ঢাকা সোমবার, ২২ জুন, ২০২৬

ভারী বৃষ্টির পূর্বাভাস, যেসব অঞ্চলে হতে পারে বন্যা

রূপালী প্রতিবেদক
প্রকাশিত: জুন ২২, ২০২৬, ০৪:৪৫ পিএম
ছবি : সংগৃহীত

দেশজুড়ে চলছে বৃষ্টির মৌসুম। টানা বৃষ্টিতে দেশের উত্তর ও উত্তর-পূর্বাঞ্চলের বিভিন্ন নদ-নদীর পানি দ্রুত বাড়ছে। এছাড়াও উজান থেকে আসছে পাহাড়ি ঢল।  এত করে- সুনামগঞ্জ, লালমনিরহাট ও কুড়িগ্রামে পরিস্থিতি আরও উদ্বেগজনক হয়ে উঠছে। কোথাও কোথাও নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হতে শুরু করেছে এবং ফসলি জমি তলিয়ে যাচ্ছে। পাশাপাশি কিছু এলাকায় নদীভাঙনের ঘটনাও দেখা দিয়েছে। বার্তা সংস্থা ইউএনবি এই তথ্য জানিয়েছে।

বাংলাদেশ পানি উন্নয়ন বোর্ড (পাউবো) জানিয়েছে, আগামী ৪৮ থেকে ৭২ ঘণ্টায় দেশের উত্তর ও উত্তর-পূর্বাঞ্চলে ভারী থেকে অতিভারী বৃষ্টিপাতের সম্ভাবনা রয়েছে। এতে নদ-নদীর পানি আরও বাড়তে পারে এবং কোথাও কোথাও বিপৎসীমা অতিক্রম করে স্বল্পমাত্রার বন্যা দেখা দিতে পারে।

সুনামগঞ্জ

সুনামগঞ্জে টানা বৃষ্টি ও উজানের ঢলে সুরমা, বৌলাই ও রক্তিসহ বিভিন্ন নদীর পানি বাড়ছে। পাউবোর তথ্য অনুযায়ী, গত ২৪ ঘণ্টায় শুধু সুরমা নদীর পানি ৬৪ সেন্টিমিটার বেড়েছে। তবে বর্তমানে তা এখনও বিপৎসীমার প্রায় ৬০ সেন্টিমিটার নিচ দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে।

পাউবো জানিয়েছে, সুনামগঞ্জ, সিলেট ও ভারতের মেঘালয় এলাকায় আগামী দুই দিনে ভারী বৃষ্টিপাত হতে পারে। এতে নদ-নদীর পানি দ্রুত বেড়ে বিপৎসীমার কাছাকাছি পৌঁছাতে বা কোথাও কোথাও অতিক্রম করতে পারে। ফলে নিম্নাঞ্চল সাময়িকভাবে প্লাবিত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।

লালমনিরহাট

লালমনিরহাটে তিস্তা নদীর পানি আশঙ্কাজনকভাবে বাড়ছে। তিস্তা ব্যারাজের ডালিয়া পয়েন্টে পানি বর্তমানে বিপৎসীমার মাত্র ১৫ সেন্টিমিটার নিচ দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে।

গত শনিবার থেকেই পানি বিপৎসীমার কাছাকাছি অবস্থানে রয়েছে। এতে নদীর ভাটির নিম্নাঞ্চলে বন্যার ঝুঁকি তৈরি হয়েছে। ইতোমধ্যে তিস্তার চরাঞ্চল ও নদীতীরবর্তী কিছু এলাকা পানিতে তলিয়ে যেতে শুরু করেছে।

স্থানীয় পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী সুনীল কুমার জানান, উজানের ঢল ও ভারী বৃষ্টিপাতের কারণে তিস্তা ও ধরলায় পানি বাড়ছে এবং পরিস্থিতি ওঠানামা করছে।

কুড়িগ্রাম

কুড়িগ্রামে দুধকুমার ও ব্রহ্মপুত্র নদের পানি বাড়ছে। তবে জেলার অন্যান্য নদ-নদীর পানি এখনও বিপৎসীমার নিচে রয়েছে।

পাউবো জানায়, ধরলা নদীর পানি স্থিতিশীল থাকলেও বিপৎসীমার ১.৯৮ মিটার নিচে রয়েছে। দুধকুমার নদীর পানি বিপৎসীমার ৯৯ সেন্টিমিটার নিচ দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। ব্রহ্মপুত্রের নুনখাওয়া ও চিলমারী পয়েন্টেও পানি বৃদ্ধি পেলেও তা এখনো বিপৎসীমার নিচে রয়েছে।

গত ২৪ ঘণ্টায় কুড়িগ্রাম ও আশপাশের এলাকায় ১৭ থেকে ৩০ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে।

কুড়িগ্রাম পাউবোর নির্বাহী প্রকৌশলী মো. রাকিবুল হাসান জানিয়েছেন, আগামী ৭২ ঘণ্টায় নদ-নদীর পানি আরও বাড়তে পারে এবং নিম্নাঞ্চলে স্বল্পমেয়াদী বন্যা পরিস্থিতি সৃষ্টি হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।