প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের আগামী ১৬ আগস্ট কিশোরগঞ্জ সফরকে ঘিরে প্রস্তুতি শুরু হয়েছে। এ সফরে কটিয়াদীতে জাতীয় মৎস্য পক্ষের উদ্বোধনী অনুষ্ঠান আয়োজনের বিষয় জানিয়ে মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী সুলতান সালাউদ্দিন টুকু বলেছেন, দেশের মোট মৎস্য উৎপাদনের প্রায় ৪০ শতাংশ উৎপাদিত হয় বৃহত্তর ময়মনসিংহে। এ অঞ্চলের মৎস্য উৎপাদন, উদ্যোক্তা ও খামারিদের সম্ভাবনা তুলে ধরতেই কটিয়াদীকে জাতীয় আয়োজনের জন্য বেছে নেওয়া হয়েছে।
রোববার (২৬ জুলাই) সন্ধ্যায় প্রধানমন্ত্রীর সফর উপলক্ষে সার্বিক প্রস্তুতি ও করণীয় নির্ধারণে জেলা প্রশাসনের উদ্যোগে আয়োজিত মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
সালাউদ্দিন টুকু বলেন, জাতীয় মৎস্য পক্ষ উপলক্ষে প্রতিবছর দেশের সেরা মৎস্য উদ্যোক্তা ও খামারিদের স্বর্ণপদক দেওয়া হয়। এতদিন ঢাকার বাংলাদেশ-চীন মৈত্রী সম্মেলন কেন্দ্রে এ আয়োজন অনুষ্ঠিত হলেও এবার প্রধানমন্ত্রী এমন একটি এলাকায় অনুষ্ঠান আয়োজনের আগ্রহ প্রকাশ করেছেন, যেখানে মৎস্য উৎপাদন ও মৎস্য উদ্যোক্তাদের ব্যাপক উপস্থিতি রয়েছে।
দেশের বিভিন্ন জেলা পরিদর্শন ও সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে আলোচনা শেষে কিশোরগঞ্জের কটিয়াদীকে জাতীয় মৎস্য পক্ষের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানের জন্য চূড়ান্ত করা হয়েছে জানিয়ে প্রতিমন্ত্রী বলেন, নির্বাচনের পর এটি হবে প্রধানমন্ত্রীর প্রথম কিশোরগঞ্জ সফর। একই সঙ্গে ঢাকার বাইরে জাতীয় মৎস্য পক্ষের মতো এমন জাতীয় আয়োজনও এবারই প্রথম।
তিনি বলেন, ‘বাংলাদেশের মোট মৎস্য উৎপাদনের প্রায় ৪০ শতাংশ বৃহত্তর ময়মনসিংহ অঞ্চলে হয়। তাই জাতীয় পর্যায়ে নির্বাচিত মৎস্য উদ্যোক্তা ও খামারিদের কাছে এ অঞ্চলের সম্ভাবনা ও সফলতা তুলে ধরতেই কিশোরগঞ্জকে এ আয়োজনের জন্য বেছে নেওয়া হয়েছে।’
প্রতিমন্ত্রী বলেন, ‘এটি শুধু একটি অনুষ্ঠান নয়, কিশোরগঞ্জের জন্য একটি ঐতিহাসিক ও তাৎপর্যপূর্ণ আয়োজন। জাতীয় পর্যায়ের এই কর্মসূচি কিশোরগঞ্জে অনুষ্ঠিত হওয়ায় জেলার ভাবমূর্তি আরও উজ্জ্বল হবে।’
অনুষ্ঠানস্থল নির্ধারণে একাধিক স্থান পরিদর্শন করা হয়েছে জানিয়ে টুকু বলেন, সেখান থেকে একটি ভেন্যু প্রাথমিকভাবে নির্বাচন করা হয়েছে। জাতীয় স্বার্থ বিবেচনায় স্থানটি নির্বাচন করা হয়েছে, কোনো ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের স্বার্থে নয়।
জাতীয় মৎস্য পক্ষের মূল লক্ষ্য মৎস্যশিল্পের উন্নয়ন, উৎপাদন বৃদ্ধি এবং খামারিদের উৎসাহিত করা উল্লেখ করে তিনি বলেন, এ আয়োজন সফল করতে প্রশাসন, জনপ্রতিনিধি ও জেলার সর্বস্তরের মানুষের সহযোগিতা প্রয়োজন।
প্রতিমন্ত্রী জানান, প্রধানমন্ত্রী কটিয়াদীতে জাতীয় মৎস্য পক্ষের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে যোগ দেওয়ার পাশাপাশি কিশোরগঞ্জ সদরেও পৃথক কর্মসূচিতে অংশ নেবেন। এ উপলক্ষে স্থানীয় সংসদ সদস্য, জেলা প্রশাসন ও সংশ্লিষ্ট সব পক্ষকে সমন্বিতভাবে প্রস্তুতি নেওয়ার আহ্বান জানান তিনি।
মতবিনিময় সভায় পাট ও বস্ত্র প্রতিমন্ত্রী মো. শরীফুল আলম, কিশোরগঞ্জ-১ আসনের সংসদ সদস্য মো. মাজহারুল ইসলাম, কিশোরগঞ্জ-২ আসনের সংসদ সদস্য অ্যাডভোকেট মো. জালাল উদ্দিন, জেলা প্রশাসক সোহানা নাসরিন, জেলা পুলিশ সুপার মোহাম্মদ মিজানুর রহমান, জেলা প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, বিভিন্ন সরকারি দপ্তরের প্রতিনিধি এবং সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা উপস্থিত ছিলেন।

সর্বশেষ খবর পেতে রুপালী বাংলাদেশের গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন