নারায়ণগঞ্জের সিদ্ধিরগঞ্জে বিয়ের চাপ দেওয়াকে কেন্দ্র করে গার্মেন্টসকর্মী সাদিয়া আক্তারকে শ্বাসরোধে হত্যার অভিযোগে তার প্রেমিক আব্দুর রাজ্জাককে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই)। হত্যাকাণ্ডের ১০ দিনের মধ্যেই তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। পরে তিনি আদালতে ফৌজদারি কার্যবিধির ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন।
পিবিআই জানায়, গত ১২ জুলাই রাত ১১টা ৪০ মিনিট থেকে ১৩ জুলাই রাত ১০টার পূর্বে যেকোনো সময়ে সিদ্ধিরগঞ্জের একটি ভাড়া বাসায় সাদিয়া আক্তারকে হত্যা করা হয়। ঘটনার পর নিহতের বড় ভাই মো. রিয়াজ মোল্লা বাদী হয়ে সিদ্ধিরগঞ্জ থানায় নিহতের স্বামী মো. ইব্রাহিম, তার বাবা-মা এবং অজ্ঞাতনামা ব্যক্তিদের আসামি করে হত্যা মামলা দায়ের করেন।
গত ১৬ জুলাই পিবিআই, নারায়ণগঞ্জ জেলা মামলার তদন্তভার গ্রহণ করে। তদন্তে তথ্যপ্রযুক্তির বিশ্লেষণ ও গোপন তথ্যের ভিত্তিতে একই দিন রাতে ঢাকার যাত্রাবাড়ীর কোনাপাড়া এলাকা থেকে এজাহারভুক্ত আসামি মো. ইব্রাহিমকে গ্রেপ্তার করা হয়। তার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে ২১ জুলাই ঢাকার কেরানীগঞ্জের জিঞ্জিরা এলাকা থেকে হত্যাকাণ্ডের মূল আসামি আব্দুর রাজ্জাককে গ্রেপ্তার করে পিবিআই।
পিবিআইর তদন্ত ও আদালতে দেওয়া স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি অনুযায়ী, সাদিয়া আক্তারের সঙ্গে আব্দুর রাজ্জাকের প্রেমের সম্পর্ক ছিল। গত ১ জুলাই থেকে তারা সিদ্ধিরগঞ্জের মিজমিজি বাতানপাড়া এলাকায় স্বামী-স্ত্রীর পরিচয়ে একটি ভাড়া বাসায় একসঙ্গে বসবাস করছিলেন।
তদন্তে জানা যায়, ১২ জুলাই সাদিয়া বিয়ের জন্য চাপ দিলে তাদের মধ্যে তর্ক-বিতর্ক শুরু হয়। একপর্যায়ে আব্দুর রাজ্জাক সাদিয়ার গলা চেপে শ্বাসরোধে হত্যা করেন। পরে মরদেহ ভাড়া বাসায় রেখে তিনি আত্মগোপনে চলে যান।
পিবিআই জানিয়েছে, হত্যাকাণ্ডে অন্য কারও সম্পৃক্ততা রয়েছে কি না, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। মামলার তদন্ত অব্যাহত রয়েছে।

