বাংলাদেশে একের পর এক ছোট ও মাঝারি মাত্রার ভূমিকম্প বড় ধরনের ভূমিকম্পের আশঙ্কা বাড়াচ্ছে বলে মনে করছেন ভূতত্ত্ববিদরা। ঐতিহাসিক ভূমিকম্পের তথ্য, ভূগর্ভে জমে থাকা শক্তি এবং সাম্প্রতিক কম্পনের সংখ্যা বৃদ্ধির কারণে বিশেষজ্ঞরা বলছেন, বাংলাদেশে ৮ মাত্রা বা তার বেশি শক্তিশালী ভূমিকম্পের ঝুঁকি রয়েছে।
আজ সোমবার (২২ জুন) ৪ মাত্রার একটি ভূমিকম্প অনুভূত হয়েছে। যার উৎপত্তিস্থল ছিল নারায়ণগঞ্জ। এই ঘটনা আবারও দেশের ভূমিকম্পের ঝুঁকিকে সামনে এনেছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, বাংলাদেশে ৭ বা তার বেশি মাত্রার ভূমিকম্পের পুনরাবৃত্তির সময় ঘনিয়ে এসেছে। একই সঙ্গে ৮ মাত্রার ভূমিকম্পের শক্তিও দীর্ঘদিন ধরে জমা রয়েছে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
বাংলাদেশ ও আশপাশের অঞ্চলে অতীতে কয়েকটি বড় ভূমিকম্প হয়েছে। ১৭৬২ সালের গ্রেট আরাকান ভূমিকম্পের মাত্রা ছিল প্রায় ৮ দশমিক ৫। ১৮৯৭ সালে আসামে ৮ দশমিক ৭ মাত্রার ভূমিকম্প হয়। এছাড়া ১৯১৮ সালে সিলেট এবং ১৯৩০ সালে আসামে বড় ধরনের ভূমিকম্পের ঘটনা রয়েছে।
ভূতত্ত্ববিদরা বলছেন, চট্টগ্রাম থেকে সিলেট পর্যন্ত অঞ্চলে দীর্ঘ সময় ধরে বড় ভূমিকম্প না হওয়ায় সেখানে ভূগর্ভে শক্তি জমা হয়েছে। এই শক্তি একবারে বা ধাপে ধাপে বের হয়ে বড় বিপর্যয় ঘটাতে পারে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, সবচেয়ে বেশি ঝুঁকিতে রয়েছে ঢাকা, চট্টগ্রাম, সিলেট, ময়মনসিংহ ও রংপুর অঞ্চল। বিশেষ করে ঢাকার ঘনবসতি, সরু রাস্তা এবং দুর্বল ভবন বড় ক্ষতির কারণ হতে পারে।
ইনস্টিটিউট ফর প্ল্যানিং অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট (আইপিডি) জানিয়েছে, নির্মাণবিধি না মেনে তৈরি হওয়া অনেক ভবন ভূমিকম্পের সময় ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে। দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বড় মাত্রার ভূমিকম্প হলে দেশের প্রায় ৬ কোটি ১২ লাখ মানুষ ক্ষতির মুখে পড়তে পারেন।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ভূমিকম্প মোকাবিলায় সবচেয়ে জরুরি হলো ভূমিকম্প-সহনশীল ভবন নির্মাণ, পুরোনো ঝুঁকিপূর্ণ ভবন পরীক্ষা, নিয়মিত মহড়া এবং উদ্ধার ব্যবস্থার উন্নয়ন। কারণ ভূমিকম্পের আগাম সতর্কবার্তা পাওয়া যায় না, তাই প্রস্তুতিই বড় সুরক্ষা।

