স্বার্থান্বেষী কোনো গোষ্ঠীকে রক্ষা করা অত্যন্ত দুঃখজনক ও অগ্রহণযোগ্য বলে মন্তব্য করেছেন প্রতিমন্ত্রী ইশরাক। তিনি বলেছেন, বিভিন্ন বৃহৎ শিল্পগোষ্ঠীর বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগের নিরপেক্ষ, স্বচ্ছ ও আইনানুগ তদন্ত হওয়া উচিত। একই সঙ্গে বিএনপির প্রার্থী ও ত্যাগী নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র ও অপপ্রচার বন্ধের আহ্বান জানান তিনি।
শুক্রবার (২৪ জুলাই) নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে দেওয়া এক পোস্টে এসব কথা বলেন প্রতিমন্ত্রী ইশরাক।
পোস্টে তিনি বলেন, কোনো স্বার্থান্বেষী গোষ্ঠীকে রক্ষা করার চেষ্টা অত্যন্ত দুঃখজনক এবং গ্রহণযোগ্য নয়। তিনি দাবি করেন, বিভিন্ন বৃহৎ শিল্পগোষ্ঠী ও তাদের সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে অতীতে অর্থনৈতিক অনিয়ম, রাজনৈতিক প্রভাব বিস্তার এবং স্বৈরাচারী সরকারকে সহযোগিতার অভিযোগ উঠেছে। সিটি গ্রুপ, এস আলম গ্রুপ, বসুন্ধরা গ্রুপ, মেঘনা গ্রুপ, টিকে গ্রুপ, বেক্সিমকো গ্রুপ, সামিট গ্রুপ, ওরিয়ন গ্রুপ, নাসা গ্রুপ, সিকদার গ্রুপ, নাবিল গ্রুপ, আরামিট গ্রুপ ও জেমকন গ্রুপসহ যেসব প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে সুনির্দিষ্ট অভিযোগ রয়েছে, সেগুলোর নিরপেক্ষ, স্বচ্ছ ও আইনানুগ তদন্ত হওয়া উচিত।
তিনি বলেন, কোনো প্রতিষ্ঠান বা ব্যক্তিকে প্রমাণ ছাড়া দোষী ঘোষণা না করে অভিযোগগুলোর সত্যতা যাচাই করে যথাযথ আইনি ব্যবস্থা নেওয়া প্রয়োজন।
বিএনপির নেতাকর্মীদের প্রসঙ্গে ইশরাক বলেন, যেসব গোষ্ঠী গণমাধ্যম, অর্থ ও রাজনৈতিক পরিচয়ধারী ভাড়াটে ব্যক্তিদের ব্যবহার করে বিএনপির প্রার্থী ও ত্যাগী নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র করবে, তাদের কর্মকাণ্ড রাজনৈতিক ও আইনগতভাবে প্রতিহত করতে হবে। অন্যথায় ভবিষ্যতের স্থানীয় ও জাতীয় নির্বাচনে এর নেতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে।
তিনি আরও বলেন, বিএনপির নেতাকর্মীদের ব্যক্তিস্বার্থের ঊর্ধ্বে দল ও দেশের স্বার্থকে প্রাধান্য দিতে হবে। কোনো ব্যক্তির আর্থিক বা ব্যবসায়িক সুবিধার জন্য দলের একটি আসন, একটি অঞ্চল কিংবা একটি শহরের রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ ক্ষতিগ্রস্ত করার অধিকার কারও নেই।
পোস্টে ইশরাক জানান, প্রথমে দলের শীর্ষ নেতৃত্ব ও প্রধানমন্ত্রীর কাছে এসব বিষয়ে প্রতিকার ও দিকনির্দেশনা চাওয়া হবে। এরপরও যদি ষড়যন্ত্র, অপপ্রচার ও অনৈতিক প্রভাব বিস্তারের চেষ্টা বন্ধ না হয়, তাহলে গণতান্ত্রিক, সাংগঠনিক ও আইনানুগ সব ধরনের পদক্ষেপ নেওয়া হবে।
তিনি আরও বলেন, যারা বিভিন্ন বৃহৎ শিল্পগোষ্ঠীর স্বার্থরক্ষাকারী বা ‘গেটকিপার’ হিসেবে কাজ করছেন, তাদের মনে রাখা উচিত এই ভূমিকা সাময়িক। তার দাবি, শেখ হাসিনার সরকারের সময় যাদের বিরুদ্ধে অর্থায়ন ও দমন-পীড়নে সহযোগিতার অভিযোগ রয়েছে, তাদের আইনের আওতায় আনা উচিত।
একই সঙ্গে তিনি বলেন, কোনো শিল্পপ্রতিষ্ঠান বন্ধ হয়ে হাজারো শ্রমিক-কর্মচারীর জীবিকা ক্ষতিগ্রস্ত হোক, তা তারা চান না। অভিযুক্ত মালিক ও সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের জবাবদিহির আওতায় আনার পাশাপাশি প্রতিষ্ঠানগুলো যেন পেশাদার, স্বচ্ছ ও আইনসম্মত ব্যবস্থাপনায় সচল থাকে, সরকারকে সে ব্যবস্থাও নিশ্চিত করতে হবে। ইশরাক বলেন, তাদের দাবি ব্যক্তিগত প্রতিহিংসা নয়; বরং সত্য উদ্ঘাটন, জবাবদিহি, আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা এবং দলের ত্যাগী নেতাকর্মীদের সম্মান ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করা।

