আওয়ামী লীগ সরকারের সাড়ে ১৫ বছরে বিদ্যুৎ ও জ্বালানি খাতের ‘একচ্ছত্র অধিপতি’ হিসেবে পরিচিত সামিট গ্রুপ আবারো নতুন কৌশল নিয়ে ময়দানে নেমেছে। ৫ আগস্টের রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর শীর্ষ নির্বাহীরা দেশ ছেড়ে পালালেও ব্যাকডোর দিয়ে বর্তমান সরকারের ওপর প্রভাব বিস্তারের অপচেষ্টা চালাচ্ছে গ্রুপটি। হাজার হাজার কোটি টাকার অবৈধ সম্পদ, অর্থপাচার, ব্যাংক হিসাব জব্দ ও আদালতের নিষেধাজ্ঞা মাথায় নিয়ে সিঙ্গাপুরে বসে আবারও বাংলাদেশের জ্বালানি খাত দখলের ছক কষছেন গ্রুপের কর্ণধার আজিজ খান। রূপালী বাংলাদেশের অনুসন্ধানে জানা গেছে, সরকারের একটি দায়িত্বশীল মহলকে নানাভাবে বুঝিয়ে বিদেশি বিনিয়োগের চটকদার কৌশলে তারা আবারও রাজত্ব ফেরাতে মরিয়া হয়ে উঠেছে।
জাপানি বিনিয়োগকারীদের বিভ্রান্ত করার ষড়যন্ত্র : অনুসন্ধানে জানা যায়, সিঙ্গাপুরে অবস্থান করে সামিট গ্রুপ একদিকে দেশে ‘বিনিয়োগ আনার গল্প’ ফাঁদছে, অন্যদিকে বিদেশি অংশীদারদের বিভ্রান্ত করার দ্বিমুখী নীতি গ্রহণ করেছে। তাদের প্রধান লক্ষ্য এখন বাংলাদেশের অন্যতম উন্নয়ন সহযোগী ও বন্ধুপ্রতিম রাষ্ট্র জাপান। অতিসম্প্রতি, ২০২৬ সালের ৮ এপ্রিল সিঙ্গাপুর ও জাপানে অনুষ্ঠিত কয়েকটি গোপন বৈঠকে সামিট চেয়ারম্যান আজিজ খান জাপানের অন্যতম শীর্ষ বিনিয়োগকারী প্রতিষ্ঠান ‘জেরা’ (জেডইআরএ)-এর চেয়ারম্যান এবং সিইও ইউকিও ক্যানির সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন। তথ্যভিত্তিক সূত্রগুলো বলছে, সেখানে বাংলাদেশে নতুন বিনিয়োগ স্থগিত করা এবং চলমান অংশীদারিত্ব থেকে সরে আসার মতো ক্ষতিকর পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। অর্থাৎ, নিজেরা সরাসরি না পারলেও বিদেশি সহযোগীদের দিকভ্রান্ত করে দেশের বিদ্যুৎ খাতকে জিম্মি করার এক অশুভ চক্রান্ত চলছে।
দুদক ও সিআইডির সাঁড়াশি অভিযানে একের পর এক দুর্নীতির থোকা : গত দেড় দশকে কোনো ধরনের প্রতিযোগিতা বা স্বচ্ছ দরপত্র ছাড়াই কুইক রেন্টাল ও আইপিপি (ইনডিপেনডেন্ট পাওয়ার প্রডিউসার) চুক্তির মাধ্যমে সামিট গ্রুপ আনুমানিক ৩৬ হাজার কোটি টাকা আয় করেছে। কোনো বিদ্যুৎ উৎপাদন না করেই বসে বসে ‘ক্যাপাসিটি চার্জ’ বা সক্ষমতা ব্যয় বাবদই তারা সরকারি কোষাগার থেকে হাতিয়ে নিয়েছে ১০ হাজার ৬২৩ কোটি টাকা, যা সরকারের মোট গচ্চা যাওয়া খরচের প্রায় ১২ শতাংশ। ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানের পর দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক), বিএফআইইউ এবং সিআইডি এই গ্রুপের অনিয়ম-দুর্নীতির বিরুদ্ধে ইতিহাসের বৃহত্তম অনুসন্ধানে নেমেছে। দুদকের প্রাথমিক তদন্ত ও আদালতে পেশকৃত নথিতে চাঞ্চল্যকর তথ্য উঠে এসেছে।
দুদকের উপপরিচালক (জনসংযোগ) আকতারুল ইসলাম রূপালী বাংলাদেশকে বলেন, সামিটের চেয়ারম্যান আজিজ খান, তার স্ত্রী আনজুমান আজিজ এবং মেয়ে আয়েশা আজিজের নামে প্রায় ৭১১ কোটি টাকার অবৈধ ও অপ্রদর্শিত সম্পদের তথ্য পাওয়া গেছে অনুসন্ধানে। চলতি বছরের মার্চে আদালতের নির্দেশে আজিজ খান ও তার পরিবারের ১৯১টি ব্যাংক হিসাব জব্দ করা হয়। পরবর্তীতে ৪ মে লুক্সেমবার্গে অবস্থিত তাদের একটি স্বার্থসংশ্লিষ্ট কোম্পানির সাড়ে ৫৬ কোটি টাকা মূল্যের শেয়ার অবরুদ্ধ করে আদালত।
কানাডার ইউনিভার্সিটি অব ব্রিটিশ কলম্বিয়ার অর্থনীতিবিষয়ক অধ্যাপক ড. খান জহিরুলের এক বিশ্লেষণে দেখা যায়, ২০০১-০৬ সাল থেকেই বিদ্যুৎ খাতে সামিট প্রায় ১১০০ কোটি টাকার কর ফাঁকি দিয়ে আসছে। এ ছাড়া ২০১৩ সালে সরকারের কাছ থেকে বিশেষ সুবিধায় ফার্নেস অয়েল আমদানির অনুমতি নিয়ে ‘ওভার-ইনভয়েসিং’-এর মাধ্যমে কোটি কোটি টাকা বিদেশে পাচারের অভিযোগের সত্যতা পায় কাস্টমস ও বিপিসি।
জানা যায়, বিদ্যুৎ খাতে ২০১৮-১৯ থেকে ২০২৩-২৪ অর্থবছর পর্যন্ত ৬ বছরে উৎসে কর ফাঁকি দিয়েছে প্রায় ৪৬৫ কোটি টাকা। একই সঙ্গে সামিট করপোরেশনের মোট শেয়ারের মধ্যে ৯৯ দশমিক ৯৯ শতাংশ শেয়ারের মালিক সিঙ্গাপুরের সামিট পাওয়ার ইন্টারন্যাশনাল লিমিটেড। আয়কর আইন অনুযায়ী, বাংলাদেশে অবস্থিত বিদেশি কোনো কোম্পানিকে লভ্যাংশ উদ্ভূত হলে তার ওপর উৎসে কর কর্তন করতে হয়। কিন্তু সামিট করপোরেশন সামিট পাওয়ার ইন্টারন্যাশনালকে লভ্যাংশ পরিশোধের সময় উৎসে কর কর্তন করেনি। পাঁচ কর-বছরে এতে উৎসে কর ফাঁকি দেওয়া হয়েছে প্রায় ৬৪৭ কোটি টাকা। অন্যদিকে সামিট করপোরেশন লিমিটেড ২০১৮-১৯ থেকে ২০২২-২৩ অর্থবছর পর্যন্ত মোট লভ্যাংশ ঘোষণা বা প্রদান করেছে দুই হাজার ৯১৭ কোটি ৭১ লাখ ৩২ হাজার ৩৭৪ টাকা। যার ওপর প্রযোজ্য উৎসে কর দাঁড়ায় ৪৩৭ কোটি ৬৫ লাখ ৬৯ হাজার ৮৫৬ টাকা। প্রতিষ্ঠানটি এক টাকাও উৎসে কর কর্তন করেনি। ৫ বছরে সুদসহ এ উৎস কর দাঁড়িয়েছে ৬৪৭ কোটি ৭৩ লাখ ২৩ হাজার ৩৮৭ টাকা। অর্থাৎ সামিট পাওয়ার সামিট করপোরেশন এবং সামিট করপোরেশন সামিট পাওয়ার ইন্টারন্যাশনালকে লভ্যাংশ প্রদানের ক্ষেত্রে মোট এক হাজার ১১২ কোটি ৮০ লাখ টাকার উৎসে কর কর্তন না করে ফাঁকি দিয়েছে।
তথ্যপ্রযুক্তি ও টেলিকম খাতেও একচ্ছত্র দাপট : বিদ্যুৎ খাতের পাশাপাশি দেশের আইটি ও তথ্যপ্রযুক্তি খাতকেও একপ্রকার জিম্মি করে রেখেছে সামিট। সামিট কমিউনিকেশনস ও ফাইবার অ্যাট হোম নামের দুটি প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে তারা ইন্টারনেটের সামগ্রিক ব্যান্ডউইথের প্রায় ৫০ শতাংশ নিয়ন্ত্রণ করত। যার ধারাবাহিকতা বজায় রাখতে বর্তমান সরকারের সঙ্গেও আঁতাত করতে মরিয়া হয়ে উঠেছে প্রতিষ্ঠানটি।
দুদকের অনুসন্ধানে জালিয়াতির প্রমাণ মেলায় ২০২৫ সালের ২৬ আগস্ট সামিট কমিউনিকেশনসের চেয়ারম্যান মোহাম্মদ ফরিদ খান (আজিজ খানের ভাই) এবং বিটিআরসির সাবেক চেয়ারম্যান ও কর্মকর্তাসহ ৭ জনের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করা হয়। মামলায় প্রায় ১০ কোটি ২৪ লাখ টাকার রাজস্ব ফাঁকির অভিযোগ আনা হয়, যেখানে বেআইনিভাবে ১৪ কোটি ২০ লাখের বেশি শেয়ার ইস্যু করে সরকারি রাজস্ব আত্মসাৎ করা হয়েছিল। এ ছাড়া গাজীপুরের কালিয়াকৈর হাইটেক পার্ক নির্মাণকালেও সামিট গ্রুপ অন্তত ১০০ কোটি টাকার কর ফাঁকি দিয়েছে বলে জানা গেছে।
দায়মুক্তির অন্তরালে লুটপাট ও আগামী দিনের বার্তা : আওয়ামী লীগের তিন মেয়াদে বিদ্যুৎ ও জ্বালানি খাতে সর্বমোট খরচ দেখানো হয়েছে তিন লাখ ৪৮ হাজার ৮২৫ কোটি টাকা। এর একটি বড় অংশই কুইক রেন্টালের ‘দায়মুক্তি আইন’-এর সুযোগ নিয়ে কয়েকটি নির্দিষ্ট ব্যবসায়ী গোষ্ঠীর পকেটে গেছে। যার শীর্ষে অবস্থান ছিল ফারুক খান এমপি ও আজিজ খানের সামিট গ্রুপ। মহেশখালীতে বিতর্কিত ভাসমান এলএনজি টার্মিনাল (এলএনজি) নির্মাণ কিংবা নারায়ণগঞ্জের মেঘনাঘাটে ৬০০ মেগাওয়াটের গ্যাসভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্র প্রতিটি ক্ষেত্রেই নিয়মনীতির তোয়াক্কা না করে সামিটকে পাইকারি হারে সুবিধা দেওয়া হয়েছিল।
বাংলাদেশে দুর্নীতির তদন্ত, বিদেশে সামিটের বিস্তৃত সাম্রাজ্য : বাংলাদেশে দুর্নীতি, অর্থপাচার ও অবৈধ সম্পদের অনুসন্ধানের খাঁড়ায় রয়েছে সামিট গ্রুপ। অথচ দেশের বাইরেই গড়ে উঠেছে প্রতিষ্ঠানটির বিশাল করপোরেট নেটওয়ার্ক। সিঙ্গাপুরের নাগরিকত্ব নেওয়া সামিট চেয়ারম্যান মুহাম্মদ আজিজ খান এখন সেখান থেকেই পরিচালনা করছেন তার আন্তর্জাতিক ব্যবসা। অন্যদিকে ইউরোপের আর্থিক কেন্দ্র লুক্সেমবার্গে রয়েছে সামিটের শত শত কোটি টাকার শেয়ার ও বিনিয়োগ।
সরকারকে ম্যানেজ করে বিদ্যুৎ-জ্বালানি খাতে ফিরতে মরিয়া সামিট : আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর দুর্নীতি, অর্থপাচার, কর ফাঁকি ও অবৈধ সম্পদ অর্জনের অভিযোগে দেশের অন্যতম আলোচিত শিল্পগোষ্ঠী সামিট গ্রুপের বিরুদ্ধে শুরু হয়েছে একের পর এক তদন্ত। দুদক, বাংলাদেশ ফাইন্যান্সিয়াল ইন্টেলিজেন্স ইউনিট (বিএফআইইউ), পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি) এবং অন্যান্য সংস্থার অনুসন্ধানে সামিট চেয়ারম্যান মুহাম্মদ আজিজ খান ও তার পরিবারের বিপুল সম্পদের তথ্য উঠে এসেছে। আদালতের নির্দেশে জব্দ হয়েছে শতাধিক ব্যাংক হিসাব, বিদেশে অবরুদ্ধ করা হয়েছে কোটি কোটি টাকার শেয়ার। কিন্তু এসব তদন্তের মধ্যেই আবারও দেশের বিদ্যুৎ-জ্বালানি খাতে নিজেদের আগের অবস্থান ফিরে পেতে মরিয়া হয়ে উঠেছে সামিট গ্রুপ।
সামিট গ্রুপের বক্তব্য : তবে নিজের কোম্পানির বিরুদ্ধে আনা সব অভিযোগ অস্বীকার করে সামিট পাওয়ার লিমিটেডের চেয়ারম্যান মোহাম্মদ লতিফ খান রূপালী বাংলাদেশকে বলেন, আমাদের প্রকৌশলীরা গত ১৫ বছর ধরে কোনো বড় ধরনের যান্ত্রিক ত্রুটি বা নিরাপত্তাজনিত সমস্যা ছাড়াই অত্যন্ত পেশাদারিত্বের সঙ্গে এসব বিদ্যুৎকেন্দ্র পরিচালনা করেছেন এবং বাংলাদেশ সরকারের সঙ্গে সম্পাদিত বিদ্যুৎ ক্রয় চুক্তি সফলভাবে সম্পন্ন করেছেন। সামিটের আরও দুটি পুরোনো বিদ্যুৎকেন্দ্র আশুলিয়া-১ (২০০৩) এবং মাধবদী-১ (২০০৩), যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের ইঞ্জিন ব্যবহৃত হয়েছে প্রাথমিক ১৫ বছরের মেয়াদ এবং পরবর্তী ৫ বছরের প্রথম নবায়নের পর দ্বিতীয়বারের মতো বিদ্যুৎ ক্রয় চুক্তির নবায়ন পেয়েছিল। তবে গ্যাস সরবরাহ না থাকায় চলতি বছরে এসব কেন্দ্র পরিচালিত হয়নি।
বিশেষজ্ঞরা যা বলছেন : বিশেষজ্ঞদের মতে, সামিটের চরম অনিয়ম ও দুর্নীতি বাংলাদেশের অর্থনীতিকে দীর্ঘমেয়াদে দুস্থ করে ফেলেছে। নতুন বাংলাদেশে যখন অর্থপাচারকারীদের বিচার ও এই খাতের সংস্কারের দাবি উঠেছে, তখন পুরোনো ‘বিদ্যুৎ মাফিয়া’ যদি নতুন কোনো চাটুকারিতার মাধ্যমে প্রশাসনিক প্রক্রিয়ায় প্রবেশ করে, তবে তা হবে চরম হতাশাজনক। তাই বর্তমান অন্তর্বর্তীকালীন সরকার ও সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলোর উচিত সামিটের যেকোনো চক্রান্ত রুখে দিয়ে এই পুরো বিদ্যুৎ-জ্বালানি খাতকে একটি স্বচ্ছ ও জবাবদিহিমূলক কাঠামোর অধীনে আনা। সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগের (সিপিডি) গবেষণা পরিচালক ড. খন্দকার গোলাম মোয়াজ্জেম রূপালী বাংলাদেশকে বলেন, ২০০৯-১০ সালের বিদ্যুৎ খাত এবং এখনকার বিদ্যুৎ খাত এক নয়। তখন জরুরিভিত্তিতে বিদ্যুৎ উৎপাদনের জন্য ভাড়াভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলোর সঙ্গে চুক্তি করা হয়েছিল। চুক্তিগুলো ছিল তিন থেকে পাঁচ বছরের। কিন্তু এরপর এগুলোর সঙ্গে একই শর্তে কেন চুক্তি নবায়ন করা হলো আমি বুঝতে পারছি না। সামিটের মতো কোম্পানিগুলো এখনো যদি তাদের একচ্ছত্র আধিপত্য বিস্তার করে টাকা পাচারের জন্য মরিয়া হয়ে ওঠে তা হলে তা দেশের জন্য অশনিসংকেত বলেই আমি মনে করি।
হাজার কোটি টাকা আত্মসাতের অভিযোগে দুদকের সংবাদ সম্মেলন : এদিকে গতকাল বৃহস্পতিবার বিদ্যুৎ খাতে সামিট গ্রুপের হাজার কোটি টাকা আত্মসাতের অভিযোগ অনুসন্ধানে বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ড ও বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশনের তথ্য চেয়ে চিঠি দিয়েছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। সম্প্রতি দুদকের প্রধান কার্যালয় থেকে সংস্থাটির উপপরিচারক ও যৌথ টিম প্রধান মো. আলমগীর হোসেনে সই করা পাঠানো পৃথক চিঠির সূত্রে এসব তথ্য জানা গেছে। চিঠিতে আগামী ৩০ জুলাইয়ের মধ্যে সংশ্লিষ্ট নথিপত্র সরবরাহ করার জন্য অনুরোধ জানানো হয়েছে।

