ঢাকা রবিবার, ২৬ জুলাই, ২০২৬

১৮ মন্ত্রীর পুলিশ এসকর্ট সুবিধা বাতিল

রূপালী প্রতিবেদক
প্রকাশিত: জুলাই ২৬, ২০২৬, ১২:২৯ পিএম
ছবি : সংগৃহীত

রাষ্ট্রীয় ব্যয় কমানো, জ্বালানি ব্যবহারে সাশ্রয় এবং পুলিশ বাহিনীর জনবল ও যানবাহনের সীমাবদ্ধতা বিবেচনায় ১৮ জন মন্ত্রীর জন্য বরাদ্দ বিশেষ পুলিশ এসকর্ট সুবিধা প্রত্যাহার করেছে সরকার। তবে দায়িত্বের গুরুত্ব বিবেচনায় ছয়জন জ্যেষ্ঠ মন্ত্রী এবং প্রধানমন্ত্রীর একজন উপদেষ্টার জন্য এই সুবিধা আগের মতোই বহাল রাখা হয়েছে।

সংশ্লিষ্ট একাধিক মন্ত্রীর ব্যক্তিগত কর্মকর্তা ও ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) দায়িত্বশীল কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, গত সপ্তাহ থেকেই ধাপে ধাপে এই সিদ্ধান্ত বাস্তবায়ন শুরু হয়েছে।

সরকারি সূত্র জানায়, বর্তমান সরকার দায়িত্ব গ্রহণের পর রাজধানীতে চলাচলের সময় অধিকাংশ মন্ত্রী বিশেষ পুলিশ এসকর্ট পেয়ে আসছিলেন। বর্তমানে মন্ত্রিসভায় ২৪ জন পূর্ণমন্ত্রী রয়েছেন। নতুন সিদ্ধান্ত অনুযায়ী এসকর্ট সুবিধা বাতিল হলেও প্রচলিত নীতিমালা অনুসারে তারা ব্যক্তিগত নিরাপত্তার জন্য গানম্যান, বাসভবনে হাউজ গার্ড এবং ঢাকার বাইরে সফরের সময় প্রয়োজনীয় পুলিশি নিরাপত্তা আগের মতোই পাবেন।

জানা গেছে, প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনার পর স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ভিআইপি নিরাপত্তা ব্যবস্থার ব্যয় কমাতে পুলিশ সদর দপ্তরকে প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দেয়। পাশাপাশি দীর্ঘদিন ধরে চলমান জনবল ও যানবাহনের সংকটও এই সিদ্ধান্তের পেছনে গুরুত্বপূর্ণ কারণ হিসেবে কাজ করেছে।

সাধারণভাবে একজন মন্ত্রীর এসকর্ট টিমে একজন উপপরিদর্শক (এসআই) এবং চারজন কনস্টেবল দায়িত্ব পালন করেন। তাদের জন্য একটি পুলিশ পিকআপ ভ্যানও বরাদ্দ থাকে। এসব সদস্যের বেতন-ভাতা ও যানবাহনের জ্বালানি ব্যয় সরকারি অর্থ থেকেই বহন করা হয়।

যেসব মন্ত্রী ও একজন উপদেষ্টার জন্য বিশেষ এসকর্ট সুবিধা বহাল রাখা হয়েছে তারা হলেন—স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায়মন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, অর্থ ও পরিকল্পনামন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ, বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদমন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ, মহিলা ও শিশুবিষয়ক মন্ত্রী ডা. আবু জাফর মো. জাহিদ হোসেন, পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমান এবং প্রধানমন্ত্রীর অর্থ ও পরিকল্পনাবিষয়ক উপদেষ্টা ড. রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীর।

ডিএমপির তথ্য অনুযায়ী, বর্তমানে রাজধানীতে ৪৯ জন মন্ত্রী, প্রতিমন্ত্রী ও অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তির নিরাপত্তায় ১ হাজার ৬৯১ জন পুলিশ সদস্য দায়িত্ব পালন করছেন। অথচ প্রয়োজন ২ হাজার ৫৭৫ জন সদস্য। অর্থাৎ প্রায় ৯০০ জন সদস্যের ঘাটতি রয়েছে। এই ঘাটতির কারণে দায়িত্বে থাকা সদস্যদের অতিরিক্ত সময় কাজ করতে হচ্ছে, যা তাদের ওপর বাড়তি শারীরিক ও মানসিক চাপ তৈরি করছে।

পুলিশের দায়িত্বশীল কর্মকর্তারা জানান, জনবল সংকটের পাশাপাশি যানবাহনের স্বল্পতাও নিরাপত্তা ব্যবস্থাপনায় বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে। ২০২৪ সালের জুলাই-আগস্টের আন্দোলনের সময় বিভিন্ন থানা ও পুলিশ স্থাপনায় হামলায় প্রোটেকশন ইউনিটের বেশ কয়েকটি যানবাহন ক্ষতিগ্রস্ত হয়। ফলে বর্তমানে সীমিত সংখ্যক গাড়ি দিয়েই একাধিক ভিআইপির নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে হচ্ছে। জনবল ও যানবাহনের এই সীমাবদ্ধতার মধ্যেই পুলিশকে নিরাপত্তা দায়িত্ব পালন করতে হচ্ছে।