ইরানের তেল খাতের ওপর আরোপিত কিছু নিষেধাজ্ঞা সাময়িকভাবে শিথিল করেছে যুক্তরাষ্ট্র। আগামী ২১ আগস্ট পর্যন্ত অপরিশোধিত তেল ও সংশ্লিষ্ট পেট্রোলিয়াম পণ্য উৎপাদন, বিক্রি এবং পরিবহন করতে পারবে দেশটি। তেহরানের সঙ্গে চলমান কূটনৈতিক আলোচনাকে এগিয়ে নিতে এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছে ওয়াশিংটন।
সোমবার (২২ জুন) মার্কিন প্রশাসন এ ঘোষণা দেয়।
মার্কিন ট্রেজারি ডিপার্টমেন্টের জারি করা এক সাধারণ লাইসেন্স অনুযায়ী, ইরানে উৎপাদিত অপরিশোধিত তেলের উৎপাদন, বিক্রি ও পরিবহনসংক্রান্ত মার্কিন নিষেধাজ্ঞার আওতায় পূর্বে নিষিদ্ধ থাকা ‘সব ধরনের লেনদেন’ ২০২৬ সালের ২১ আগস্ট, ইস্টার্ন ডেলাইট টাইম (ইডিটি) অনুযায়ী রাত ১২টা ১ মিনিট পর্যন্ত অনুমোদিত থাকবে।
মার্কিন ট্রেজারি সেক্রেটারি স্কট বেসেন্ট বলেন, চলমান আলোচনার সময় ইরানের দেওয়া কিছু প্রতিশ্রুতির পরিপ্রেক্ষিতে এই অস্থায়ী নিষেধাজ্ঞা শিথিল করা হয়েছে। এসব প্রতিশ্রুতির মধ্যে রয়েছে হরমুজ প্রণালি দিয়ে ‘মুক্ত ও অবাধ নৌযাতায়াত’ নিশ্চিত করা এবং আন্তর্জাতিক পরমাণু শক্তি সংস্থার (IAEA) পরিদর্শকদের পুনরায় ইরানে প্রবেশের অনুমতি দেওয়া।
এই পদক্ষেপটি গত সপ্তাহে তেহরান ও ওয়াশিংটনের মধ্যে স্বাক্ষরিত একটি সমঝোতা স্মারকের পর নেওয়া হয়েছে। প্রায় ৪০ দিনের সংঘাতের অবসান ঘটে একটি ভঙ্গুর যুদ্ধবিরতির মাধ্যমে, যার পরিপ্রেক্ষিতে ওই সমঝোতা স্মারক আলোচনার কাঠামো তৈরি করে। উভয় পক্ষের কর্মকর্তারা সুইজারল্যান্ডে ৬০ দিনের কারিগরি আলোচনা শুরু করতে সম্মত হয়েছেন, যার লক্ষ্য একটি দীর্ঘমেয়াদি চুক্তিতে পৌঁছানো।
তবে কূটনৈতিক অগ্রগতি সত্ত্বেও, ইরান ইঙ্গিত দিয়েছে যে পারমাণবিক ইস্যুতে এখনো উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি হয়নি। দেশটির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ইসমাইল বাকাই সোমবার বলেন, পারমাণবিক বিষয়ে এখন পর্যন্ত কেবল “অত্যন্ত সংক্ষিপ্ত আলোচনা” হয়েছে এবং কোনো বিস্তারিত আলোচনা অনুষ্ঠিত হয়নি।
এদিকে, আঞ্চলিক উত্তেজনা কূটনৈতিক প্রক্রিয়ার জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে রয়েছে। সাম্প্রতিক সপ্তাহগুলোতে লেবাননে ইসরায়েল ও ইরান-সমর্থিত হিজবুল্লাহর মধ্যে সংঘর্ষ যুদ্ধবিরতিকে হুমকির মুখে ফেলেছিল। তবে রোববার থেকে পরিস্থিতি তুলনামূলকভাবে শান্ত রয়েছে।
ইসরায়েলি কর্মকর্তারা যুক্তরাষ্ট্র-ইরান সমঝোতা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। তাদের মতে, ইসরায়েলি বাহিনী দক্ষিণ লেবাননে মোতায়েন থাকবে এবং যেকোনো সম্ভাব্য নিরাপত্তা হুমকির জবাব দেওয়ার স্বাধীনতা বজায় রাখবে।
অন্যদিকে, মধ্যস্থতাকারীরা জানিয়েছেন, তেহরান ও ওয়াশিংটন লেবাননের যুদ্ধবিরতি বজায় রাখা এবং বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালী দিয়ে নিরবচ্ছিন্ন নৌচলাচল নিশ্চিত করার লক্ষ্যে সরাসরি যোগাযোগের চ্যানেল স্থাপন করেছে।

