ঢাকা রবিবার, ২৬ জুলাই, ২০২৬

পে-স্কেল নিয়ে দুঃসংবাদ!

রূপালী প্রতিবেদক
প্রকাশিত: জুলাই ২৬, ২০২৬, ০১:১৫ এএম
ছবি : সংগৃহীত

দীর্ঘ ১১ বছর পর নবম জাতীয় পে-স্কেল বাস্তবায়নের প্রত্যাশা আবারও জোরালো হয়েছে। চলতি মাস থেকেই নতুন বেতন কাঠামো কার্যকরের আশা করলেও এখনো সরকারের পক্ষ থেকে কোনো আনুষ্ঠানিক ঘোষণা বা গেজেট প্রকাশ করা হয়নি। তবে বাজেটে অর্থ সংরক্ষণ, সরকারি পর্যায়ের আলোচনা এবং অর্থনৈতিক বাস্তবতা বিবেচনায় ধাপে ধাপে পে-স্কেল বাস্তবায়নের পরিকল্পনা নিয়ে সরকার এগোচ্ছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে।

বিশ্লেষকদের মতে, বর্তমান মূল্যস্ফীতি ও জীবনযাত্রার ব্যয় বিবেচনায় নতুন পে-স্কেল সময়ের দাবি। তবে এটি বাস্তবায়নের জন্য প্রয়োজনীয় অর্থের সংস্থান এবং রাজস্ব ব্যবস্থাপনা সরকারের সামনে বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে।

জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, দেশে বর্তমানে প্রায় সাড়ে ১৪ লাখ সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারী রয়েছেন। নবম জাতীয় পে-স্কেল কার্যকর হলে তাদের বেতন-ভাতা বৃদ্ধি পাবে। পাশাপাশি এমপিওভুক্ত শিক্ষক ও পেনশনভোগীরাও এর আওতায় আর্থিক সুবিধা পাবেন।

২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেটে সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বেতন ও ভাতার জন্য প্রায় ৮৯ হাজার ৮৩৬ কোটি টাকা বরাদ্দ রাখা হয়েছে। পেনশন ও গ্র্যাচুইটিসহ এ খাতে মোট ব্যয়ের পরিমাণ ধরা হয়েছে ১ লাখ ৪১ হাজার ৪৩৪ কোটি টাকা।

এ ছাড়া নতুন বাজেটে ‘জনপ্রশাসন-নিট’ খাতে চলতি অর্থবছরের সংশোধিত বাজেটের তুলনায় অতিরিক্ত ৫৪ হাজার ৫৭২ কোটি টাকা বরাদ্দ রাখা হয়েছে। অর্থ মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, এর মধ্যে প্রায় ৪৪ হাজার কোটি টাকা নতুন পে-স্কেল বাস্তবায়নের জন্য সংরক্ষণ করা হয়েছে। এই অর্থ সরকারি কর্মচারী, এমপিওভুক্ত শিক্ষক এবং পেনশনভোগীদের বেতন-ভাতা বৃদ্ধিতে ব্যয় করা হবে।

তবে অর্থনীতিবিদরা বলছেন, সরকারের ব্যয় বাড়লেও রাজস্ব আদায় সেই হারে বাড়ছে না। ফলে একযোগে নতুন পে-স্কেল বাস্তবায়ন করলে বাজেট ঘাটতি বাড়তে পারে। এতে দেশি-বিদেশি ঋণের ওপর নির্ভরশীলতা বৃদ্ধি এবং অর্থনীতির ওপর অতিরিক্ত চাপ সৃষ্টি হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। একই সঙ্গে দেশীয় ব্যাংক থেকে বেশি ঋণ নেওয়া হলে তারল্য সংকটও দেখা দিতে পারে।

সরকারি সূত্রগুলোও বলছে, বর্তমান অর্থনৈতিক বাস্তবতায় এক ধাপে পুরো পে-স্কেল বাস্তবায়ন করা কঠিন হতে পারে। তাই ধাপে ধাপে বেতন বৃদ্ধি করার পরিকল্পনা নিয়েই এগোচ্ছে সরকার।

সংশ্লিষ্ট সূত্রের দাবি, প্রথম ধাপে মূল বেতন (বেসিক) বৃদ্ধি করা হতে পারে। পরে পর্যায়ক্রমে বিভিন্ন ভাতা ও অন্যান্য আর্থিক সুবিধা যুক্ত করা হবে।

এদিকে নতুন পে-স্কেল বাস্তবায়ন নিয়ে সতর্ক অবস্থান নিয়েছে আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিল (আইএমএফ)। সম্প্রতি অর্থ বিভাগ, জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর) এবং বাংলাদেশ ব্যাংকের সঙ্গে বৈঠকে সংস্থাটি দেশের বর্তমান অর্থনৈতিক পরিস্থিতি বিবেচনায় বেতন কাঠামো বাস্তবায়নে সতর্ক থাকার পরামর্শ দিয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে।

আইএমএফের পর্যবেক্ষণ অনুযায়ী, সরকারের রাজস্ব আয় এখনো প্রত্যাশিত পর্যায়ে পৌঁছায়নি এবং বাজেট ঘাটতির চাপও রয়েছে। এ অবস্থায় বড় পরিসরে বেতন বৃদ্ধি সরকারি ব্যয় বাড়ানোর পাশাপাশি মূল্যস্ফীতির ওপরও নতুন চাপ সৃষ্টি করতে পারে।

অর্থনীতিবিদদের মতে, সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের দীর্ঘদিনের প্রত্যাশা পূরণে নতুন পে-স্কেল বাস্তবায়ন জরুরি। তবে একই সঙ্গে অর্থনীতির ভারসাম্য রক্ষা করাও সমান গুরুত্বপূর্ণ। তাই আর্থিক সক্ষমতা বিবেচনায় পর্যায়ক্রমে পে-স্কেল বাস্তবায়নের পথই সবচেয়ে কার্যকর হতে পারে।

এখন সবকিছু নির্ভর করছে সরকারের চূড়ান্ত সিদ্ধান্তের ওপর। কবে নবম জাতীয় পে-স্কেলের গেজেট প্রকাশ হবে, কী হারে বেতন বাড়বে এবং বাস্তবায়নের সময়সূচি কী হবে—এসব প্রশ্নের উত্তর জানতে অধীর আগ্রহে অপেক্ষা করছেন লাখো সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারী, এমপিওভুক্ত শিক্ষক ও পেনশনভোগীরা।