ঢাকা মঙ্গলবার, ২৩ জুন, ২০২৬

হরমুজ প্রণালি পাড়ি দিল বিএসসির ‘এমভি বাংলার জয়যাত্রা’

চট্টগ্রাম ব্যুরো
প্রকাশিত: জুন ২৩, ২০২৬, ১০:৫৩ এএম
ছবি- রূপালী বাংলাদেশ

মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধ পরিস্থিতি ও দীর্ঘ অচলাবস্থা কাটিয়ে বাংলাদেশ শিপিং করপোরেশনের (বিএসসি) মালিকানাধীন কার্গো জাহাজ ‘এমভি বাংলার জয়যাত্রা’ সফলভাবে হরমুজ প্রণালি অতিক্রম করেছে। জাহাজটিতে থাকা ৩১ জন বাংলাদেশি নাবিক ও ক্রু সদস্য সবাই নিরাপদ ও সুস্থ রয়েছেন।

বিএসসি জানিয়েছে, ২০১৮ সালে নির্মিত ৩৮ হাজার ৮৯৪ ডেডওয়েট টন (ডিডব্লিউটি) ধারণক্ষমতার বাল্ক ক্যারিয়ার জাহাজটি বর্তমানে সংযুক্ত আরব আমিরাতের ফুজাইরা বন্দরের জলসীমার দিকে এগিয়ে যাচ্ছে। সেখানে প্রয়োজনীয় ক্লিয়ারেন্স ও বাংকারিং কার্যক্রম সম্পন্ন করা হবে।

সিঙ্গাপুরভিত্তিক একটি চার্টারারের অধীনে চলতি বছরের ২৬ জানুয়ারি জাহাজটি মধ্যপ্রাচ্যের জলসীমায় প্রবেশ করে। কাতারের মেসাইদ বন্দর থেকে প্রায় ৩৯ হাজার টন স্টিল কয়েল নিয়ে সংযুক্ত আরব আমিরাতের জেবেল আলী বন্দরে পৌঁছায়। তবে সেখানে অবস্থানকালে ২৮ ফেব্রুয়ারি অঞ্চলটিতে সামরিক সংঘাত শুরু হলে জাহাজটির কার্যক্রম অনিশ্চয়তার মুখে পড়ে। প্রতিকূল পরিস্থিতির মধ্যেও ১১ মার্চ কার্গো খালাস সম্পন্ন করা হয়।

পরে বিএসসির নতুন বাণিজ্যিক পরিকল্পনা অনুযায়ী, জাহাজটিকে সৌদি আরবের রাস আল খায়ের বন্দরে পাঠানো হয়। সেখান থেকে প্রায় ৩৭ হাজার টন সার নিয়ে দক্ষিণ আফ্রিকার কেপটাউন ও ডারবান বন্দরের উদ্দেশে যাত্রার প্রস্তুতি নেয় জাহাজটি। তবে হরমুজ প্রণালির অস্থিতিশীল পরিস্থিতির কারণে জাহাজটি দীর্ঘ সময় আটকে পড়ে। গত ১৮ এপ্রিল নিরাপত্তাজনিত কারণে ইরান নৌবাহিনী জাহাজটির ট্রানজিট অনুমতি প্রত্যাখ্যান করলে অচলাবস্থা আরও দীর্ঘ হয়।

বিএসসির দাবি, সংকটকালেও জাহাজটি এক দিনের জন্যও ‘অফ-হায়ার’ অবস্থায় যায়নি। ফলে নিয়মিত ভাড়া প্রাপ্তি অব্যাহত ছিল।

দীর্ঘ সময় অবরুদ্ধ অবস্থায় থাকা ৩১ জন বাংলাদেশি নাবিকের জন্য খাবার, সুপেয় পানি, জ্বালানি ও অন্যান্য প্রয়োজনীয় রসদের সরবরাহ নিশ্চিত করা হয়। পাশাপাশি বিশেষ মিল অ্যালাউন্স, ঈদ বোনাস ও ‘ওয়ার ওয়েজ’ দেওয়ার মাধ্যমে তাদের মনোবল ধরে রাখা হয়।

বিএসসি জানায়, সরকারের উচ্চ পর্যায়ের দিকনির্দেশনা, নৌপরিবহন মন্ত্রণালয়ের তদারকি এবং জাহাজের ক্যাপ্টেন, চিফ ইঞ্জিনিয়ারসহ পুরো ক্রুদের সাহস ও সমন্বিত প্রচেষ্টার ফলেই জটিল এই পরিস্থিতি সফলভাবে মোকাবিলা করা সম্ভব হয়েছে।

সংস্থাটির মতে, রাষ্ট্র, মন্ত্রণালয় ও একটি রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানের সমন্বিত উদ্যোগে আন্তর্জাতিক সংকট মোকাবিলার এ ঘটনা বিশ্ব মেরিটাইম খাতে একটি উল্লেখযোগ্য ‘কেস স্টাডি’ হিসেবে বিবেচিত হতে পারে।