ঢাকা সোমবার, ২২ জুন, ২০২৬

পৃথিবীর শেষদিন কবে, বাবা ভাঙ্গার ভবিষ্যদ্বাণী বলছে যা

বিশ্ব ডেস্ক
প্রকাশিত: জুন ২২, ২০২৬, ০৪:০২ পিএম
ছবি : সংগৃহীত

রহস্যময় ভবিষ্যদ্বক্তা হিসেবে পরিচিত বাবা ভাঙ্গার একটি পুরোনো ভবিষ্যদ্বাণী নতুন করে আলোচনায় এসেছে। এতে দাবি করা হয়, ৫০৭৯ সালে মানবসভ্যতার সমাপ্তি ঘটবে। তবে এই দাবির কোনো বৈজ্ঞানিক ভিত্তি নেই বলে জানিয়েছেন গবেষকরা।

বাবা ভাঙ্গা, যার প্রকৃত নাম ভ্যাঞ্জেলিয়া পানদেভা গুশতেরোভা, ছিলেন বুলগেরিয়ার এক অন্ধ নারী। সমর্থকদের মতে, তিনি ভবিষ্যতের নানা ঘটনা পূর্বাভাস দিতে পারতেন। তার নামে সোভিয়েত ইউনিয়নের পতন, ২০০১ সালের সন্ত্রাসী হামলা, বিভিন্ন প্রাকৃতিক দুর্যোগসহ বহু ঘটনার ভবিষ্যদ্বাণী প্রচলিত রয়েছে।

তবে ইতিহাসবিদদের মতে, এসব দাবির বড় অংশই পরবর্তীতে তৈরি হয়েছে বা যথাযথ নথিপত্রের অভাবে যাচাই করা সম্ভব নয়। জনশ্রুতি অনুযায়ী, বাবা ভাঙ্গা মানবজাতির ভবিষ্যৎ নিয়ে একটি দীর্ঘ সময়রেখার কথা বলেছিলেন।

সেই ধারাবাহিকতায় বিভিন্ন শতাব্দীতে যুদ্ধ, জলবায়ু পরিবর্তন, প্রযুক্তিগত অগ্রগতি, মহাকাশে মানুষের বিস্তার এবং ভিনগ্রহের প্রাণীর সঙ্গে সম্ভাব্য যোগাযোগের মতো ঘটনার উল্লেখ রয়েছে। সেই তালিকার শেষেই ৫০৭৯ সালে মানবসভ্যতার অবসানের কথা বলা হয়।

তবে বিজ্ঞানীরা এই ধরনের ভবিষ্যদ্বাণীকে বিশ্বাসযোগ্য বলে মনে করেন না। জ্যোতির্বিজ্ঞানী, ভূবিজ্ঞানী এবং জলবায়ু বিশেষজ্ঞদের মতে, নির্দিষ্ট কোনো বছরে পৃথিবীর সমাপ্তি ঘটবে—এমন দাবির পক্ষে কোনো বৈজ্ঞানিক প্রমাণ নেই।

বিশেষজ্ঞরা আরও বলেন, মানবসভ্যতার ভবিষ্যৎ নির্ভর করবে জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবিলা, প্রাকৃতিক সম্পদের সঠিক ব্যবহার, প্রযুক্তির দায়িত্বশীল প্রয়োগ এবং আন্তর্জাতিক সহযোগিতার ওপর।

অতীতেও ২০০০ সাল, ২০১২ সালসহ বিভিন্ন সময়কে ঘিরে পৃথিবীর শেষ হওয়ার দাবি করা হলেও সেগুলো বাস্তবে সত্য প্রমাণিত হয়নি। তাই বাবা ভাঙ্গার ৫০৭৯ সালের ভবিষ্যদ্বাণীকে অনেকেই লোকবিশ্বাস বা সাংস্কৃতিক কৌতূহল হিসেবেই দেখার পরামর্শ দিচ্ছেন।

বিশেষজ্ঞদের মতে, ভবিষ্যৎ নিয়ে মানুষের আগ্রহ থেকেই এ ধরনের ভবিষ্যদ্বাণী জনপ্রিয়তা পায়। তবে যাচাইযোগ্য বৈজ্ঞানিক প্রমাণ ছাড়া এগুলোকে নিশ্চিত সত্য হিসেবে গ্রহণ করা উচিত নয়।