে শূরার সদস্য গাজী নজরুল ইসলামকে দল থেকে বহিষ্কারের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।

জামায়াতের পক্ষ থেকে জানানো হয়, সাংগঠনিক তদন্তে তার নৈতিক স্খলন প্রমাণিত হওয়ায় দলের গঠনতন্ত্রের ৬২ নম্বর ধারা অনুযায়ী তাকে বহিষ্কার করা হয়েছে। একই সঙ্গে বিষয়টি নির্বাচন কমিশনকে অবহিত করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

তবে নির্বাচন কমিশন জানিয়েছে, দলীয় সিদ্ধান্তের পাশাপাশি সংবিধান ও আইনগত প্রক্রিয়া অনুসরণ করেই এমপি পদ নিয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।