ঢাকা রবিবার, ২৬ জুলাই, ২০২৬

জানালেন আইনমন্ত্রী

সেপ্টেম্বরের সংসদ অধিবেশনে নতুন রাষ্ট্রপতি নির্বাচন

রূপালী প্রতিবেদক
প্রকাশিত: জুলাই ২৬, ২০২৬, ০২:২৩ এএম

আগামী সেপ্টেম্বর মাসে বসতে যাওয়া জাতীয় সংসদের নিয়মিত অধিবেশনে নতুন রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হবেন বলে জানিয়েছেন আইন, বিচার ও সংসদবিষয়ক মন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান। নতুন রাষ্ট্রপ্রধান নির্বাচনের জন্য আলাদা কোনো বিশেষ অধিবেশন ডাকার মতো পরিস্থিতি তৈরি হয়নি বলেও উল্লেখ করেন তিনি। গতকাল শনিবার রাজধানীর সিরডাপ মিলনায়তনে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে আইনমন্ত্রী এসব কথা জানান।

সংবিধানের নিয়ম অনুযায়ী রাষ্ট্রপতির পদ শূন্য হলে স্পিকার ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব পালন করেন এবং পরবর্তী ৯০ দিনের মধ্যে জাতীয় সংসদের মাধ্যমে নতুন রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের বিধান রয়েছে। সেই অনুযায়ী, সদ্যোবিদায়ি রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিনের পদত্যাগের পর বর্তমানে জাতীয় সংসদের স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব পালন করছেন।

সদ্যঃসাবেক রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিনের বিরুদ্ধে মামলার বিষয়ে জানতে চাওয়া হলে আইনমন্ত্রী আসাদুজ্জামান জানান, সাবেক রাষ্ট্রপতির মামলা সম্পর্কিত ইস্যুতে এই মুহূর্তে কোনো মন্তব্য করা সমীচীন হবে না। আইনমন্ত্রী আরও জানান, সাম্প্রতিক রাজনৈতিক ঘটনাবলিতে চট্টগ্রামে জুলাই আন্দোলনে আহত আটজনের বিরুদ্ধে করা মামলা পর্যালোচনা করা হচ্ছে। তিনি বলেন, ‘তদন্তে যদি দেখা যায় এই মামলাগুলো মিথ্যা, তবে তা অবিলম্বে প্রত্যাহার করে নেওয়া হবে।’

একই সঙ্গে অপরাধ দমনে সরকারের কঠোর অবস্থানের কথা পুনর্ব্যক্ত করে আইনমন্ত্রী স্পষ্ট জানান, ধর্ষণের মতো গুরুতর অপরাধে কোনো রাজনৈতিক বিবেচনা করা হবে না। মন্ত্রী বলেন, ‘যত বড় রাজনৈতিক নেতাই হোক না কেন, ধর্ষণের কোনো মামলা প্রত্যাহার করা হবে না।’ সীমান্তে নিরাপত্তার বিষয়ে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী দাবি করেন, যৌথ প্রচেষ্টা ও কূটনৈতিক আলোচনার ফলে বর্তমানে সীমান্তে বিএসএফ কর্তৃক নিহতের ঘটনা প্রায় ‘শূন্যের কোঠায়’ নেমে এসেছে।

উল্লেখ্য, ২০২৩ সালের ২৪ এপ্রিল দেশের ২২তম রাষ্ট্রপতি হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করেছিলেন মো. সাহাবুদ্দিন। সংবিধান অনুযায়ী ২০২৮ সালের এপ্রিল পর্যন্ত তাঁর পাঁচ বছরের মেয়াদ থাকার কথা থাকলেও, মেয়াদ শেষ হওয়ার প্রায় দুই বছর আগে স্বাস্থ্যগত কারণ দেখিয়ে  শুক্রবার তিনি পদত্যাগ করেন।

মো. সাহাবুদ্দিনের প্রায় তিন বছরের দায়িত্বকাল ছিল বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাসে অন্যতম প্রধান ঘটনাবহুল অধ্যায়। তার মেয়াদকালেই ২০২৪ সালের জুলাই-আগস্টের গণঅভ্যুত্থানের মধ্য দিয়ে দীর্ঘদিনের ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ সরকারের পতন ঘটে। পরবর্তী সময়ে অন্তর্বর্তীকালীন সরকার গঠন এবং ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পর নতুন সরকার গঠনের প্রক্রিয়া ত০ার মেয়াদেই সম্পন্ন হয়। বাংলাদেশের ইতিহাসে বিরল দৃষ্টান্ত হিসেবে তিনি তার স্বল্পমেয়াদি দায়িত্বকালে মোট তিনজন সরকারপ্রধানকে শপথবাক্য পাঠ করান।