এভাবেই রাজধানীর রামপুরায় দিনে দুপুরে হত্যা করা হয় শীর্ষ সন্ত্রাসী কাইল্লা পলাশকে। গোয়েন্দা সংস্থার ধারণা, এলাকায় আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে জেলে বসেই এই কিলিং মিশনের পরিকল্পনা করে আরো দুই সন্ত্রাসী। কারাগারের অন্ধকার থেকে এমন সব অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডের পরিকল্পনা হচ্ছে হর-হামেশাই। কেউ কেউ মোবাইলে চালিয়ে যাচ্ছেন চাঁদাবাজি দখলদারিত্ব, এলাকার ব্যবসা নিয়ন্ত্রণ।
এখানেই শেষ নয়, হাজত থেকে আদালতে যাওয়ার সময়ও পুলিশকে হাত করে বন্দীরা থামেন বিভিন্ন জায়গায়। আর জেলের ভেতর মাদকের ছড়াছড়ি বহু পুরনো ঘটনা। এসব রোধে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার সাহায্য নিচ্ছে কারা কর্তৃপক্ষ। প্রথম ধাপে কেরানীগঞ্জ ও নারায়ণগঞ্জে বসানো হয়েছে এআই ক্যামেরা, কাজ চলছে কাশিমপুরেও।
কারা মহাপরিদর্শক ব্রিগ্রেডিয়ার জেনারেল সৈয়দ মোতাহের হোসেন বলেন, আগে যেমন শুধুমাত্র ঘটনা ঘটার পর ঘটনায় কে দায়ী অথবা ঘটনা কী হয়েছিল, এটা খুঁজে বের করার চেষ্টা করতাম, এখন কিন্তু ঘটনা ঘটার আগেই ওয়ার্নিং পাওয়ার ক্ষেত্রে খতিয়ে দেখছি এবং ঘটনাগুলোকে প্রতিরোধ করতে পারছি।
কারাগারের ভেতরে মাদক অস্ত্র বা নিষিদ্ধ কোন পণ্য নিয়ে চলাচল করলেই তা শনাক্ত করে সাথে সাথেই জেল কর্তৃপক্ষকে জানিয়ে দেবে এআই ক্যামেরা। কোন বন্দি পালানোর চেষ্টা করলে বেজে উঠবে এলার্ম। আসামিদের কেউ কেউ অপরাধের পরিকল্পনা করলে নির্দিষ্ট কিছু কি-ওয়ার্ড ধরে তা বুঝতে পেরে সতর্ক করবে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা। কারাগারের ভেতরে মোবাইল ব্যবহার ঠেকানোর জন্য বসানো হয়েছে জ্যামার।
সৈয়দ মোতাহের হোসেন আরও বলেন, এই সিসিটিভি সিস্টেমটাতে আমরা এআইটাকে ইনকর্পোরেট করেছি যেটা আসলে আমাদেরকে বিভিন্ন কারাগারে যে বিভিন্ন ইভেন্ট এবং ইনসিডেন্ট হয়; উদাহরণ—কেউ পালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছে, কেউ হ্যাং করার চেষ্টা করছে, কেউ মব ক্রিয়েট করার চেষ্টা করছে, এ রকম টাইপের বিভিন্ন ইভেন্ট ইনসিডেন্ট গুলোকে আমরা এআইকে লার্ন করিয়েছি।
শুধু অপরাধী নয় এআইর সাহায্য নিয়ে কোনো নিরাপত্তাকর্মী দায়িত্ব পালন না করে অলস বসে থাকলেও সেই খবর চলে যাবে সদর দপ্তরে।

সর্বশেষ খবর পেতে রুপালী বাংলাদেশের গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন