ঢাকা বৃহস্পতিবার, ২৩ জুলাই, ২০২৬

জুলাইয়ের রক্ত বৃথা যাবে যদি শিশুরা মানুষ না হয় : ডেপুটি স্পিকার

কলমাকান্দা (নেত্রকোনা) প্রতিনিধি 
প্রকাশিত: জুলাই ২৩, ২০২৬, ০৮:৪৮ পিএম
ছবি : রূপালী বাংলাদেশ

জুলাই গণঅভ্যুত্থানের শহীদদের আত্মত্যাগ তখনই সার্থক হবে যখন আজকের শিশুদের প্রকৃত মানুষ হিসেবে গড়ে তোলা যাবে বলে মন্তব্য করেছেন জাতীয় সংসদের ডেপুটি স্পিকার ও নেত্রকোনা-১ আসনের সংসদ সদস্য ব্যারিস্টার কায়সার কামাল।

বৃহস্পতিবার (২৩ জুলাই) দুপুরে কলমাকান্দা উপজেলা পরিষদ হলরুমে প্রাথমিক বৃত্তি পরীক্ষা-২০২৫ এ বৃত্তিপ্রাপ্ত ৯৪ জন কৃতি শিক্ষার্থীর সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে তিনি বৃত্তিধারীদের শপথ বাক্য পাঠ করান।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে ডেপুটি স্পিকার বলেন, সরকার প্রাথমিক শিক্ষাকে সুন্দর করতে বিনামূল্যে বই, ব্যাগ ও জুতা দিচ্ছে। শিক্ষকদের বেতন ভাতা ও পেনশন সুবিধাও বাড়ানো হয়েছে। কিন্তু এরপরও অনেক স্কুলে কাঙ্ক্ষিত ফলাফল বা শিক্ষার্থীর উপস্থিতি পাওয়া যাচ্ছে না। তিনি বলেন, “চারতলা বা দোতলা সুন্দর ভবন আছে, কিন্তু শ্রেণিকক্ষে মাত্র চার পাঁচজন শিক্ষার্থী। এমন চিত্র মেনে নেওয়া যায় না। সুন্দর ভবন থাকলেই হবে না, শ্রেণিকক্ষে শিক্ষার্থীও থাকতে হবে।”

শিক্ষকদের উদ্দেশে ব্যারিস্টার কায়সার কামাল বলেন, নিজের সন্তানের পাশাপাশি সাধারণ শিক্ষার্থীদেরও নিজের সন্তানের মতো দেখতে হবে। কারণ একজন শিশুর সারা জীবনের মানসিকতা ও দায়বদ্ধতা প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষকদের হাতেই গড়ে ওঠে। শিক্ষক-শিক্ষিকাদের মানসিকতার পরিবর্তন না হলে ভবন দিয়ে শিক্ষার মান বাড়ানো যাবে না।

জুলাই গণঅভ্যুত্থানের প্রসঙ্গ টেনে তিনি আরও বলেন, যে গণঅভ্যুত্থানের মাধ্যমে ছাত্ররা রক্ত দিয়ে দেশ স্বাধীন করেছে, কলমাকান্দার চারজন মানুষ সেখানে জীবন দিয়েছেন। তাদের আত্মত্যাগের মর্যাদা রাখতে হলে আমাদের সন্তানদের মানুষের মতো মানুষ করতে হবে। এরপর তিনি উপস্থিত বৃত্তিপ্রাপ্ত শিক্ষার্থীদের হাত তুলে শপথ করান। শিক্ষার্থীরা অষ্টম শ্রেণিতেও বৃত্তি অর্জন এবং ভবিষ্যতে সুনাগরিক হয়ে দেশ গঠনে ভূমিকা রাখার অঙ্গীকার করে।

উল্লেখ্য, প্রাথমিক বৃত্তি পরীক্ষা-২০২৫ এ কলমাকান্দা উপজেলায় ৫৩ জন ট্যালেন্টপুল ও ৪১ জন সাধারণ গ্রেডসহ মোট ৯৪ জন শিক্ষার্থী বৃত্তি পেয়েছে। অনুষ্ঠানে তাদের প্রত্যেককে সম্মাননা ক্রেস্ট প্রদান করা হয়।

কলমাকান্দা উপজেলা প্রশাসনের আয়োজনে অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. শামছুজ্জামান আসিফ। বিশেষ অতিথি ছিলেন প্রাথমিক শিক্ষা ময়মনসিংহ বিভাগের উপ-পরিচালক মো. রফিকুল ইসলাম তালুকদার, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক মুনমুন জাহান লিজা এবং জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মো. শহীদুল আজম। শিক্ষার্থীদের পক্ষে অনুভূতি প্রকাশ করে মালিহা মিলি ও আবিদ হাসান। অনুষ্ঠানে শিক্ষক, অভিভাবক, জনপ্রতিনিধি ও গণমাধ্যমকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।