আগামী মৌসুমে হাওর অঞ্চলের কৃষকদের জন্য নতুন উদ্ভাবিত ব্রি-১১৮ জাতের ধানের ৩০ টন বীজ সরবরাহ করা হবে বলে জানিয়েছেন কৃষি এবং মৎস্য ও প্রাণিসম্পদমন্ত্রী মোহাম্মদ আমিন উর রশিদ। তিনি বলেন, আগাম বন্যাপ্রবণ হাওর এলাকার কথা বিবেচনায় রেখেই এ জাতটি উদ্ভাবন করা হয়েছে। এর ফলে কৃষকরা আগের তুলনায় আরও আগে ধান কাটতে পারবেন এবং বর্ষা ও আগাম বন্যা শুরুর আগেই ফসল ঘরে তুলতে সক্ষম হবেন।
মঙ্গলবার গাজীপুরের জয়দেবপুরে কৃষি মন্ত্রণালয়ের আওতাধীন বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের কার্যক্রম পরিদর্শন শেষে সাংবাদিকদের ব্রিফিংয়ে তিনি এ কথা বলেন।
কৃষিমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশে মৌসুমি বন্যা একটি বাস্তবতা। বিশেষ করে হাওর অঞ্চলে প্রায় প্রতি বছরই আগাম বন্যার কারণে কৃষকরা ফসলহানির শিকার হন। এ সমস্যা সমাধানে গবেষকদের নির্দেশনা দেওয়া হয়েছিল হাওর উপযোগী স্বল্পমেয়াদি ধানের জাত উদ্ভাবনের জন্য। সেই ধারাবাহিকতায় ব্রি-১১৮ জাতটি উদ্ভাবিত হয়েছে এবং আগামী মৌসুমেই কৃষকদের মধ্যে এর ৩০ টন বীজ বিতরণ করা হবে।
তিনি বলেন, দেশের খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে গবেষণার বিকল্প নেই। গবেষণা শুধু গবেষণার জন্য নয়, মানুষের প্রয়োজন ও সময়ের চাহিদা অনুযায়ী হতে হবে। ইতোমধ্যে দেশের কৃষি গবেষণা প্রতিষ্ঠানগুলো কৃষকের উপকারে আসে—এমন অনেক নতুন জাত ও প্রযুক্তি উদ্ভাবন করেছে। আগামী বাজেটগুলোতে গবেষণা খাতে বরাদ্দকে আরও অগ্রাধিকার দেওয়া হবে।
এ সময় কৃষি সচিব ড. রফিকুল ই মোহামেদ উপস্থিত ছিলেন। পরে কৃষিমন্ত্রী বাংলাদেশ কৃষি গবেষণা ইনস্টিটিউট, বাংলাদেশ ধান গবেষণা ইনস্টিটিউট, গাজীপুর কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়, জাতীয় কৃষি প্রশিক্ষণ ইনস্টিটিউট এবং বীজ প্রত্যয়ন এজেন্সিসহ কৃষি-সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের কার্যক্রম পরিদর্শন করেন।

সর্বশেষ খবর পেতে রুপালী বাংলাদেশের গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন