ইরান ও ইসরায়েলের মধ্যকার চলমান যুদ্ধের খবর ছড়িয়ে পড়ার পর থেকেই জ্বালানি তেলের কৃত্রিম সংকট ও মূল্যবৃদ্ধির আশঙ্কায় সাতক্ষীরা জেলা জুড়ে পেট্রোল পাম্পগুলোতে তৈরি হয়েছে তীব্র ভিড়। রাত বাড়লেও বাইকারদের দীর্ঘ লাইন কমছে না, বরং সময় বাড়ার সাথে সাথে পাম্পগুলোতে গ্রাহকদের উপস্থিতি আরও বাড়ছে।
বৃহস্পতিবার রাত সাড়ে ৮ টায় শহরের সংগ্রাম পাম্পসহ জেলার একাধিক স্থানে সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, অন্যান্য স্বাভাবিক দিনের তুলনায় পাম্পগুলোতে বাইকার ও ছোট যানচালকদের দীর্ঘ সারি। পেট্রোল ও অকটেন নিতে ঘণ্টার পর ঘণ্টা লাইনে দাঁড়িয়ে অপেক্ষা করছেন শতাধিক মোটরসাইকেল চালক। এদিকে সাতক্ষীরা পাটকেলঘাটা মজুমদার তেল পাম্পে এসে দেখা যায় মটরসাইকেল চালকরা তেল নিতে এসে তেল নিতে না পেরে ফিরে যাচ্ছে। এবিষয়ে তেল পাম্প ম্যানেজার এর কাছে জানতে চাইলে তিনি বলেন হটাৎ করে সকাল থেকে মোটরসাইকেল এর এতো চাপ তেল ফুরিয়ে গিয়েছে। এজন্য ফিরেয়ে দেওয়া হচ্ছে। তিনি আরো বলেন আন্তর্জাতিক বাজারে যুদ্ধাবস্থার কারণে তেলের দাম বেড়ে যেতে পারে কিংবা সংকট তৈরি হতে পারে এমন গুজবে আতঙ্কিত হয়ে চালকেরা অতিরিক্ত তেল সংগ্রহ (Panic Buying) করার চেষ্টা করছে। তবে তেলের কনো সংকট নাই বলে আমরা বাইকার চালকদের বুঝানোর চেষ্টা করলেও তারা বুঝতেছে না।
লাইনে দাঁড়িয়ে থাকা মোটরসাইকেল চালক হাবিবুর রহমান বলেন, শুনলাম তেলের দাম বাড়বে এবং সংকট দেখা দেবে। পরে যদি তেল না পাওয়া যায় বা দাম বাড়ে, তাই আগেভাগেই নিতে আসলাম। কিন্তু পাম্পে এসে দেখি দীর্ঘ লাইন, আধা ঘণ্টার বেশি সময় ধরে দাঁড়িয়ে আছি।
আরেক চালক দীপ্ত দাশ আক্ষেপ করে বলেন, আমরা বিপদে আছি, আবার সেই আগের মতো লাইনে দাঁড়িয়ে অকটেন নিতে হচ্ছে। পাম্প ম্যানেজার বলছেন তেলের ঘাটতি নেই, কিন্তু আমরা তো পুরোপুরি বিশ্বাস করতে পারছি না।
তবে পাম্প কর্তৃপক্ষ ও জেলা প্রশাসন জানিয়েছে, বর্তমানে জেলায় তেলের কোনো বাস্তব ঘাটতি বা সংকট নেই। সাধারণ মানুষের মধ্যে তেল ফুরিয়ে যাওয়ার মনস্তাত্ত্বিক আতঙ্ক কাজ করায় সবাই একযোগে পাম্পগুলোতে ভিড় করছেন, যার ফলে সাময়িক জটলা ও দীর্ঘ লাইন তৈরি হচ্ছে।
এদিকে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে বিশেষ উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। সাতক্ষীরা জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে খুলনা ডিপো কর্তৃপক্ষের সাথে যোগাযোগ করে নিশ্চিত করা হয়েছে যে, জ্বালানি তেলের মজুদ ও সরবরাহে কোনো সংকট নেই। জনসাধারণের বিভ্রান্তি দূর করতে জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে সচেতনতামূলক মাইকিংও করা হচ্ছে।
প্রশাসনের পক্ষ থেকে গুজবে কান না দেওয়া এবং আতঙ্কিত হয়ে অতিরিক্ত তেল না কেনার আহ্বান জানানো হয়েছে। পাশাপাশি পাম্পগুলোতে সার্বিক পরিস্থিতি মনিটরিং করার এবং কেউ যেন কৃত্রিম সংকট তৈরি করে অতিরিক্ত দামে তেল বিক্রি করতে না পারে, সে বিষয়ে নজরদারি বাড়ানোর দাবি জানিয়েছেন স্থানীয় সচেতন মহল।

