টেকনাফে পাহাড়ি সশস্ত্র সন্ত্রাসীদের অপহরণ, হত্যা, মাদক কারবার, মুক্তিপণ আদায়, ডাকাতি ও মানবপাচারের ঘটনায় জননিরাপত্তা চরম সংকটে পড়েছে। এসব অপরাধ দমনে সরকার কঠোর পদক্ষেপ নেবে—এমন আশ্বাসের পর ৯০ ঘণ্টার বেশি সময় ধরে আমরণ অনশন পালন করা শিক্ষার্থী সাইফুল ইসলাম জিহাদী অনশন ভেঙেছেন।
গতকাল বৃহস্পতিবার (২৩ জুলাই) সন্ধ্যা ৭টার দিকে জাতীয় প্রেস ক্লাব ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের রাজু ভাস্কর্যের সামনে চলমান অনশনস্থলে গিয়ে কক্সবাজার-৪ (উখিয়া-টেকনাফ) আসনের সংসদ সদস্য শাহজাহান চৌধুরী সাইফুল ইসলাম জিহাদীর সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন। এ সময় তিনি টেকনাফের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নয়নে দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দেন।
সংসদ সদস্যের দেওয়া আশ্বাস এবং দাবিগুলো বাস্তবায়নের প্রতিশ্রুতির পরিপ্রেক্ষিতে সাইফুল ইসলাম জিহাদী অনশন প্রত্যাহার করেন।
এর আগে টেকনাফে অপহরণ, মুক্তিপণ আদায়, ডাকাতি ও মানবপাচার বন্ধ করে সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার দাবিতে তিনি আমরণ অনশন শুরু করেন। বিশেষ করে বাহারছড়াসহ টেকনাফের বিভিন্ন এলাকায় সাম্প্রতিক সময়ে বেড়ে যাওয়া অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ জানিয়ে এ কর্মসূচি পালন করেন তিনি।
এদিকে, সাইফুল ইসলাম জিহাদীর দাবির প্রতি সংহতি জানিয়ে ‘ঢাকা ইউনিভার্সিটি স্টুডেন্ট অ্যাসোসিয়েশন অব উখিয়া-টেকনাফ’ (ডুসাট) চার দফা দাবিতে রাজু ভাস্কর্যের পাদদেশে মানববন্ধনের আয়োজন করে। পরে সংগঠনটির চার দফা দাবি সংবলিত স্মারকলিপিতে সংসদ সদস্যের স্বাক্ষর ও দাবি পূরণের আশ্বাসের পর তিনি অনশন ভাঙেন।
মানববন্ধনে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ও দেশের বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে অধ্যয়নরত উখিয়া-টেকনাফের শিক্ষার্থীরা অংশ নেন। এ ছাড়া বিভিন্ন রাজনৈতিক, সামাজিক, ছাত্র ও পেশাজীবী সংগঠন, মানবাধিকারকর্মী, সাংবাদিক এবং সচেতন নাগরিকরা তার কর্মসূচির প্রতি সংহতি প্রকাশ করেন।
অনশন ভাঙার পর সাইফুল ইসলাম জিহাদী বলেন, সংসদ সদস্যের দেওয়া আশ্বাস দ্রুত বাস্তবায়িত হবে এবং টেকনাফে অপরাধ দমনে দৃশ্যমান পদক্ষেপ নেওয়ার মাধ্যমে সাধারণ মানুষের জানমালের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হবে বলে আশা করি।
এ সময় অনশন করা ওই শিক্ষার্থী চার দফা দাবি তুলে ধরেন। দাবিসমূহ:
১. শক্তিশালী জাতীয় তদন্ত কমিটি করে অপহরণ সিন্ডিকেটের সদস্যদের চিহ্নিতকরণ, গ্রেফতার ও শাস্তি নিশ্চিতকরণ;
২. ভিক্টিমদের তালিকা প্রকাশ ও ক্ষতিপূরণ;
৩. অপহরণের মাধ্যমে মুক্তিপণ আদায় ও হত্যা বন্ধে পাহাড়ি আস্তানায় যৌত বাহিনীর চিরুনি অভিযান;
৪. রোহিঙ্গা ক্যাম্পে গোয়েন্দা নজরদারি ও নিরাপত্তা জোরদার;

