ঢাকা বৃহস্পতিবার, ২৩ জুলাই, ২০২৬

সালথায় ৯ বছরের শিশুকে ধর্ষণ, ছয় বছর পর আসামির যাবজ্জীবন

সালথা (ফরিদপুর) প্রতিনিধি
প্রকাশিত: জুলাই ২৩, ২০২৬, ০৮:৩১ পিএম
ছবি : রূপালী বাংলাদেশ

ফরিদপুরের সালথায় নয় বছর বয়সী এক শিশুকে ধর্ষণের দায়ে শওকত মিয়া (৩৮) নামে এক ব্যক্তিকে যাবজ্জীবন সশ্রম কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত। একই সঙ্গে তাকে এক লাখ টাকা অর্থদণ্ড এবং অনাদায়ে আরও এক বছরের বিনাশ্রম কারাদণ্ডের আদেশ দেওয়া হয়েছে।

বৃহস্পতিবার (২৩ জুলাই) দুপুরে ফরিদপুরের নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক (জেলা ও দায়রা জজ) আবুল বাসার আসামির উপস্থিতিতে এ রায় ঘোষণা করেন। রায় ঘোষণার পর দণ্ডপ্রাপ্ত শওকত মিয়াকে পুলিশ পাহারায় জেলা কারাগারে পাঠানো হয়। তিনি ফরিদপুরের সালথা উপজেলার বড় বাংরাইল গ্রামের সিরাজ মিয়ার ছেলে।

মামলার এজাহার ও আদালত সূত্রে জানা যায়, ২০২০ সালের ২২ মে বিকেলে উপজেলার তৃতীয় শ্রেণিতে পড়ুয়া নয় বছর বয়সী শিশুটি বাড়ির পাশের শাক-সবজির ক্ষেত দেখতে যায়। এ সময় আগে থেকে ওত পেতে থাকা প্রতিবেশী শওকত মিয়া শিশুটিকে জোরপূর্বক পাশের একটি নির্জন পাটক্ষেতে নিয়ে ধর্ষণ করে। পরে গুরুতর অসুস্থ অবস্থায় স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের ওয়ান-স্টপ ক্রাইসিস সেন্টারে (ওসিসি) ভর্তি করেন।

ঘটনার পরদিন ভুক্তভোগী শিশুর বাবা বাদী হয়ে সালথা থানায় শওকত মিয়াকে একমাত্র আসামি করে মামলা দায়ের করেন। তদন্ত শেষে ২০২০ সালের ৫ অক্টোবর সালথা থানা পুলিশ তার বিরুদ্ধে আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করে। দীর্ঘ বিচারিক প্রক্রিয়ায় সাক্ষীদের সাক্ষ্য, চিকিৎসা প্রতিবেদন ও অন্যান্য প্রমাণ পর্যালোচনা শেষে ঘটনার প্রায় ছয় বছর পর আদালত এ রায় প্রদান করেন।

রায়ের বিষয়টি নিশ্চিত করে রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী (পিপি) অর্চনা দাস বলেন, এই রায়ের মাধ্যমে ভুক্তভোগী পরিবার ন্যায়বিচার পেয়েছে। শিশুদের বিরুদ্ধে সংঘটিত যৌন সহিংসতার ঘটনায় এ ধরনের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি অপরাধীদের জন্য কঠোর বার্তা বহন করবে এবং ভবিষ্যতে এ ধরনের অপরাধ প্রতিরোধে ইতিবাচক ভূমিকা রাখবে।

দীর্ঘ ছয় বছর পর আলোচিত এ মামলার রায় ঘোষণায় ভুক্তভোগী পরিবারের সদস্যরা সন্তোষ প্রকাশ করেছেন।