ঢাকা রবিবার, ২৬ জুলাই, ২০২৬

প্রস্তুত গুলশানের ‘বাড়ি নম্বর ৪১’

পদত্যাগী রাষ্ট্রপতি সাহাবুদ্দিন বঙ্গভবন ছাড়তে পারেন আজ বা কাল

রূপালী প্রতিবেদক
প্রকাশিত: জুলাই ২৬, ২০২৬, ০২:২৭ এএম

সদ্য সাবেক রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন আজ রোববার বা সোমবারের মধ্যে বঙ্গভবন ছাড়তে পারেন বলে জানিয়েছেন বঙ্গভবনের এক কর্মকর্তা। গতকাল নাম প্রকাশ না করার শর্তে রাষ্ট্রপতির সরকারি বাসভবনের এ কর্মকর্তা বলেন, সোমবারের মধ্যে উনি বঙ্গভবন ছাড়তে পারেন। তবে রোববারও (আজ) চলে যেতে পারেন। গিয়ে উনি গুলশানের বাসায় উঠবেন। সেখানে প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে। ওনার ব্যক্তিগত উইং বিষয়টি দেখভাল করছে।

মো. সাহাবুদ্দিন রাষ্ট্রপতির পদ ছাড়তে পারেন বলে কয়েকদিন ধরে যে জল্পনা-কল্পনা চলছিল, শুক্রবার বিকেলে তার অবসান ঘটে। জাতীয় সংসদের স্পিকারের কাছে পদত্যাগপত্র জমা দেন মো. সাহাবুদ্দিন। জাতীয় সংসদের স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন। পদত্যাগপত্রে সাবেক রাষ্ট্রপতি তার শারীরিক অসুস্থতা ও দীর্ঘমেয়াদে চিকিৎসার প্রয়োজনীয়তার কথা বলেছেন।

মো. সাহাবুদ্দিনের পদত্যাগ নিয়ে আলোচনা চলার মধ্যে শুক্রবার বিকেলে গুলশান-১ এর ১২৩ নম্বর রোডের ‘গ্রিন ভিলা’ নামে তার বাসায় গিয়ে নতুন টেলিফোন সংযোগ দেওয়াসহ আনুষঙ্গিক প্রস্তুতি নিতে দেখা যায় সংশ্লিষ্টদের।

পদত্যাগ করার পর এই বাসার পঞ্চম তলায় রাষ্ট্রপতির ওঠার কথা তুলে ধরে বাসার নিরাপত্তা প্রহরী মো. মাছুম সেদিন বলেছিলেন, তিন-চার দিন আগে স্যার এসেছিলেন এই বাসায়। তখন আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যসহ প্রায় শতাধিক লোকজন এসেছিল। বেলা ১১টা ৪৫ মিনিটে উনি এসেছিলেন, এরপর রাত পৌনে ৯টা নাগাদ উনি এখান থেকে চলে গেছেন। ইতোমধ্যে তার বাসায় টুকিটাকি বিভিন্ন কাজ সম্পন্ন করা হয়েছে। এখানে এসবির (স্পেশাল ব্রাঞ্চ) কয়েকজন লোক রয়েছেন।

আওয়ামী লীগ সরকারের সময় ২০২৩ সালের ২৪ এপ্রিল পাঁচ বছরের জন্য রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব নিয়েছিলেন মো. সাহাবুদ্দিন। এক সময় তিনি ছিলেন দুর্নীতি দমন কমিশনের কমিশনার। পরে তাকে রাষ্ট্রপতি পদে নিয়োগ দেওয়া হয়। দায়িত্ব নেওয়ার ১৬ মাসের মাথায় অভাবনীয় এক পরিস্থিতির মধ্যে পড়েন তিনি। ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানে আওয়ামী লীগ সরকারের পতন ঘটে, প্রধানমন্ত্রীর পদ ছেড়ে শেখ হাসিনা চলে যান ভারতে।

এরপর পদ ছাড়ার জন্য মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বাধীন অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ে আন্দোলন আর বিক্ষোভের মুখে পড়েন মো. সাহাবুদ্দিন। তবে, এতদিন দায়িত্ব চালিয়ে গেলেও শুক্রবার দেশের ২২তম রাষ্ট্রপ্রধান মো. সাহাবুদ্দিন মেয়াদের পৌনে দুই বছর বাকি থাকতেই দায়িত্ব থেকে ইস্তফা নিলেন।