ঢাকা মঙ্গলবার, ২৩ জুন, ২০২৬

জব্দ করা সম্পদ ফেরত পেতে ইরানকে যে শর্ত দিল যুক্তরাষ্ট্র

রূপালী প্রতিবেদক
প্রকাশিত: জুন ২২, ২০২৬, ১০:৪১ পিএম
ছবি: সংগৃহীত

ইরানের দীর্ঘদিন ধরে জব্দ থাকা সম্পদ অবমুক্ত করার বিষয়ে নতুন একটি শর্তভিত্তিক প্রস্তাব সামনে এনেছে যুক্তরাষ্ট্র। ওয়াশিংটনের পরিকল্পনা অনুযায়ী, মুক্ত করা অর্থের উল্লেখযোগ্য অংশ ব্যয় করতে হবে যুক্তরাষ্ট্র থেকে সয়াবিন, ভুট্টা ও গম আমদানির কাজে।

সুইজারল্যান্ডের বার্গেনস্টক রিসোর্টে অনুষ্ঠিত ইরান-যুক্তরাষ্ট্র উচ্চপর্যায়ের বৈঠকের পর এক সংবাদ সম্মেলনে এ বিষয়ে বিস্তারিত তুলে ধরেন মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স।

ভ্যান্স জানান, অবমুক্ত অর্থ যেন সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড বা বিতর্কিত খাতে ব্যবহৃত না হয়ে মানবিক প্রয়োজন ও জনকল্যাণমূলক কাজে ব্যয় হয়, সে জন্য যুক্তরাষ্ট্র ও কাতার যৌথ তদারকি কাঠামো গড়ে তোলার উদ্যোগ নিয়েছে। এই ব্যবস্থার আওতায় ইরানের মুক্ত হওয়া তহবিলের ব্যবহার ও অনুমোদন প্রক্রিয়া দুই দেশের যৌথ নজরদারিতে পরিচালিত হবে।

তিনি আরও বলেন, প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের ঘনিষ্ঠ সহযোগী ও জামাতা জ্যারেড কুশনার কাতারের সঙ্গে সমন্বয় করে একটি প্রস্তাবনা প্রস্তুত করছেন। পরিকল্পনাটি বাস্তবায়িত হলে অবমুক্ত অর্থের বড় অংশ মার্কিন কৃষিপণ্য বিশেষত সয়াবিন, ভুট্টা ও গম ক্রয়ে ব্যবহৃত হবে, যা ইরানের খাদ্য নিরাপত্তা জোরদারে সহায়ক হবে বলে দাবি ওয়াশিংটনের।

ভ্যান্স এই প্রস্তাবকে ‘ট্রাম্প-ধাঁচের সমঝোতা’ হিসেবে উল্লেখ করে বলেন, এর মাধ্যমে একই সঙ্গে দুই পক্ষই লাভবান হতে পারে। একদিকে মার্কিন কৃষিপণ্যের রপ্তানি বৃদ্ধি পাবে, অন্যদিকে ইরানের সাধারণ মানুষ প্রয়োজনীয় খাদ্যসামগ্রী পাওয়ার সুযোগ পাবে। তার মতে, এ উদ্যোগ মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্রের নিরাপত্তা ও কৌশলগত অবস্থানকেও শক্তিশালী করতে সহায়তা করবে।

ইরানের সম্পদ ছাড়ের বিষয়টি নিয়ে আন্তর্জাতিক মহলে যে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে, তা অনেকাংশেই বিভ্রান্তিকর তথ্যের কারণে সৃষ্টি হয়েছে বলেও দাবি করেন তিনি। ভ্যান্সের ভাষ্য, আলোচনা প্রক্রিয়ার প্রতিটি ধাপে যুক্তরাষ্ট্র তার আঞ্চলিক মিত্রদের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ যোগাযোগ বজায় রেখেছে। এ বিষয়ে ইসরাইল, সৌদি আরব, সংযুক্ত আরব আমিরাত ও লেবাননের কর্মকর্তাদের সঙ্গেও আলোচনা হয়েছে বলে জানান তিনি।

মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্টের মতে, এটি কেবল যুক্তরাষ্ট্রের একক উদ্যোগ নয়; বরং মধ্যপ্রাচ্যের অনেক দেশ দীর্ঘদিন ধরেই আঞ্চলিক উত্তেজনা কমাতে কূটনৈতিক সমাধানের পক্ষে অবস্থান নিয়ে আসছে। বিশেষ করে পারস্য উপসাগরীয় অঞ্চলের দেশগুলো সাম্প্রতিক ইরান-সংক্রান্ত উত্তেজনা এবং হরমুজ প্রণালিকে ঘিরে জ্বালানি সরবরাহের অনিশ্চয়তার প্রেক্ষাপটে এমন উদ্যোগকে ইতিবাচকভাবে দেখছে।

তবে ইসরাইলের পক্ষ থেকে ইরানের প্রতি কোনো ধরনের আর্থিক বা কূটনৈতিক ছাড় দেওয়ার বিষয়ে উদ্বেগ প্রকাশ অব্যাহত রয়েছে।

সামগ্রিক পরিস্থিতি নিয়ে ভ্যান্স বলেন, প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প মধ্যপ্রাচ্যে দীর্ঘস্থায়ী স্থিতিশীলতা ও শান্তির পরিবেশ গড়ে তুলতে আগ্রহী। সে লক্ষ্যেই যুক্তরাষ্ট্র কূটনৈতিক পথ অনুসরণ করছে। তবে আলোচনায় অগ্রগতি না হলে জাতীয় নিরাপত্তা রক্ষায় ওয়াশিংটনের হাতে অন্য বিকল্পও খোলা থাকবে। বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্র শান্তিপূর্ণ সমাধানের প্রচেষ্টাকেই অগ্রাধিকার দিচ্ছে।