মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের মাননীয় উপদেষ্টা ফরিদা আখতার বলেছেন, তামাক নিয়ন্ত্রণ আইন সংশোধনে তামাক কোম্পানিকে কোনোভাবেই স্টেকহোল্ডার হিসেবে রাখা যাবে না। সরকার জনস্বার্থবিরোধী কোনো সিদ্ধান্ত নেবে না।
তিনি অভিযোগ করেন, তামাক কোম্পানির নানা কূটকৌশলের কারণেই আইন সংশোধন এতদিন বিলম্বিত হয়েছে। আর দেরি করার সুযোগ নেই। তরুণদের উদ্দেশে তিনি বলেন, যেমনভাবে তারা বাংলাদেশ থেকে ফ্যাসিবাদকে বিদায় করেছে, তেমনি তামাককেও নির্মূল করতে হবে।
বুধবার (২৪ সেপ্টেম্বর) রাজধানীর সিরডাপ মিলনায়তনে ডেভেলপমেন্ট অর্গানাইজেশন অব দ্য রুরাল পুওর (ডর্প) আয়োজিত এক আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। ‘জনস্বাস্থ্য সুরক্ষায় তামাক নিয়ন্ত্রণ আইনের প্রস্তাবিত সংশোধনী দ্রুত পাশ’ শীর্ষক এই সভায় জনস্বাস্থ্য সুরক্ষার স্বার্থে আইন দ্রুত সংশোধনের দাবি জানানো হয়।
সভায় স্বাগত বক্তব্য দেন ডর্প-এর প্রতিষ্ঠাতা ও প্রধান নির্বাহী এএইচএম নোমান। মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন প্রকল্প সমন্বয়কারী জেবা আফরোজা। তিনি উপস্থাপনায় ডব্লিউএইচও এফসিটিসির (ফ্রেমওয়ার্ক কনভেনশন অন টোব্যাকো কন্ট্রোল) সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে ছয়টি প্রস্তাব তুলে ধরেন। এর মধ্যে রয়েছে—পাবলিক প্লেস ও পরিবহনে ধূমপানের জন্য নির্ধারিত স্থান বাতিল, বিক্রয়কেন্দ্রে তামাকপণ্যের প্রদর্শন নিষিদ্ধ, তামাক কোম্পানির সিএসআর কার্যক্রম বন্ধ, ই-সিগারেটের ক্ষতি থেকে তরুণদের সুরক্ষা, খুচরা ও খোলা বিক্রয় নিষিদ্ধকরণ এবং সচিত্র স্বাস্থ্য সতর্কবার্তার আকার ৫০ শতাংশ থেকে বাড়িয়ে ৯০ শতাংশ করা।
বিশেষ অতিথির বক্তব্যে জাতীয় তামাক নিয়ন্ত্রণ সেলের মহাপরিচালক মো. আখতারউজ-জামান বলেন, প্রতিবছর বাংলাদেশে তামাকজনিত কারণে ১ লাখ ৬১ হাজার মানুষ মারা যায়, গড়ে প্রতিদিন ৪৪২ জন। কিন্তু তামাক কোম্পানিগুলো দাবি করছে আইন সংশোধন হলে সরকারের রাজস্ব কমবে। বাস্তবে তা ভুল। ২০০৫ সালে আইন প্রণয়ন ও ২০১৩ সালে সংশোধনের পর রাজস্ব আয় বেড়েছে সাড়ে ১২ গুণ এবং ২০০৯ থেকে ২০১৭ সালের মধ্যে তামাক ব্যবহার ১৮ শতাংশ কমেছে।
বাংলাদেশ ক্যান্সার সোসাইটির সভাপতি অধ্যাপক ডা. গোলাম মহিউদ্দিন ফারুক বলেন, গত জুলাইয়ে গঠিত উপদেষ্টা কমিটি টোব্যাকো ইন্ডাস্ট্রির প্রতিনিধিদের আলোচনায় আমন্ত্রণ জানানোর যে সিদ্ধান্ত নিয়েছিল, তা জনস্বাস্থ্য ও আইনগত দিক থেকে গুরুতর উদ্বেগ তৈরি করেছে। এটি এফসিটিসি ৫.৩ অনুচ্ছেদের লঙ্ঘন।
এনডিসি সদস্য ও সাবেক সচিব মুন্সী আলাউদ্দীন আল আজাদ বলেন, মাননীয় প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস ইতিমধ্যেই সতর্ক করেছেন যে, তরুণ সমাজকে সচেতন না করা গেলে আগামী প্রজন্ম বিপন্ন হবে। তাই সংশোধন প্রক্রিয়ায় জনস্বাস্থ্যকে সর্বাধিক গুরুত্ব দিতে হবে, টোব্যাকো ইন্ডাস্ট্রির স্বার্থকে নয়।
সভায় তামাকবিরোধী তরুণ প্রতিনিধি আয়েশা আকতার শিল্পী ও নাইমুর রহমান ইমন বলেন, টোব্যাকো ইন্ডাস্ট্রির মতামত নিয়ে সময় নষ্ট না করে প্রস্তাবিত সংশোধনী দ্রুত পাশ করতে হবে।



সর্বশেষ খবর পেতে রুপালী বাংলাদেশের গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন